সোনাইমুড়ীতে বিএনপির বিক্ষোভে আ’ লীগের হামলা, সংঘর্ষ, আহত ৪৫
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
রবিবার, আগস্ট ২৮, ২০২২ ৫:৪৩ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
রবিবার, আগস্ট ২৮, ২০২২ ৫:৪৩ অপরাহ্ণ

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে বিএনপির প্রতিবাদ সভাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে পৌর শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে বিচ্ছিন্ন ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে একজন সাংবাদিক ও পুলিশসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৪৫জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে।
শনিবার (২৭ আগষ্ট) সকাল থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দফায় দফায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, জ্বালানি তেলসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমুল্যে বৃদ্ধি ও ভোলায় বিএনপির ২ নেতাকে হত্যার প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দেয় সোনাইমুড়ী উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠন। বিকেল ৩টার প্রতিবাদ সমাবেশকে সফল করতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে বিএনপি নেতাকর্মীরা সকাল থেকেই সমাবেশ স্থলে আসার প্রস্তুতি নেয়।
অপরদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগ সন্ত্রাস ও নাশকতার বিরুদ্ধে পৌর শহরে অবস্থান নিয়ে সকাল থেকেই মিছিল সমাবেশ অব্যাহত রাখে।
দুপুর আড়াইটার দিকে সোনাইমুড়ী চৌরাস্তা থেকে বিএনপির একটি বিক্ষোভ মিছিল স্কুল রোড হয়ে বাজারে প্রবেশ করে সাব-রেজিঃ অফিস সড়কের মুখে গেলে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় দুই পক্ষের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার এক পর্যায়ে পৌর শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এ বেশ কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। এ সংঘর্ষে একজন সাংবাদিক উভয় দলের অন্তত ৪৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মামুনুর রশীদ মামুন যৌথ বিবৃতিতে বলেন, অনির্বাচিত সরকারের জনগণের প্রতি দয়া মায়া নেই। জনগণের ন্যায্য দাবি না মেনে তারা শান্তিপুর্ন কর্মসূচিতে হামলা চালিয়ে আমাদের ২০/২৫ জন নেতাকর্মীকে আহত করেছে। আমরা এই হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি করছি। নেতৃবৃন্দ বলেন, যতই হামলা মামলা করেন, বিএনপিকে দমিয়ে রাখা যাবে না।
ভোটার বিহীন এ সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে, এই আন্দোলন পর্যায়ক্রমে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। এমন সময় আসছে এ সরকার পালানোর পথ খুঁজে পাবে না।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আফম বাবুল বাবু জানান, আমাদের ডাকা সন্ত্রাস ও নাশকতা বিরোধী বিক্ষোভ সমাবেশ চলছিল। হঠাৎ বিএনপির উচ্ছুঙ্খল নেতাকর্মীদের হামলায় আমাদের ছাত্রলীগনেতা রেদোয়ান ও সবুজসহ ১৫/২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। পরবর্তীতে আমাদের ধাওয়া খেয়ে তারা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।
সোনাইমুড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হারুন অর রশিদ বলেন, বিএনপি সমাবেশের ডাক দিলেও তাদের কোন ব্যানার বা মঞ্চ ছিল না। হঠাৎ বিকেল ৩টার দিকে তারা বাজারে প্রবেশ করে হাউকাউ শুরু করে। এ সময় দুই পক্ষের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হলে পুলিশ উভয় পক্ষকে দুইদিকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশের ডিউটিরত একটি পুলিশ ভ্যান ও একটি সিএনজি ভাংচুর করা হয়, এতে আমাদের কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়। এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
জনতার আওয়াজ/আ আ