স্বতন্ত্র সমর্থক সংখ্যালঘুদের ওপর চড়াও নৌকার এমপি - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১০:০২, বুধবার, ১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৬শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

স্বতন্ত্র সমর্থক সংখ্যালঘুদের ওপর চড়াও নৌকার এমপি

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শনিবার, জানুয়ারি ১৩, ২০২৪ ২:৪৩ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শনিবার, জানুয়ারি ১৩, ২০২৪ ২:৪৪ অপরাহ্ণ

 

নিউজ ডেস্ক
ভোটের পর থেকেই নির্বাচিত আসনে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন নতুন এমপি হাবিবুন নাহার। তিনি বাগেরহাট-৩ (রামপাল-মোংলা) আসনে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করেছিলেন। মোংলায় সহিংসতা ও সংখ্যালঘু নির্যাতন বন্ধে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন মুক্তিযোদ্ধা কেশব লাল মন্ডল। শনিবার (১৩ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন।

এই বীর মুক্তিযোদ্ধা ব‌লেন, হাবিবুন নাহারের কতিপয় নেতা ও ক্যাডার বাহিনীর ধারাবাহিক জুলুম, অত্যাচার, হামলা, মারধর, দখল, ভাংচুর ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপে এলাকার সাধারণ মানুষ জিম্মি। বিপুল সংখ্যক হিন্দু পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে বন্দি দশা কাটাচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকশ পরিবার ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র বসবাস করছে। শুধুমাত্র হাবিবুন নাহারকে ভোট না দেওয়ার কারণে এলাকায় এই অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছে।

তি‌নি ব‌লেন, বিগত তিনটি নির্বাচনে এখানে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় হাবিবুন নাহার সহজেই নির্বাচিত হন। কিন্তু এবার দলীয় কোন বাধা না থাকায় বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি, মোংলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিস আলী ইজারাদার স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় তাকে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে পড়তে হয়। নির্বাচনের শুরু থেকেই ইদ্রিস আলীর সমর্থক সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতাকর্মীদের হুমকি-ধমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করতে থাকে।

‘এরপর ভোট গণনা শেষ হতেই সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি হামলা চালায়। বসতঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দোকানে ভাঙ্চুর করে। মাছের ঘের জবর-দখল করে ঘেরের মাছ লুট করে নিয়ে যায়। তাদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না শিশু, বৃদ্ধ মহিলারাও। এমনকি তাদের হাতে দু’জন মুক্তিযোদ্ধাও মারাত্মক আহত হয়েছেন।’

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, মোংলা উপজেলার সোনাইলতলা, মিঠাখালী, সুন্দরবন ও চিলা ইউনিয়নে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা সবচেয়ে বেশি তান্ডব চালিয়েছে। এসব তান্ডবের নেপথ্যে রয়েছে মোংলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু তাহের হাওলাদার, সুন্দরবন ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান কবির হোসেন ও তার সহযোগী আহাদুল মেম্বর, মিঠাখালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ ইস্রাফিল হাওলাদার, চিলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গাজী আকবর হোসেন, চাঁদপাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের ভাই হাফিজুল ও তার সহযোগী সেলিম।

তারা ধারাবাহিকভাবে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকদের উপর নির্যাতন, জুলুম চালালেও প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। যে কারণে আমরা নিরূপায় হয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। ওই সকল সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি দলীয়ভাবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান ভুক্তভোগীরা।

এ বিষয়ে বাগেরহাট-৩ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হাবিবুন নাহার মোবাইল ফো‌নে বলেন, আমাদের লোকজনও আহত হয়েছে। তারাও হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। খুলনা হাসপাতালেও ভর্তি আছে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

জামায়াত-বিএনপির লোকজন নৌকায় সমর্থন করে আওয়ামী লীগের লোকজনের উপর হামলা করেছে। এমন অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, আমার নিজের কর্মী-সমর্থক আছে। আমি কোনো বিএনপি-জামায়াতকে দলে ডাকিনি।

ওই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ইদ্রিস আলী বলেন, খুলনাতে হাফিজুর রহমান নামের আমার এক সমর্থককে হাবিবুন নাহারের কর্মী-সমর্থকরা আহত করেছে। এখন সে হাসপাতালে মৃত্যু শয্যায়। আমার অনেক কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছে এবং তারা হাসপাতালে ভর্তি আছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- মুক্তিযোদ্ধা বিধান চন্দ্র রায়, মিঠাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উৎপল কুমার মন্ডল, বুড়িরভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উদয় শংকর বিশ্বাস, ইউপি সদস্য আশীষ মন্ডল, নির্যাতনের শিকার সংখ্যালঘু পরিবারের সদস্য পিন্টু রায়, নয়ন কুমার মন্ডল, সঞ্জয় বাছার, নির্মল সরকার, দেবাশীষ মন্ডল, তপন ফকির, দীপা ফকির, তাপস সরকার, বিবেক মন্ডল, অমিত সরকার প্রমুখ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ