হারিকেন শেখ হাসিনা সরকারের হাতে ধরিয়ে দিতে হবে : আমীর খসরু
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
মঙ্গলবার, জুন ১৩, ২০২৩ ৫:৩৭ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
মঙ্গলবার, জুন ১৩, ২০২৩ ৫:৩৭ অপরাহ্ণ

ডেস্ক নিউজ
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী একটি হারিকেন দেখিয়ে নেতাকর্মীদের বলেছেন, এই হারিকেন শেখ হাসিনা সরকারের হাতে ধরিয়ে দিতে হবে।
অসহনীয় লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ খাতে ব্যাপক দুর্নীতির প্রতিবাদে আজ মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত পদযাত্রা পূর্ব সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। সমাবেশ শেষে কয়েক হাজার নেতাকর্মীর অংশগ্রহনে এই পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। মহাখালী থেকে পদযাত্রা কাওরান বাজার গিয়ে শেষ হয়।
কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে মহাখালীতে অনুষ্ঠিত এই পদযাত্রা পূর্ব সমাবেশে আমীর খসরু আরো বলেন, আওয়ামী লীগ পরাজিত হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে পরাজিত হয়েছে। আওয়ামী লীগের নির্ভরশীলতা জনগণের উপর নেই, তাদের নির্ভরশীলতা পুলিশ, র্যাব ও আনসারের একাংশের ওপর। এই একাংশ এই অবৈধ অনির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতায় রাখার জন্য বেআইনি কাজ করছেন, জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে ও সংবিধান লঙ্ঘন করছেন । এই একাংশের কাছে অনুরোধ এই পথ থেকে সরে আসেন। দেশের জনগণ জেগেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের উদ্দেশে আমীর খসরু বলেন, জনগণের চলমান আন্দোলনের সাথে সামিল হন। আপনারা যারা পুলিশ, র্যাব, আনসারে আছেন সরকারি কর্মকর্তা আছেন আপনারা আপনাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব নির্বিঘ্নে পালন করতে পারবেন। আপনারা জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েন না, জনগণের পাশে থাকেন।
এ সময় তিনি বলেন, আমরা জয়ের শেষ ভাগ এসে পৌঁছেছি।
সহিংসতা কে করে, যার সাথে জনগণের সমর্থন নাই তারা। কোটি কোটি জনতা বিএনপির পক্ষে আছে আমরা কেন সহিংসতা করব? সরকারকে বলব ওই পথে যাইয়েন না। সুবোধ বালকের মতো গণতন্ত্রের পথে ফিরে আসেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেন আপনাদের জন্য ভালো হবে, দেশের জন্য ভালো হবে।
এই পদযাত্রা কর্মসূচিতে অংশ নেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, আসাদুজ্জামান রিপন, আমিনুল হক, কেন্দ্রীয় নেতা তাবিথ আউয়াল, আব্দুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, শহিদুল ইসলাম বাবুল, কামরুজ্জামান রতন, মাহবুবুল হাসান ভূঁইয়া পিংকু, ফখরুল ইসলাম রবিন, রেজওয়ানুল হক রিয়াজসহ ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি ও অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের কয়েক হাজার নেতাকর্মী।
দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যখন অস্থিরতা, তখন হঠাৎ করেই গতকাল রাত আড়াইটায় বেগম খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বিএনপি’র পক্ষ থেকে বলা হয়েছে বেগম খালেদা জিয়া অসুস্থবোধ করায় তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া। কিন্তু তিনি কি ধরণের অসুস্থতাবোধ করেছেন এ সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি। বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং বিএনপি নেতা ডক্টর জাহিদ বলেছেন যে, বেগম খালেদা জিয়ার পরীক্ষা নিরিক্ষা চলছে। কিন্তু একাধিক সুত্র বলছে যে, বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।
বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি হতে পারে বলে বিভিন্ন মহলে গুঞ্জন চলছে। তবে এই মুক্তির প্রক্রিয়া কিভাবে হবে তা নিয়ে অস্পষ্টতা রয়েছে। বিএনপি’র একটি সূত্র বলছে যে, আগামী রোববারের মধ্যে বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কারণে তার জামিনের জন্য হাইকোর্টে নতুন করে আবেদন করা হবে এবং হাইকোর্ট এই আবেদন বিবেচনা করবে বলে জানা গেছে। ইতোমধ্যে, খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আন্তর্জাতিক চাপ তৈরি হয়েছে বলেও বলছেন কেউ কেউ।
গতকাল ইউরোপীয় ইউনিয়নের ছয়জন এমপি এক বিবৃতিতে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবী করেছেন। যদিও ইউরোপীয় ইউনিয়নের ঢাকা অফিস বলছে এটি তাদের ব্যক্তিগত মতামত। এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের বক্তব্য নয়। কিন্তু ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান জোসেফকে যে চিঠি লেখা হয়েছে সেই চিঠিতে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি প্রথমবারের মত উত্থাপিত হয়েছে। এর ফলে বিষয়টি যে এখন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে তা নিশ্চিত হলো।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অস্ট্রেলিয়ার সাথে বিএনপি’র নেতৃবৃন্দের সাক্ষাতেও খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি আলোচনা করে। যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জাপানসহ পশ্চিমা দেশগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবী করেনি। তবে সর্বশেষ গত ডিসেম্বরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে মানবাধিকার প্রতিবেদন প্রকাশ করে সেই মানবাধিকার প্রতিবেদনে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলাকে রাজনৈতিক হয়রানি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে না বললেও বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি এখন রাজনীতির টেবিলে আছে এবং কূটনীতিকরা একটি রাজনৈতিক সমঝোতার লক্ষ্যে খালেদা জিয়ার মুক্তি হওয়া উচিত বলেও মনে করছেন।
তবে সরকারের পক্ষে থেকে সরাসরি বলা হচ্ছে যে, খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি তাদের নয়, এটি আইনগত ব্যাপার। বেগম খালেদা জিয়া যেহেতু হাইকোর্ট থেকে দণ্ডিত হয়েছেন কাজের আদালতের মাধ্যমেই তাকে জামিন বা মুক্তির প্রক্রিয়া করতে হবে। সরকার মানবিক কারণে যতটুকু তার কর্তৃত্বের মধ্যে থাকে ততটুকু করেছেন।
উল্লেখ্য যে, ২০২০ সালে মার্চে প্রধানমন্ত্রী তার বিশেষ নির্বাহি ক্ষমতা প্রয়োগ করে বেগম খালেদা জিয়ার দণ্ডাদেশ স্থগিত করে তাকে ফিরোজায় থাকার অনুমতি দেন। তারপর থেকে প্রতি ছয় মাস অন্তর অন্তর আইন মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী আদেশ বলে তার জামিনের মেয়াদ বারিয়ে চলছেন। কিন্তু এই নির্বাহি আদেশে জামিন আর আদালতের আদেশে জামিনের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। নির্বাহি আদেশে জামিন হল শর্তযুক্ত। এই শর্তের মধ্যে তিনি শুধু চিকিৎসা করার অনুমতি পাবেন। বেগম খালেদা জিয়ার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ নিয়ে যাওয়ার কথা বলছেন। কেউ কেউ মনে করছেন হঠাৎ করে বেগম খালেদা জিয়ার হাসপাতালে যাওয়া, খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবী করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৬ সদস্যের বিবৃতি এবং সামগ্রিক রাজনীতির পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি নতুন করে আলোচিত হতে পারে।
যেহেতু তিনি এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, আদালত তার বয়স, অসুস্থতা এবং তিনি একজন নারী এসব বিবেচনা করে তাকে জামিন দিতেও পারেন। এখন বিষয়টি সম্পূর্ণ আদালতের এখতিয়ারাধীন। তবে কোন প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়া মুক্ত হবেন সেটি বোঝা যাবে খুব শীঘ্রই।
জনতার আওয়াজ/আ আ