স্বৈরাচার থেকে গণতন্ত্রে বাংলাদেশকে রূপান্তর করতে হবে : মঈন খান - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১২:৫৩, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

স্বৈরাচার থেকে গণতন্ত্রে বাংলাদেশকে রূপান্তর করতে হবে : মঈন খান

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৫ ২:৫৮ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৫ ২:৫৮ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক

কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে সন্তুষ্ট করার জন্য কিন্তু এই সরকার আসেনি মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, এই সরকার কিন্তু একটি বিশাল দায়িত্ব নিয়ে এসেছে, সেই দায়িত্বটি কি? স্বৈরাচার থেকে গণতন্ত্রে বাংলাদেশকে রূপান্তর করতে হবে। এটা কিন্তু ছোটখাটো জিনিস নয়, আমি আনন্দিত তারা চ্যালেঞ্জটি গ্রহণ করেছেন। শুধু গ্রহণ করলে হবে না দায়িত্বটি তাদের সঠিকভাবে পালন করতে হবে। এটা শুধু তাদের জন্য না, বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ জন্য।

তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পরে আজকে যারা প্রতিনিধিত্ব করছেন, সরকারে ৩ জন আছেন, এছাড়া বিভিন্ন কমিটিতে সমন্বয়ক রয়েছেন, নাগরিক কমিটি রয়েছে, বৈষম্যবিরোধী কমিটি রয়েছে। এই যে যারা সমন্বয়ক, নাগরিক কমিটি, বৈষম্যবিরোধী কমিটির রয়েছেন এবং যারা সরকারের ভিতরে ছাত্র-জনতার প্রতিনিধিত্ব করছে তাদের সরাসরি প্রশ্ন করতে চাই, এই চারটি গ্রুপ যে রয়েছে তাদের মধ্যে কয়জন সত্যিকারের ছাত্র রয়েছে? তারা কি আসলেই আজকে ছাত্র? ছাত্রত্ব শেষ করেছে? ছাত্রত্ব পরবর্তী তারা চাকরি প্রত্যাশী ছিলো না? তাহলে আজকে যে আমরা ছাত্র-জনতা বলছি, এটা টেকনিকালি কেউ যদি প্রশ্ন করে, তাহলে এটা কত দোষে দোষিত সেই প্রশ্নইতো আসছে।

মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ঢাকাস্থ মীরসরাই জাতীয়তাবাদী ফোরাম কর্তৃক ‘গণঅভ্যূত্থান, গণপ্রত্যাশা এবং রাষ্ট্র সংস্কার’ বিষয়ক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, রাজপথে যারা ছিলো, যারা নিজেদের সাধারণ ছাত্র বলে পরিচয় দিয়েছিলো তাদের মধ্যে কি কেউ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলো না? অবশ্যই ছিলো। যারা সত্যিকারের ছাত্র রাজপথে ছিলো তারা কি কেউ বিএনপির সদস্য ছিলো না? এটা বুঝতে হবে। সত্যটা হলো, তারা সেদিনের পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপি বলে নিজেদের পরিচয় দেয়নি, তারা পরিচয় দিয়েছিলো সাধারণ ছাত্র হিসেবে। এই সত্যগুলো বুঝতে না পারলে আমরা যে সংকটে আছি, সে সংকট থেকে কিন্তু বের হতে পারবো না।

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার কোন পক্ষপাতিত্ব করতে পারবে না। যে মুহুর্তে তারা পক্ষপাতিত্বে চলে যাবেন তখনই তাদের কার্যপদ্ধতি ব্যর্থ হয়ে যাবে। আমরা শুনেছি, ছাত্ররা নাকি এই সরকারকে এপয়েন্টমেন্ট দিয়েছে, আমরা জানি না সারা দেশের মানুষ কী তাদের দায়িত্ব দেয়নি? ১৮ কোটি মানুষ কি দায়িত্ব দেয়নি? তারা কি একটি নির্দিষ্ট শ্রেণীর প্রতিনিধিত্ব করে? সেই আন্দোলনেতো বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ গিয়েছিলো। আমরা আবু সাইদকে দেখেছি, তোমরা গুলি কর কিন্তু আমি প্রত্যয় থেকে সরবো না। যে ছেলেটি আন্দোলনকারীদের পানি খাইয়েছে তার কথা ভুলে গেলে কিন্তু চলবে না৷ সব কিছু ভুলে গেলে কিন্তু চলবে না।

সংস্কার নিয়ে তিনি বলেন, সংস্কার কিন্তু এমন একটি জিনিস যেটা একবার করে ফেললাম আর সবকিছু সুন্দর হয়ে গেলো সেটাকে বুঝায় না। কারন সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া। আমি আজকে যেটি সংস্কার করলাম সেটি কিন্তু আগামীকাল আবার সংস্কারের প্রয়োজন হতে পারে। কাজেই আমি সংস্কার করবো, তারপর আমি অন্যকিছু করবো। তারপর আবার আমি অন্যকিছু এটা কোন যুক্তিসংগত কথা না। সংস্কার চলবে মানুষের যে জীবনধারা সেটাও প্রবাহিত হবে, দেশ পরিচালনাও চলতে থাকবে।

তিনি বলেন, জনগণের প্রতি যদি আমাদের আস্থা থাকে, আমরা যদি সত্যিকার অর্থে গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি, তাহলে বর্তমান সমস্যা সমাধানের একটি মাত্র উপায় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা। যত দ্রুত গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবো ততই মঙ্গল। সংস্কারের কথা বলেন, ২০টি না কয়টি সংস্কার কমিশন করা হয়েছে, বাংলাদেশের মানুষ নিজেদের সংস্কার করা না পর্যন্ত কোন সংস্কার কোন কাজে আসবে না।

মঈন খান বলেন, গত বছরের জুলাই আগস্টে ছাত্র জনতার যে গণঅভ্যূত্থান হয়েছিলো সেটাকে আমরা ৫ই আগস্টের গণঅভ্যূত্থান না বলে কেন আমরা ৩৬শে জুলাইয়ের গণঅভ্যূত্থান বলছি এই প্রশ্ন আমি করতে চাই। এর পেছনে কোন সাইকোলজি কাজ করেছে এটা উন্মোচন করতে হবে। আবেগের কারনে আমরা ৩৬শে জুলাই বলেছি সেটা আমি বিশ্বাস করি না। এর পেছনে কোন রাজনৈতিক বিশ্লেষণ রয়েছে সেটা বিশ্বাস করি না। আমি এটা বিশ্বাস করি যেকোন কারনে তারা আগস্ট নামটি উচ্চারণ করতে চায়নি। সেকারনে তারা এটাকে ৩৬ জুলাই বলছে। আগস্টের নামটা যাতে তুলতে না হয়। এবং সেই কারনটি সেটা ব্যাখ্যা দেবার প্রয়োজন নাই।

সরকারের কাধে অনেক কাজ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, এই সরকারের উপর আমাদের অনেক আস্থা। তাদেরকে শক্ত হাতে একটি কাজ করতে হবে, দ্রুততম সময়ে স্বৈরতন্ত্রের যে অধ্যায় ছিলো সেখান থেকে গণতন্ত্রের অধ্যায়ে রূপান্তর করতে হবে একটি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল লতিফ মাসুম। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, মুক্ত চিন্তা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আবুল কাসেম হায়দার প্রমুখ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ