সেলফি তুলে ডুবন্ত সরকারকে বাচাঁনো যাবে না: হেলাল - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১২:৫৩, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

সেলফি তুলে ডুবন্ত সরকারকে বাচাঁনো যাবে না: হেলাল

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৩ ৯:৪৫ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৩ ৯:৪৫ অপরাহ্ণ

 

খুলনা প্রতিনিধি

সেলফি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করে যেভাবে ডুবন্ত সরকারকে বাচাঁনো যাবে না। ঠিক তেমনই গ্রেফতার করে, জেলে বন্দি রেখে লুটেরা সরকার ক্ষমতা টিকাতে পারবে না উল্লেখ করে বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেছেন, দেশের জনগণ আজ ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে জেগে উঠেছে। অবৈধ সরকারকে বিদায় করেই জনগণ ঘরে ফিরবে। গায়েবি মামলা দিয়ে-গায়েবি ভোটার তৈরি করে অথবা অন্য কোনো অপকৌশলে তারা আর ক্ষমতায় যেতে পারবে না।

সোমবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৪টায় কেডি ঘোষ রোডস্থ বিএনপি কার্যালয়ের সামনে বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ১১ নেতার মুক্তির দাবিতে খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি পুলিশ প্রশাসনকে হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘নিশিরাতের অবৈধ সরকারের পক্ষ নিয়ে জনগনের বিপক্ষে অবস্থান করলে পরিণাম শুভ হবে না। সবকিছুই বিএনপি মনে রাখবে। কয়রা-পাইকগাছা থেকে খুলনায় সমাবেশে যোগদান করতে আসার সময় নেতাকর্মীদের বাধা দেয়ায় নিন্দা জানিয়ে ভবিষতের জন্য আরও বেশি সর্তক হওয়ার জন্য পুলিশের প্রতি আহ্বান জানান। অন্যথায় যেকোনো পরিস্থির জন্য পুলিশ সদস্যরাই দায়ী থাকবেন। বিএনপির চলমান আন্দোলন অবৈধ তাবেদার লুটেরা সরকারের বিরুদ্ধে প্রশাসনের বিরুদ্ধে নয়। প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারি হয়ে যারা জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নিবেন তাদের বিচার এ দেশের মাটিতেই হবে।’

ধৈর্যের বাঁধ ভেঙ্গে গেছে উল্লেক করে প্রধান বক্তার বক্তব্যে যুবদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) শফিকুল ইসলাম মিল্টন বলেন, ‘যেকোনো মূল্যে এই ফ্যাসিস্ট সরকারকে পরাজিত করতে হবে। দেশের মানুষ আজ দল-মত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। সবাইকে আরো বেশি ঐক্যবদ্ধ হয়ে চলমান একদফার আন্দোলন সফল করে দানব সরকারকে পরাজিত করতে হবে।’

খুলনা কারাগারে বন্দিদের মুক্তি কার কাছে চাইবো উল্লেখ করে মিল্টন বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে এ দেশের মানুষের কোনো স্বাধীনতা থাকবে না। তাই তাদেরকে রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে বিদায় করতে হবে। অবৈধ সরকারের কোনো লজ্জা নেই, লজ্জা যদি থাকতো তবে নিজেরা হামলা করে বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে মামলা দিত না। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন করে এই ভয়াবহ দানব সরকারকে পরাজিত করতে হবে। হাসিনার পতন এখন সময়ের ব্যাপারমাত্র। আগামীর বাংলাদেশ খালেদা জিয়ার বাংলাদেশ। আগামীর বাংলাদেশ তারেক রহমানের বাংলাদেশ-বিএনপির বাংলাদেশ। যেখানেই বাধা আসবে সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।’

বিচারপতি তোমার বিচার করবে যারা আজ জেগেছে সেই জনতা উল্লেখ করে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল বলেন, ‘সারাদেশ আজ কারাগারে পরিণত হয়েছে। উচ্চ আদালতে জামিন নিয়ে নিম্ন আদালতে জামিনের জন্য হাজির হলে গণভবনের আদেশে অথবা অবৈধ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আদেশে জামিন বাতিল করা হচ্ছে। ছাত্রদল একটি মানবিক রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠন। ছাত্রদল সবসময়ই দমন-নিপিড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার। সম্প্রতি পুলিশ ছাত্রলীগ নামধারী সন্ত্রাসীদের পিটিয়েছে। যদিও ছাত্রলীগ সন্ত্রাসী তবুও পুলিশি নির্যাতনের বিপক্ষে ছাত্রদল অবস্থান নিয়েছে। আগামীতেও সকল নিপিড়নের বিরুদ্ধে সজাগ থাকবে। তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, খুলনার কারাবন্দি ১১ নেতাকর্মীসহ সকল রাজবন্দিদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন।’

মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাড. শফিকুল আলম মনার সভাপতিত্বে এবং মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব শফিকুল আলম তুহিন ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মনিরুল হাসান বাপ্পীর পরিচালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আমীর এজাজ খান, সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা নার্গিস আলী, আবু হোসেন বাবু, খান জুলফিকার আলী জুলু, স ম আব্দুর রহমান, সাইফুর রহমান, এস এ রহমান, অ্যাড. নুরুল হাসান রুবা, মোল্লা খায়রুল ইসলাম, মাহমুদা আলী, মো. রকিব মল্লিক, শের আলম সান্টু, মোস্তফাউল বারী লাভলু, আবুল কালাম জিয়া, মোল্লা মোশাররফ রহমান, বদরুল আনাম খান, অধ্যাপক মনিরুল হক, শেখ তৈয়বুর রহমান, চৌধুরী শফিকুল ইসলাম হোসেন, একরামুল হক হেলাল, আশরাফুল আলম খান, শামসুল আলম পিন্টু, শেখ সাদি, হাসানুর রশিদ চৌধুরী মিরাজ, এনামুল হক স্বজল প্রমুখ।

বিকাল ৩টা থেকে বিভিন্ন থানা, উপজেলা, ওয়ার্ড বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান, কারাবন্দি নেতাদের ছবি সম্বলিত প্লাকার্ড নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান সহকারে কেডি ঘোষ রোডস্থ সভাস্থলে জমায়েত হতে থাকেন। বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীদের উপস্থিতে কেডি ঘোষ রোড, স্যার ইকবাল রোড, হেলাতলা রোড কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ