হতাশা থেকে তরুণ সমাজ মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে: জিএম কাদের
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
বুধবার, মার্চ ২৭, ২০২৪ ৭:৩৪ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
বুধবার, মার্চ ২৭, ২০২৪ ৭:৩৪ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
বিরোধীদলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেছেন, তরুণ সমাজের জন্য মানসম্মত ও কর্মমূখী শিক্ষা ব্যবস্থা নেই। তাই, তরুণ সমাজ বিদেশমুখী হচ্ছে। যেকোনভাবে তারা বিদেশে যেতে চাচ্ছে। দেশের প্রতি আস্থাহীনতার কারণে তরুণ সমাজের মেধা ও কর্মশক্তি বঞ্চিত হচ্ছে দেশ। যারা দেশে থাকছে তারা কর্মসংস্থানের অভাবে হতাশ হয়ে পড়ছে। হতাশা থেকে তরুণ সমাজ মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে।
দেশের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠির তিন ভাগের দুই ভাগই তরুণ। এই তরুণদের ৪০ শতাংশ অলস জীবন যাপন করছে। তাদের শিক্ষা নেই, প্রশিক্ষণ নেই। বেকার এই তরুণরা সমাজের কোন কাজেই আসছে না। বিশাল এই তরুণ জনগোষ্ঠিকে কিভাবে কর্মক্ষম করে দেশের স্বার্থে কাজে লাগানো যায় এটাই বর্তমানে বড় চ্যালেঞ্জ। তরুণরা সম্পদ না হয়ে বোঝা হয়ে দাড়াচ্ছে। তারা সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলার কারণ হয়ে পড়েছে। আইন শৃঙ্খলা অবনতির অন্যতম কারণ হয়ে উঠছে মাদকাসক্ত তরুণ সমাজ। অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে সহায়ক না হয়ে তরুণরা অনেক ক্ষেত্রেই বাঁধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। নিম্নমানের শিক্ষা, শিক্ষা শেষে কাজের অভাব আর চরম অনিশ্চয়তার কারণে প্রতি বছর দেশ থেকে হাজার হাজার শিক্ষার্থী বিদেশে চলে যাচ্ছে।
তারা পড়াশোনার উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়লেও, শিক্ষা জীবন শেষ করে আর দেশে ফিরছে না। এতে, মেধাবী সন্তানদের সেবা থেকে বঞ্ছিত হচ্ছে দেশ। এর বিরুপ প্রভাবে দীর্ঘ মেয়াদী ক্ষতির শিকার হবে বাংলাদেশ। বুধবার(২৭ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে জাতীয় ছাত্র সমাজ এর প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিরে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় গোলাম মোহাম্মদ কাদের এ কথা বলেন। প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বিরোধীদলীয় নেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের আরো বলেন, ২০২৩ সালে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে পাড়ি দিয়েছেন ৫২ হাজার ৭৯৯ শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র গেছেন ৮ হাজার ৫২৪ জন, যুক্তরাজ্য গেছেন ৬ হাজার ৫৮৬ জন, কানাডায় গেছেন ৫ হাজার ৮৩৫ জন, মালয়েশিয়ায় গেছেন ৫ হাজার ৭১৪ জন, জার্মানীতে ৫ হাজার ৪৬ জন, অষ্ট্রেলিয়ায় ৪ হাজার ৯৮৭ জন, জাপানে ২ হাজার ৮০২ জন এবং ভারতে ২ হাজার ৬০৬ জন। সরকারি ব্যবস্থাপনায় দেশে চিকিৎসা সেবা নেই বললেই চলে। যাদের টাকা আছে তাদের জন্য বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় কিছুটা চিকিৎসা আছে। আর, যাদের টাকা নেই তাদের জন্য চিকিৎসার নামে কিছুই নেই। অথচ, চিকিৎসা সেবা আধুনিকায়নে বছরে প্রচুর অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে, কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। অথচ চিকিৎসা ব্যবস্থা ও সেবার মান কিছুটা উন্নত করা গেলে দেশের কয়েকশো কোটি টাকা দেশে রাখা সম্ভব হবে। সরকার কেন বিষয়টি গুরুত্ব দিচ্ছেনা আমরা বুঝতে পারি না।
এ প্রসঙ্গে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের আরো বলেন, গেলো ২৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় অনুষ্ঠিত “পিএইচএ গ্লোবাল সামিট-২০২৪” এর সমাপণী অনুষ্ঠানে জানানো হয়েছে, প্রতিবছর চিকিৎসার জন্য দেশ থেকে ৫শো কোটি ডলার (৫ বিলিয়ন) বিদেশে চলে যাচ্ছে। যা প্রতি বছর বেড়েই চলছে। প্রতি বছর প্রবাসী রেমিটেন্স আয় ২৩ বিলিয়ন। প্রতি ডলার ১১০ টাকা হারে বিদেশে চলে যাচ্ছে প্রতিবছর ৫৫ হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) তথ্যে প্রকাশ, প্রতি বছর ৭ লাথের বেশি রোগী চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের ধারণা, বিদেশে যাওয়া রোগীর সংখ্যা ও চিকিৎসার জন্য বিদেশে চলে যাওয়া ডলারের হিসাব আরো বেশি। কারন, অনেকেই বেড়াতে গিয়ে, ব্যবসা বা অন্যকোন কাজে বিদেশে গিয়েও চিকিৎসা নেন। চিকিৎসা খাতে সরকারের ব্যয়ের একটি বড় অংশই খরচ হচ্ছে, অবকাঠামো তৈরীতে। এতে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবায় তেমন কোন লাভ হয়না। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, হাসপাতাল গুলোতে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি নিত্য নৈমিত্তিক বিষয়। চিকিৎসক থাকেন না, তারা বেসরকারি হাসপাতালে বেশি সময় দেন। সরকারি হাসপাতালগুলোতে পরিক্ষা-নিরিক্ষার যন্ত্রপাতি থাকলেও, তা সারা বছরই অচল থাকে। যাদের সামর্থ থাকে তারা বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। সম্ভব হলে বিদেশেও যান চিকিৎসা নিতে। কিন্তু যাদের সামর্থ নেই তাদের জন্য দেশে ও বিদেশে কোথাও চিকিৎসা নেই।
জাতীয় ছাত্র সমাজ সভাপতি মোঃ আল মামুন এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ আশরাফুল ইসলাম খান এর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী (অব), রেজাউল ইসলাম ভূইয়া, জহিরুল ইসলাম জহির, জহিরুল আলম রুবেল, চেয়ারম্যান এর উপদেষ্টা খলিলুর রহমান খলিল, ভাইস চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান খান, শফিউল্লাহ শফি, জসিম উদ্দিন ভূইয়া, যুগ্ম মহাসচিব গোলাম মোহাম্মদ রাজু, আবদুল হামিদ ভাসানী, বেলাল হোসেন, সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য নির্মল দাস, কাজী আবুল খায়ের, সুলতান মাহমুদ, আহাদ ইউ চৌধুরী শাহিন, এলাহান উদ্দিন, এমএ সোবহান, মাহমুদ আলম, সমরেশ মন্ডল মানিক, মীর সামসুল আলম লিপটন।
জনতার আওয়াজ/আ আ