১ কোটি ৭৬ লাখ শিশু টিকার আওতায়, শহরে কম: ইউনিসেফ - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১১:৩৫, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

১ কোটি ৭৬ লাখ শিশু টিকার আওতায়, শহরে কম: ইউনিসেফ

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শনিবার, মে ৯, ২০২৬ ২:৫৩ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শনিবার, মে ৯, ২০২৬ ২:৫৩ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি :সংগৃহীত

চলমান বিশেষ টিকাদান কর্মসূচিতে এ পর্যন্ত ১ কোটি ৭৬ লাখের বেশি শিশুকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউনিসেফ। সংস্থাটি বলছে, লক্ষ্যমাত্রার ৯৮ শতাংশ অর্জিত হলেও শহর এলাকায় এখনো ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ শিশু টিকার বাইরে থেকে গেছে।

শনিবার (৯ মে) বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব তথ্য জানান ইউনিসেফের হেলথ ম্যানেজার রিয়াদ মাহমুদ। দেশের চলমান হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন ও রুটিন টিকাদান পরিস্থিতি নিয়ে এই আলোচনার আয়োজন করা হয়।

রিয়াদ মাহমুদ জানান, এবারের ক্যাম্পেইনে ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ১ কোটি ৭৬ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে, যা একটি বড় অর্জন। তবে মাঠ পর্যায়ের মনিটরিং ডেটা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘শহর এলাকায় বিশেষ করে বস্তি ও ভাসমান জনগোষ্ঠীর ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ শিশু এখনো টিকা পায়নি। অন্যদিকে গ্রামে এই বাদ পড়ার হার প্রায় ১৫ শতাংশ।’

ক্যাম্পেইনে সাফল্য এলেও রুটিন টিকাদানে ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউনিসেফ। সংস্থাটির তথ্যমতে, রুটিন টিকাদানে হামের প্রথম ডোজের কভারেজ ৮৬ শতাংশ এবং দ্বিতীয় ডোজে তা ৮১ শতাংশে নেমে আসে। রিয়াদ মাহমুদ বলেন, ‘রুটিন টিকার এই ১৯ শতাংশ গ্যাপ পূরণ না হলে বারবার ক্যাম্পেইন করেও শিশুদের মৃত্যু ঠেকানো যাবে না।’

দেশের রোগ নির্ণয় ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সব পরীক্ষার জন্য ঢাকার ল্যাবে আসা সম্ভব নয়। আমরা সরকারকে পরামর্শ দিয়েছি যেন প্রতিটি বিভাগে বিভাগীয় ল্যাবগুলোকে শক্তিশালী করা হয়। এ কাজে ইউনিসেফ আর্থিক ও কারিগরি সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত।’

সম্প্রতি হামে ৩০০ শিশুর প্রাণহানির ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এটি কোনো সাধারণ ক্যাম্পেইন নয়, এটি জীবন বাঁচানোর লড়াই। কেন তথ্যের গ্যাপ হলো এবং কেন আমরা দেরিতে জানলাম, তা খতিয়ে দেখতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একটি ‘আফটার অ্যাকশন রিভিউ’ করবে। ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই প্রক্রিয়ায় সহায়তা করবে।’

বৈঠকে টিকার ক্ষেত্রে দাতা সংস্থা গ্যাবি (Gavi) এবং যুক্তরাষ্ট্র সরকারের (USAID) সহায়তার কথাও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। কোনো শিশু যেন টিকার বাইরে না থাকে, সেজন্য গণমাধ্যমকে জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান ইউনিসেফের এই কর্মকর্তা।

রিয়াদ মাহমুদ সতর্ক করে বলেন, ‘হামের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে অন্তত ৯৫ শতাংশ হার্ড ইমিউনিটি নিশ্চিত করতে হবে। যারা এখনো টিকা নেয়নি, তাদের ২০ মে’র মধ্যে টিকাকেন্দ্রে আনার অনুরোধ জানাচ্ছি। আগে টিকা দেওয়া থাকলেও ক্যাম্পেইনের এই বাড়তি ডোজ নেওয়া জরুরি।’

১৯৭৯ সাল থেকে ইউনিসেফ সরকারকে কারিগরি সহায়তা ও টিকা সরবরাহ করে আসছে। বর্তমানে তথ্য ব্যবস্থাপনার জন্য এমআইএস-এর সঙ্গে ড্যাশবোর্ড (CPI.gov.bd/mr) সচল রয়েছে, যেখান থেকে সাংবাদিকরা মুহূর্তেই টিকার সব তথ্য সংগ্রহ করতে পারবেন।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ