২০১৪ সালে কয়েকজন এরশাদের সঙ্গে বেইমানি করেছিলাম বলে নির্বাচন হয়েছিল : চুন্নু - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ৮:৪৪, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

২০১৪ সালে কয়েকজন এরশাদের সঙ্গে বেইমানি করেছিলাম বলে নির্বাচন হয়েছিল : চুন্নু

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, জানুয়ারি ৩১, ২০২৩ ৯:১৭ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, জানুয়ারি ৩১, ২০২৩ ৯:১৭ অপরাহ্ণ

 

সাবেক রাষ্ট্রপতি মরহুম হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নির্বাচনে জামানত বাজেয়াপ্ত ইস্যুতে গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদে সরকারদলীয় এমপি ও জাতীয় পার্টির এমপিদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে সংসদে রুলিং দিয়েছেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। আজ মঙ্গলবার সংসদের বৈঠকে স্পিকার সরকার দলের এমপির রাষ্ট্রপতির ভাষণের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয় এমন বিষয়গুলো এবং বিরোধী দলের এমপি কাজী ফিরোজ রশীদের বক্তব্যের অসংসদীয় ভাষা এক্সপাঞ্জ করেন।

এদিকে স্পিকারের রুলিংয়ের আগে জাতীয় পাার্টির সংসদ সদস্য ও দলটির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে সংসদে সোমবার এরশাদের জামানত বাতিল ইস্যুর প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলেন। তারা কয়েকজন ২০১৪ সালে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সঙ্গে বেইমানি ও বিদ্রোহ করে বেগম এরশাদের নেতৃত্বে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন বলে জানান।

অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, জাতীয় পার্টি সবসময় নির্বাচনমুখী দল। সেজন্য ২০১৫ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে।

বিরোধী দলের সংসদ বর্জনের রীতি যে ভালো না তা জাতীয় পার্টিই প্রমাণ করেছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘সংসদের ভেতরে ফাইল ছোড়াছুড়ি, স্পিকারের কাছে গিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা খারাপ উদাহরণ ছিল। আমরা একটা ভালো সংস্কৃতি চালু করেছি।’

২০১৪ সালে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘২০১৪ সালের নির্বাচন জাতীয় পার্টি বর্জন করেছিল। আমাদের চেয়ারম্যান প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ তিনি চূড়ান্ত সময় বললেন নির্বাচন করবেন না এবং সারা দেশের সব প্রার্থীকে তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহার করার জন্য চিঠি দেন। নির্বাচন থেকে প্রত্যাহার করে নেন। সেদিন এমন একটা অবস্থা হয়েছিল বিএনপি নির্বাচনে আসে না। কোনো দল আসবে না।

‘জাতীয় পার্টি যদি না আসে তাহলে বাংলাদেশে একটা অসাংবিধানিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো। সাংবিধানিক শূন্যতার সৃষ্টি হতো। সেইদিন বেগম রওশন এরশাদ এবং আমরা কয়েকজন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সঙ্গে বেইমানি ও বিদ্রোহ করে বেগম এরশাদের নেতৃত্বে নির্বাচন করেছিলাম।’

লালমনিটরহাট-১ আসনে এরশাদের নির্বাচন প্রসঙ্গ টেনে পার্টির মহাসচিব বলেন, ‘সেই নির্বাচনের সময় এরশাদ সাহেব লালমনিরহাট, রংপুরসহ কয়েকটি আসনেই আগেই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। রংপুরেও তিনি নির্বাচন করতে চাননি। আমরা শুধু বৈধতার জন্য… এই সংসদে এরশাদ সাহেবের মতো লোক আছে, এটা প্রমাণ রাখার জন্য সেদিন আমরা কষ্ট করে তাকে নির্বাচন করার ব্যবস্থা করেছি। লালমনিরহাটে তিনি নির্বাচন করেন নাই।’

লালমনিরহাট-১ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি মোতাহার হোসেনকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘গতকালকে যিনি বক্তব্য রাখলেন। ২০১৪ সালে আমরা বেগম এরশাদের নেতৃত্বে নির্বাচনে না আসতাম তাহলে তিনি এমপি বা প্রতিমন্ত্রীও হতে পারতেন না। আমাদের নির্বাচন করার কারণে তিনি প্রতিমন্ত্রী হতে পেরেছিলেন। মানুষ যে কেন ভুলে যায় অতীত।’

চুন্নু বলেন, ‘২০১৪ সালে এরশাদ সাহেবের সঙ্গে আমরা কয়েকজন বেইমানি করে নির্বাচন করেছিলাম বলেই নির্বাচন হয়েছিল। তিনি প্রতিমন্ত্রী হয়েছিলেন। আজকে কী করে এরশাদ সাহেব সম্পর্কে এই কথা বলতে পারে। এরশাদ সাহেব আর যাই করেন কাবিখা বিক্রি করেন নাই। বালু বিক্রি করেন নাই। অনেকেই এগুলো করেন।’

পরে সোমবারের বক্তব্যের বিষয়ে স্পিকার রুলিং দিয়ে রাষ্ট্রপতির ভাষণের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয় এমন সব বক্তব্য এক্সপাঞ্জ এবং বিরোধী দলের সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদের অসংসদীয় ভাষা এক্সপাঞ্জ করার ঘোষণা দেন।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ