স্যাংশনে বিএনপির খুশি হওয়ার কোনো কারণ নেই: হানিফ
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
সোমবার, মে ২২, ২০২৩ ৮:২২ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
সোমবার, মে ২২, ২০২৩ ৮:২২ অপরাহ্ণ

স্যাংশন আসছে এই খুশিতে বিএনপি নেতারা বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন- এমন মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ এমপি বলেছেন, স্যাংশন আসছে, রাষ্ট্রের প্রতি? আপনাদের (বিএনপি) খুশি হওয়ার কোনো কারণ নেই। আমি বিশ্বাস করি, এই রাষ্ট্রের ওপর কখনো স্যাংশন হবে না।
সোমবার (২২ মে) বেলা ১১টায় রাজধানীর ইনস্টিটিউট অফ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) ভবনে ১৭ মে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষ্যে ৭১ ফাউন্ডেশন আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্যাংশন আসলে সে দেশের কি পরিণতি হয় তা দেখার জন্য বিএনপি নেতাদের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা একটু ইরান-ইরাক, মিশর-লিবিয়ার দিকে তাকান। ইরান-ইরাক আজকে কোথায়? অর্থনৈতিক দেউলিয়ার পথে চলে গেছে। যে সমস্ত রাষ্ট্রের ওপর স্যাংশন এসেছে সেসব দেশ ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আক্ষেপ করে বলেছিলেন, এই স্যাংশনের টার্গেট হয় সবসময় মুসলিম দেশগুলো। এগুলা মুসলিম বিশ্বকে দমিয়ে রাখার অপচেষ্টা ছাড়া আর কিছু নয়।
বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্য করে হানিফ বলেন, মানুষের ওপর ভরসা করুন, ওই বিদেশি প্রভুর কাছে ধরনা দিয়ে স্যাংশন এনে রাষ্ট্রের কোন কল্যাণ করতে পারবেন না। তা দিয়ে ক্ষমতায়ও আসতে পারবেন না। এটা মাথায় রাখতে হবে। বাংলাদেশের মানুষ যাদেরকে চায়, তারাই ক্ষমতায় আসবে।
হত্যা তো দূরে থাক, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার গায়ে যদি একটা আঁচড় দেয়ার চেষ্টা করা হয় তার দাঁত কিভাবে ভেঙে দিতে হয়, কিভাবে শায়েস্তা করতে হয়- আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা তা জানে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ এমপি।
তিনি বলেন, ‘বিএনপি নেতারা প্রায়ই হুমকি-ধমকি দেয়। সেই সূত্র ধরে বিএনপির এক নেতা সরাসরি হত্যার হুমকি দিয়েছে। যারা হত্যার হুমকি দিচ্ছে তাদেরকে পরিস্কারভাবে জানিয়ে দিতে চাই, বাংলাদেশে যদি দ্বিতীয়বার এই উক্তি হয় তাহলে দেশের জনগণকে নিয়ে দাঁতভাঙা জবাব দেয়া হবে।’
মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, ‘শেখ হাসিনাকে বারবার হত্যা করার চেষ্টা করেছে বিএনপি-জামায়াত। ১৯ বার তাকে হত্যার জন্য আক্রমণ করা হয়েছে। জনগণের ভালোবাসা, দোয়া ছিল- যার কারণে আল্লাহর রহমতে তিনি বেঁচে গেছেন।’
তিনি বলেন, ‘যে বিএনপি নেতা হত্যার হুমকি দিয়েছে- আমরা বলেছি তাকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য। আমরা আইন নিজের হাতে নিতে চাই না। যদি চায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ঐ ব্যক্তিকে পিটিয়ে রাস্তায় শায়েস্তা করতে পারে। কিন্তু আমরা সেটা করতে চাই না। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দিয়ে আমরা তার শাস্তি নিশ্চিত করতে চাই।’
বিএনপি নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘পরিস্কারভাবে বলতে চাই বিদেশি প্রভুদের নিয়ে ষড়যন্ত্র করে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটানো যাবে না। যতই লাফালাফি করুন শেখ হাসিনার প্রতি মানুষের আস্থা আছে। যতদিন শেখ হাসিনার সঙ্গে এদেশের মানুষ আছে ততদিন তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র সফল হবে না। ইনশাআল্লাহ্ আপনারা সেটা দেখতে পাবেন।’
তিনি বলেন, দেশের মানুষ শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি আস্থাশীল। আমরা বলেছি নির্বাচনে আসুন। শেখ হাসিনা বারবার বলছেন, আগামী নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু এবং সকল দলের অংগ্রহণে হবে।
বিদেশি দূতাবাসগুলোকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, আপনাদের চাওয়া আগামী নির্বাচন সকল দলের অংশগ্রহণে অবাধ, সুষ্ঠু হোক- তাদের বলি আমরাও তো সেটা চাই। আমাদের-আপনাদের চাওয়ায় পার্থক্য নেই। তাহলে কেন উত্তেজনা সৃষ্টি করা হচ্ছে।
যদি কোনো বন্ধুরাষ্ট্র আগামী নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু হবে কিনা মনে করে সংশয়ে থাকেন- তাহলে আপনারা যতজন খুশি পর্যবেক্ষক পাঠান। তারা দেখুক নির্বাচন সুষ্ঠু হয় কিনা? আমরা নির্বাচন সুষ্ঠু করতে আমরা বদ্ধ পরিকর- বলেন তিনি।
হানিফ বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে যার যত দাবি আছে, চিন্তা-ভাবনা আছে সবগুলো সংবিধানের আলোকে ভাবতে হবে। সংবিধানের মধ্যে থেকে পথ খুঁজে বের করতে হবে। সংবিধানের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই।’
জিয়াউর রহমানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আজ বিএনপি নেতারা কথায় কথায় মানবাধিকার, গণতন্ত্রের কথা বলেন। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবার হত্যার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর মতো অত্যাচার নির্যাতন শুরু করেছিলেন। সেই সময়ের কথা তারা হয়ত ভুলে গেছেন কিন্তু জাতি ভুলে যায়নি। জিয়াউর রহমান কারফিউ দিয়ে দেশ শাসন করে গেছেন। ইনডেমনিটি করে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার বন্ধ করেছিলেন, খুনীদের বিদেশি দূতাবাসে নিয়োগ দিয়ে পুরস্কৃত করেছিলেন। এতে প্রমাণ হয় বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে তার গভীর সম্পর্ক ছিল। এসবের মধ্য দিয়ে তিনি সেটার প্রমাণ রেখে গেছেন।’
জিয়া কখনো মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করেননি উল্লেখ করে হানিফ বলেন, ‘জিয়া মুক্তিযোদ্ধার ছদ্মাবরণে পাকিস্তানের এজেন্ট ছিলেন। কারণ মাত্র কয়েক বছরে একজন মুক্তিযোদ্ধার আমূল পরিবর্তন ঘটতে পারে না। রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসার পর তার প্রত্যেকটা কর্মকাণ্ড ছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী।’
হানিফ বলেন, ‘ক্ষমতায় এসে জিয়া জয় বাংলা, ৭ মার্চের ভাষণ নিষিদ্ধ করেছিলেন। দালাল আইন বাতিল করে সাড়ে ১১ হাজার রাজকারকে মুক্ত করে দিয়েছিলেন। কুখ্যাত রাজাকার গোলাম আযমকে দেশে ফিরিয়ে এনে নাগরিকত্ব দিয়েছেন। নিষিদ্ধ ঘোষিত যুদ্ধাপরাধী সংগঠন জামায়াতে ইসলামীকে রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছেন। রাজাকার শাহ আজিজুর রহমানকে প্রধানমন্ত্রী করে মন্ত্রীসভা গঠন করেছিলেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি শুধু মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ভূলুণ্ঠিত করেননি, ৩০ লাখ শহিদের আত্মত্যাগকে পদদলিত করেছেন। আওয়ামী লীগের ওপর স্টিম রোলার চালিয়েছেন। আওয়ামী লীগকে ভেঙে টুকরো টুকরো করেছিলেন। লাখ লাখ নেতা-কর্মীকে বিনা বিচারে জেলে বন্দি করেছিলেন। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের হত্যা, গুম করা হয়েছে। তাদের অপরাধ ছিল একটাই তারা মুক্তিযুদ্ধের দল করে, বঙ্গবন্ধুর দল করে। সেসময় মানুষ যখন দুর্বিষহ জীবন পার করছিল, ঠিক সেই সময়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা মৃত্যু ভয় উপেক্ষা করে দেশে ফিরে এসেছিলেন।’
সভায় সভাপতিত্ব করেন, ৭১ ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা মাজেদা শওকত আলী এবং প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন ৭১ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম মেম্বার ডা: খালেদ শওকত আলী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ প্রেস ইন্সটিটিউট এর মহাপরিচালক জাফর ওয়াজেদ; লেখক গবেষক, সংগঠক মারুফ রসুল; শহীদ বুদ্ধিজীবি সন্তান ও বিশিষ্ট অভিনেত্রী শমী কায়সার প্রমুখ।
জনতার আওয়াজ/আ আ