১১ মার্চ ঢাকাসহ সারা দেশে বিভাগীয় শহরে মানববন্ধন করবে গনতন্ত্র মঞ্চ
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শনিবার, মার্চ ৪, ২০২৩ ২:১৬ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শনিবার, মার্চ ৪, ২০২৩ ২:১৬ অপরাহ্ণ

গনতন্ত্র মঞ্চের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করে ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু বলেছেন, ‘আমরা আগামী ১১ ই মার্চ ঢাকাসহ সারা দেশের সকল বিভাগীয় শহরে মানববন্ধন কর্মসূচি করবো।’
শনিবার (৪ মার্চ) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গনতন্ত্র মঞ্চের উদ্যোগে, ‘সরকার ও শাষণ ব্যাবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হোন’ ব্যানারে বিরোধী মতের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে দমন পীড়ন ও দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
সভাপতির বক্তব্যে ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু বলেন, ‘আমি আজকের গনতন্ত্র মঞ্চের এই কর্মসূচিতে আগত সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। সরকার বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের উপর জুলুম নির্যাতন করছে ও রমজানের আগেই সব কিছুর দাম বাড়িয়েছে। সিন্ডিকেট ব্যাবসার জন্য সব কিছুর দাম বেড়েছে। সরকার বিদেশী ভারতীয় প্রভুকে খুশি করতে আদানী গ্রুপের সাথে চুক্তি করেছে। ইতিমধ্যেই সরকার সংলাপের বিষয়ে কথাবার্তা শুরু করেছে। আগে আপনাদের ঘোষণা দিয়ে পদত্যাগ করতে হবে, তাহলে আমরা বিবেচনা করবো আপনাদের সাথে আলোচনা যাবো কিনা। বিএনপির সাথে যুগপথ আন্দোলন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। অবিলম্বে আদানী গ্রুপের সাথে চুক্তি বাতিল করুন না হলে আমরা বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করবো।’
নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘১৮ সালে দিনের ভোট রাতে করার পরে এই সরকার দেশের ভেতরে ও বাইরে আন্তর্জাতিক ভাবেও সমালোচিত হয়েছে। জাপানি রাষ্ট্রদূত দিনের ভোট রাতে হয়েছে বলেছে। আমেরিকার বিভিন্ন প্রতিনিধিরা এদেশে বার-বার আসছে এতেই বোঝা যায় এই সরকার কতোবড় জচ্চুরি করছে। এই সরকার আবারও বিদেশীদের বলছে গ্রহনযোগ্য নির্বাচন করবে। বিদেশীদের যতোই বোঝান আপনার অধীনে আমরা আর নির্বাচনে যাবো না। আমরা যেমন শান্তি পূর্ণ কর্মসূচি পালন করতে পারি, তেমনি দূর্বার আন্দোলনও সৃষ্টি করতে পারি। আমাদের আন্দোলন দমিয়ে রাখতে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের উপর হামলা-মামলা করছে সরকার।’
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী গতবারের নির্বাচনের আগে বলেছিলেন আমি বঙ্গবন্ধু কন্যা আমি মিথ্যে কথা বলিনা, আমরা দেখেছি তারা কি করেছে গত নির্বাচনে। কিন্তু এবার আর মিথ্যুকদের কথা বিশ্বাস করবো না, তাই এই সরকারের পতন ঘটানোর জন্য আন্দোলন করতে হবে তার কোনো বিকল্প নাই। আমরা এই সরকারের অধীনে আর কোনো নির্বাচনে যাবো না। তাদের সংলাপের টোপে আমরা পরবো না। আমরা ইতিমধ্যেই বিএনপির সাথে যুগপথ আন্দোলনের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করছি এবং অচিরেই বিএনপির সাথে গনতন্ত্র মঞ্চ সরকার পতনের একদফা কর্মসূচি দিয়ে রাজপথে থাকবো।’
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাইফুল হক বলেন, ‘আওয়ামী লীগ আজকেও বিরোধী দলের কর্মসূচীর দিনে শান্তি সমাবেশের নামে পাল্টা কর্মসূচি দিয়েছে। এই ধরনের কর্মসূচিকে জনগণ নার্ভাস দলের কর্মসূচি নাম দিয়েছেন। সন্ত্রাস না করে আওয়ামী লীগ কোনো ভাবেই ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবেন না। তারা ছাত্রীকে বিবস্ত্র করে সমস্ত বাংলাদেশকে বিবস্ত্র করেছে। তাই তাদের বিদায় করা ছাড়া আর কোনো উপায় নাই। রোজার আগেই সিন্ডিকিটের মাধ্যমে বাজার অস্থির অবস্থায় নিয়ে গেছে। এর পরেও তারা বলে মানুষ নাকি বেহেস্তে আছে, তারাই শুধু বেহেস্তে আছে। তারা একটি পলিসি নিয়েছে লুটপাট টাকা বিদেশে পাচার করে দেওয়া। আমরা জালিয়াতি কোম্পানি আদানী যাদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই ভারতে আন্দোলন শুরু হয়েছে তাদের সাথে সরকারের চুক্তি বাতিল করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। এভাবে চলতে থাকলে বাংলাদেশ একটি ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে যাবে। রোজার আগে ও পরে গনতন মঞ্চ বিএনপির সাথে যুগপথ আন্দোলনে থাকবে। দুই ঈদের মাঝখানে গন আন্দোলন করে এই সরকারের বিদায় করবো। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই বিএনপির সাথে গনতন্ত্র মঞ্চ যুগপথ আন্দোলনের রূপরেখা ঘোষণা করবো। বিজয় অর্জন ছাড়া মানুষ ঘরে ফিরবে না।’
গনসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘আজকে আমরা যুগপথ আন্দোলনের অংশ হিসেবে পদযাত্রা করছি। আমরা আজকে এমন একটি সরকার ব্যবস্থায় আছি যারা সমস্ত জিনিস পত্রের দাম বাড়িয়ে জনগণকে একটি ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে ঠেলে দিয়েছে। তারা কিভাবে হাজার-হাজার কোটি টাকা লুটপাট করা যায় ও নিজেদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করা যায় তা নিয়ে ব্যস্ত। তারা ভাবে তাদের হাতে দুটো অস্ত্র আছে, মানুষ কে ভয়ভীতি ও হামলা মামলা করা। তাদের নিজস্ব বাহিনী লাঠিয়াল ছাত্রলীগকে লেলিয়ে দিয়েছে। কুস্টিয়ায়, চট্টগ্রামে, রাজশাহীতে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্যাতন করছে সাধারণ ছাত্রদের ভয় দেখানোর জন্য। গনঅধিকার পরিষদের সদস্যদের উপর হামলা করেছে আবার উল্টো মামলা দিয়েছে। ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য বিদেশীদের খুশি করছে। আমরা পরিস্কার করে বলতে চাই, এই বার আক্রমণও বিদেশীদের খুশি করে আর ক্ষমতায় থাকতে পারবে না। এবার সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাস্তায় নেমে এসেছেন, তাই আর ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না।’
রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক এডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম বলেন, ‘আপনারা জানেন বাংলাদেশ একটি ভয়াবহ পরিস্থিতি দিকে যাচ্ছে। যাদের জনগণ নিয়ে ভাবার কথা তারা জনগণের টাকা লুটপাট করে বিদেশী কোম্পানির হাতে তুলে দিচ্ছে। আদানী গ্রুপের সাথে চুক্তি করে টাকা বিদেশে পাচার করতে যাচ্ছে। সংবিধানের ৪৫ অনুচ্ছেদ এ বাংলাদেশ বিরোধী কোনো কাজ করতে পারে না, এমন বলা হলেও তারা তা মানছে না। এখন যেকোনো সমস্যার মূলে এই অবৈধ সরকার। আমরা গনতন্ত্র মঞ্চ ১৪ দফার ডাক দিয়েছি তা সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বাস্তবায়ন করতে হবে।’
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডির) সাধারণ সম্পাদক শহিদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন বলেন, ‘আজকে জনগণ কি দুঃসহ জীবন-যাপন করছে তা সবাই জানেন। প্রতিদিন নিয়ন্ত্রণহীন ভাবে সরকার জিনিস পত্রের দাম বাড়াচ্ছে। এই মাফিয়া সরকারের জনগণকে নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই। তাই জনগণকে বাঁচতে হলে লড়াই করা ছাড়া কোনো বিকল্প নাই। এই সরকারের ছাত্রলীগ সাধারণ ছাত্রদের ওপর নির্মম নির্যাতন করছে। এই সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। তাদের পতন ছাড়া জনগণের মুক্তি নাই।’
গণঅধিকার পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান বলেন, ‘বাংলাদেশের একটি ভয়াবহ সংকটে আছে। মান্না ভাই বলেছেন সরকার ইতিমধ্যেই সংলাপের আহ্বান জানাচ্ছে, আমরা সরকারের ধোকায় পা দিবো না। রমজানে আগে সব কিছু দাম বাড়িয়েছে। আবারও যদি সরকার দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে চায় তাহলে তাদের গলায় গামছা পেঁচিয়ে নামাবো। এরশাদ, আইয়ুব খানের মতো অবস্থা হবে আপনাদের। আমরা আপনাদের সবাইকে রাজপথে নেমে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে আহ্বান জানাচ্ছি।’
ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু সভাপতিত্বে ভাসানী অনুসারী পরিষদের সদস্য সচিব হাবিবুর রহমান রিজু সঞ্চালনায় সমাবেশে উপস্থিতি ছিলেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকী, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক এডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডির) সাধারণ সম্পাদক শহিদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, গন অধিকার পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান সহ গণতন্ত্র মঞ্চের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য, গনতন্ত্র মঞ্চের বিক্ষোভ সমাবেশ প্রেসক্লাবে সমাপ্তি ঘোষণা করে গনতন্ত্র মঞ্চের নেতৃবৃন্দের নেতৃত্বে পদযাত্রা প্রেসক্লাব থেকে শুরু হয়ে সেগুনবাগিচা হয়ে কাকরাইল মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।
জনতার আওয়াজ/আ আ