হামের প্রাদুর্ভাব: অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতাকে দায়ী করলেন বিএনপি নেতা
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
সোমবার, মার্চ ৩০, ২০২৬ ৫:২৯ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
সোমবার, মার্চ ৩০, ২০২৬ ৫:২৯ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিনিধি
ছবি প্রতিনিধি
অন্তর্বর্তী সরকার শুরুতে সচেতন থাকলেও মিজেলসের ভ্যাকসিন সংগ্রহে জটিলতা তৈরি হয়। সেই জটিলতার কারণে টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে, যার ফলেই আজকের হামের এই প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম।
এদিকে, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চলতি বছরে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ৩০ শিশুর মধ্যে ২৯ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সাহিদা ইয়াসমিন।
সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সাহিদা ইয়াসমিন এ তথ্য জানান। এ তথ্য নতুন করে অনেকের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
সোমবার রামেক হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে রফিকুল ইসলাম বলেন, চলতি বছরের চার জানুয়ারি প্রথমবারের মতো রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হাম শনাক্ত হওয়ার পর থেকেই ধীরে ধীরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এর বিস্তার ঘটে।
তিনি বলেন, ‘এই মিজেলসের প্রাদুর্ভাব এ বছরই প্রথম দেখা গেছে। অনেকদিন এটি আমাদের দেশে ছিল না, আমরা প্রায় বলতেই পারতাম এটি নির্মূল হয়েছিল। কিন্তু ৪ জানুয়ারি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রথম শনাক্ত হওয়ার পর থেকেই এটি ছড়াতে শুরু করে।’
রফিকুল ইসলাম জানান, রাজশাহীসহ দেশের অন্তত সাতটি অঞ্চলে বর্তমানে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণে থাকা এই রোগের পুনরুত্থানের পেছনে টিকাদান কার্যক্রমে বিঘ্ন, সরবরাহ সংকট এবং জনসচেতনতার ঘাটতি বড় কারণ হিসেবে কাজ করেছে।
তিনি বলেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক রোগ; একজন আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে ১০ থেকে ১৫ জন পর্যন্ত সংক্রমিত হতে পারে। তাই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া সবচেয়ে জরুরি।
বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক আরও জানান, দেশে নিয়ম অনুযায়ী ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে এমআর টিকা দেওয়া হলেও বর্তমানে ৬ মাসের নিচের শিশুরাও আক্রান্ত হচ্ছে, যা নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। এ বিষয়ে দ্রুত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
এ সময় রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পি কে এম মাসুদ-উল-ইসলাম, শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সাহিদা ইয়াসমিনসহ সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সাহিদা ইয়াসমিন জানান, চলতি বছরে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ৩০ জন শিশু মারা গেছে। এর মধ্যে মাত্র একজনের শরীরে পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হয়েছে, বাকি ২৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করেও পজিটিভ পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ২৭০ জন শিশু ভর্তি রয়েছে, যার মধ্যে ৩৫ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা নির্ধারিত কর্নার ও সাধারণ শিশু ওয়ার্ডে দেওয়া হচ্ছে এবং দুটি ওয়ার্ডে আলাদা আইসোলেশন ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। রোগীর সংখ্যা বাড়লে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অধ্যাপক ডা. সাহিদা ইয়াসমিন আরও জানান, আক্রান্ত শিশুদের প্রায় ৬৫ শতাংশের বয়স ছয় মাসের নিচে, যা চিকিৎসকদের জন্য উদ্বেগজনক। এক বছরের বেশি বয়সি আক্রান্তের সংখ্যা তুলনামূলক কম।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পি কে এম মাসুদ-উল-ইসলাম বলেন, ‘১২০০ শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ রোগী ভর্তি থাকায় চিকিৎসা ব্যবস্থায় ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে। সীমিত জনবল ও অবকাঠামোর মধ্যেও চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।’
জনতার আওয়াজ/আ আ