১৫ আগস্টে গণমাধ্যমে বড় শিরোনাম হলেও জিয়াউর রহমানকে শহিদ বলা হয় না: রিজভী - জনতার আওয়াজ
  • আজ দুপুর ১২:০৪, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

১৫ আগস্টে গণমাধ্যমে বড় শিরোনাম হলেও জিয়াউর রহমানকে শহিদ বলা হয় না: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২, ২০২৫ ৭:৩৭ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২, ২০২৫ ৭:৩৭ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
গণমাধ্যমের উদ্দেশে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এড. রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, যিনি দেশে বহু দলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্তে শহীদ হয়েছেন, সেই জিয়াউর রহমানের নামের আগে আজও অনেক গণমাধ্যমে “প্রয়াত” শব্দটি ব্যবহার করা হয়। অথচ স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবেও তাঁকে স্বীকৃতি দেওয়া হয় না। আমি সেই সব গণমাধ্যমকে বলতে চাই—আপনারা কি শেখ হাসিনার আমলে বঙ্গবন্ধু-শেখ হাসিনা ছাড়া অন্য কারও কথা বলতে পেরেছেন? জাতির পিতা ছাড়া অন্য কোনো প্রসঙ্গ তুলতে পেরেছেন? যদি তুলতেন, তাহলে কি আপনাদের অস্তিত্ব থাকত? আপনারা ১৫ আগস্ট নিয়ে বড় বড় শিরোনাম দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু জিয়াউর রহমানকে শহীদ বলা বা স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে উল্লেখ করতে গিয়ে আপনাদের এত সংকোচ কেন?

তিনি বলেন তারপরও আমরা দেখি, গণতন্ত্রে মত প্রকাশের কিছুটা স্বাধীনতা এখনও আছে। কিন্তু আপনাদের এই আচরণে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের হৃদয়ে যে আঘাত দিচ্ছেন, সেই আঘাত কোনো দিন ভোলা যাবে না।

মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের অডিটোরিয়ামে উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরামের উদ্যোগে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কারামুক্তি দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘আমরা প্রত্যেকে ভুক্তভোগী। সবাই সর্বনিম্ন ৫০০শ মামলায় আক্রান্ত। আমরা যারা আক্রান্ত, কিন্তু আমাদের সামনে অন্য কেউ লাঞ্ছিত হোক, সেটা আমরা চাই না। যারা ফ্যাসিবাদকে সমর্থন ও ফ্যাসিবাদের বয়ানে সুর মিলিয়েছে তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা উচিত। জনগণ তাদের বিচার দেখতে চায়।’

জাতীয় পার্টির মহাসচিবের এক বক্তব্যকে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেছেন যে, জাতীয় পার্টির দায় এখন বিএনপিকে নিতে হবে। বিএনপি তো এখন রাষ্ট্র ক্ষমতায় নেই। এখনো তো অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি। তাহলে আপনি (জাতীয় পার্টির মহাসচিব) কীসের দায়’র কথা বলছেন। নুরুল হক নুর ডাকসু’র সাবেক ভিপি, তাকে একটি কার্যালয়ের মধ্যে আক্রমণ করা হলো। আমরা প্রথমে শুনেছিলাম জাতীয় পার্টির সাথে গোলমাল। কিন্তু তাকে (নুর) যে আঘাত করছে, সেই লাল শার্ট পরা লোকটা কে? যে কেউ কারো বিরুদ্ধে কথা বলতে পারে, এটা গণতন্ত্রের স্বীকৃত একটা পন্থা।’

‘যারা রাজনীতির কথা বলছেন, তারাও বিএনপির বিরুদ্ধে কথা বলতে পারেন। বিএনপির যদি কোথাও সমালোচনা করার থাকে, তাহলে বিএনপির সেখানে সমালোচনা করবে। আপনি (জাতীয় পার্টির মহাসচিব) আবার দায়িত্ব নেয়ার কথা বলছেন কেন? যে, বিএনপি, জাতীয় পার্টির দায়িত্ব পার্টির দায়িত্ব নিবে। আপনারা কারা? যখন ইলিয়াস আলী গুম হয়, তখন কোথায় ছিলেন? যখন চৌধুরী আলম, সাইফুল ইসলাম হিরু গুম হয়, তখন জাতীয় পার্টি কোথায় ছিল? যখন ছাত্রনেতা এবং যুব নেতারা গুম হয়, তখন জাতীয় পার্টি কোথায় ছিল?’—প্রশ্ন রাখেন তিনি।

রিজভী বলেন, ‘যখন ২০১৪ এর নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রে কোনো ভোটার নেই, সেখানে কুকুর-বিড়াল এবং গরু-ছাগল ঘুরে বেড়াচ্ছে, সেই নির্বাচনে যাবো না-যাবো না করতে করতে আপনারা (জাতীয় পার্টি) গেলেন। ২০১৮ সালে বিএনপি নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দেয়ার পর, প্রায় ৪৫ জন প্রার্থীকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়া হলো। বিএনপি নির্বাচনে আসুক, সেটা শেখ হাসিনা চায়নি। সেদিন জাতীয় পার্টি কি ভূমিকা রেখেছে?’

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে জিএম কাদের ভারতে গেলেন। তখন সাংবাদিকরা তাকে (জিএম কাদের) প্রশ্ন করলেন যে, আপনার সাথে কি কথা হলো। তখন জিএম কাদের বলেছেন যে, ওদের (ভারত) পারমিশন ছাড়া কিছু বলতে পারবো না। এই হচ্ছে জাতীয় পার্টি। আপনি কি ভারতের কোনো রাজনৈতিক দল? নাকি বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল? এই আপনাদের মেরুদণ্ড? এই আপনাদের নীতি এবং আদর্শ? এই আপনাদের চরিত্র?’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কোনো মব সংস্কৃতিতে বিশ্বাস করি না। কে রাজনীতি করবে কি করবে না, সেটা আইনের ব্যাপার। এটা সরকারের ব্যাপার। বিএনপি কোথাও কোনো মব সংস্কৃতি তৈরিও করেনি এবং বিএনপি উশৃংখল জনতা তন্ত্রে বিশ্বাসী নয়। কিন্তু বিএনপির তো একটা অ্যানালাইসিস আছে যে, জাতীয় পার্টির ভূমিকা কি ছিল। আরও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের ভূমিকা কি ছিল।’

বিএনপির এই নেতা বলেন,‘ভয়ংকর রক্তপিপাসু শেখ হাসিনার আওয়ামী ফ্যাসিবাদকে কারা রক্ষা করেছে, কারা ১৬ বছর জনগণের লক্ষ কোটি টাকা পাচারের সুবিধা করে দিয়েছে? কারা এই দেশকে আওয়ামী ভয়ংকর স্বেচ্ছা তন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করার দায়িত্ব পালন করেছে? তার মধ্যে একটি হচ্ছে জাতীয় পার্টি। আপনারা একটা কুলিং টাইম চান। ২০০৮-২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর শেখ হাসিনা ২ বছরের একটা কুলিং টাইম দিয়েছেন। তারপরে টর্চার করেছেন। বিএনপি কখনো টর্চারে বিশ্বাস করে না। কুলিং টাইম আবার কিসের। আর টর্চার-ই বা কিসের। বিএনপি তো ক্ষমতায় নেই। এখন তো নির্বাচনই হয়নি। বিএনপি কখনো, কোনো অবস্থাতেই বেআইনিভাবে কোনো নির্যাতন, অত্যাচারে বিশ্বাসী নয়।’

উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরামের প্রধান উপদেষ্টা আতিকুর রহমান রুমনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিএনপির মিডিয়া সেল’র আহবায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরীসহ আরও অনেক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ