সৈয়দপুরে আ'লীগ নেতার সাথে এক মঞ্চে ডিসি-ইউএনও - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ২:৪০, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

সৈয়দপুরে আ’লীগ নেতার সাথে এক মঞ্চে ডিসি-ইউএনও

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, মার্চ ২, ২০২৫ ৪:২৭ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, মার্চ ২, ২০২৫ ৪:২৭ অপরাহ্ণ

 

নীলফামারী প্রতিনিধি
নীলফামারীর সৈয়দপুরে বঙ্গবন্ধু পরিষদ ও আওয়ামী লীগ নেতার সাথে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পুরষ্কার বিতরণ করলেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)। একটি সরকারি কলেজের অনুষ্ঠানে পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসরদের সাথে একই মঞ্চে জেলার সর্বোচ্চ সরকারি কর্মকর্তা দীর্ঘ ৪ ঘণ্টা পাশাপাশি অবস্থান ও একসাথে কার্যক্রমে অংশগ্রহণ নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় চলছে শহরজুড়ে।

শনিবার (১ মার্চ) সৈয়দপুর সরকারি কলেজে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতার পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়। বেলা সাড়ে ১২ টা থেকে ৩ টা পর্যন্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নুর ই আলম সিদ্দিকী। তাদের পাশেই এক কতারে অতিথি ছিলেন বঙ্গবন্ধু পরিষদের আহ্বায়ক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি এবং সৈয়দপুর কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান।

দৃশ্যটি দেখে উপস্থিত বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্থানীয় সহযোদ্ধারাসহ বিএনপি ও জামায়াত ঘরানার শিক্ষার্থীরা এবং অভিভাবক, শুধীজন কানাঘুষা করলেও প্রথম দিকে কেউ মুখ ফুটে কিছু বলেনি। কিন্তু মধ্যাহ্ন ভোজের সময় এনিয়ে কথা ওঠে এবং কয়েকজন সংবাদকর্মী ও সচেতন শিক্ষার্থী অধ্যক্ষ গোলজার হোসেনের খাওয়ার আহবান প্রত্যাখ্যান করেন। এতে বিষয়টি ডিসি ও ইউএনও’র কানে গেলেও তারা গুরুত্ব না দিয়ে পুরষ্কার বিতরণ সম্পন্ন করেন।

এদিকে অনুষ্ঠানের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তোলপাড় শুরু হয়েছে। কথা উঠেছে প্রশাসনের কর্মকর্তারা আওয়ামী লীগ নেতাদের কৌশলে পুনর্বাসনের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে একজন চিহ্নিত আওয়ামী লীগ নেতা ও থিংক ট্যাংকে পাশে নিয়ে অবলীলায় ৪ ঘন্টা অতিবাহিত করেছেন ডিসি ও ইউএনও।

সৈয়দপুর সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ গোলজার হোসেন বলেন, তিনি আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে নয়, এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাবেক অধ্যক্ষ এবং সরকারিকরণে তার বাপক অবদান ছিল। তার সময়ই মূলতঃ আওয়ামী লীগ সরকারের কাছে দাবি তুলে সফল হয়েছি। তাই কৃতজ্ঞতা স্বরুপ সৌজন্যতা বশতঃ আমন্ত্রণ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, প্রতিষ্ঠান প্রধান যদি জেনেও আওয়ামী লীগ নেতাকে দাওয়াত দেয় তাহলে আমাদের কি করার আছে। আমিতো জানিনা কে আওয়ামী লীগ আর কে অন্যদলের নেতা। আগে জানতে পারলে কৌশলে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া যেত। এখন কোন প্রকার অসৌজন্যতা ঠিক হবেনা। একথা বলেই তিনি মাত্র ১ জনের হাতে পুরষ্কার তুলে দিয়ে তাড়াতাড়ি অনুষ্ঠান স্থল ত্যাগ করেন।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ