২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার পর বিএনপির রাজনীতি করার অধিকার নেই : হানিফ - জনতার আওয়াজ
  • আজ বিকাল ৫:৩৫, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার পর বিএনপির রাজনীতি করার অধিকার নেই : হানিফ

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, আগস্ট ২৪, ২০২২ ২:৩৬ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, আগস্ট ২৪, ২০২২ ২:৩৬ অপরাহ্ণ

 

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার পর বিএনপি বাংলাদেশে রাজনীতি করার নৈতিক অধিকার হারিয়ে ফেলেছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ এমপি।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে হয়। বিএনপি গ্রেনেড হামলা চালিয়ে বিরোধী দলের নেতাদের নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার যে কাজটি রাষ্ট্রীয় যন্ত্র ব্যবহার করে করেছে এরপর তাদের রাজনীতি করার নৈতিক অধিকারই থাকে না।

বুধবার (২৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে দশটায় জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে গ্রেনেড হামলায় নিহত আওয়ামীলীগ নেত্রী বেগম আইভি রহমানের ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভার আয়োজন করে বেগম আইভি রহমান মৃত্যুবার্ষিকী পালন কমিটি।

মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, একাত্তরে গোলাম আজমের নেতৃত্বে গণহত্যা হয়েছে। ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত হাওয়া ভবন বানিয়ে বিএনপি তারেক রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের ২৬ হাজার নেতা-কর্মী হত্যা করেছে। ২১ আগস্ট তার মধ্যে অন্যতম। গোলাম আজমের গণহত্যা আর তারেক জিয়ার গণহত্যা একই। একাত্তরে গণহত্যার কারণে জামায়াত দেশে রাজনীতি করার নৈতিক অধিকার হারিয়েছে। এরপর বিএনপিরও এদেশে রাজনীতি করার নৈতিক অধিকার থাকার কথা নয়।

দেশের জনগণকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, যে দল রাষ্ট্র যন্ত্রকে ব্যবহার করে বিরোধী দলের নেতাদের নিশ্চিহ্ন করতে গ্রেনেড হামলা ঘটাতে পারে তাদের রাজনীতি করার নৈতিক অধিকার থাকতে পারে কি? ঘৃণ্য হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে যারা ক্ষমতায় থাকতে চায়, ক্ষমতা দখল করতে চায় তাদেরকে রাজনীতি থেকে বিতাড়ন করে যত দ্রুত একঘরে করে দেয়া যায় ততই মঙ্গল।

হানিফ বলেন, ’৭৫ পরবর্তী সময়ে সবচেয়ে কলঙ্কময় দিন ২১ আগস্ট। রাষ্ট্র যন্ত্র ব্যবহার করে বিরোধী দলের সমাবেশে হামলা চালানোর পর মির্জা ফখরুলসহ বিএনপি অনেকই সাফাই গাওয়ার চেষ্টা করেন। অবাক হয়ে যেতে হয়। অথচ পৃথিবীর ইতিহাসে বিরোধী দল শীর্ষ নেতাদের হত্যার জন্য রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে হামলা দ্বিতীয়টি হয়েছে জানা নেই। এ ঘৃণ্য ইতিহাস শত শত বছর ধরে লেখা থাকবে।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, আল্লাহর রহমতে সেদিন গ্রেনেড হামলা থেকে বেঁচে গিয়েছি। হাসপাতালে গিয়ে যখন টেবিলের ওপর আইভি রহমানকে দেখলাম জীবিত না মৃত বুঝা যাচ্ছিলো না। নিষ্পলক চোখে তাকিয়ে ছিলেন। দুই পা নেই। কি বিভৎস, মর্মান্তিক দৃশ্য।
গ্রেনেড হামলা কারা করেছিলো? কিভাবে ঘটিয়েছিলো? এমন প্রশ্ন রেখে আওয়ামী লীগের এই সিনিয়র নেতা বলেন, বিএনপি রাষ্ট্রীয় যন্ত্র ব্যবহার করে এ হত্যাকাণ্ড চালিয়েছিলো। হাওয়া ভবন বানিয়ে সীমাহীন দুর্নীতি করায় মানুষ তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলো। তারা বুঝেছিলো আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারলে আর কেউ প্রতিবাদ করতে পারবে না। তাহলে তারা আজীবন ক্ষমতায় থাকতে পারবে।

২০০৪ সালে বিএনপি শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে মরিয়া হয়ে গিয়েছিলো উল্লেখ করে হানিফ বলেন, তাদের গ্রেনেড হামলার মূল লক্ষ্য ছিলো শেখ হাসিনাকে হত্যা করা।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাকারীদের পালিয়ে যেতে বিএনপি সহযোগিতা করেছিলো এমন অভিযোগ করে তিনি বলেন, খালেদা জিয়া, তারেক নেতৃত্বে এ হামলা হয়েছিলো। তার প্রমাণ তারা রেখে গেছে। হামলার পর পুলিশ টিয়ারশেল, লাঠিচার্জ করে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের সরিয়ে খুনীদের নিবিঘ্নে পলায়নে সহায়তা করেছে। হতাহতদের উদ্ধারের ব্যবস্থা না করেসিটি করপোরেশনের গাড়ি দিয়ে পানি ছিটিয়ে মামলার আলামত ধ্বংস করে দিয়েছিলো।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মরহুম জলিল সাহেব, সাবের হোসেন থানায় মামলা করতে গেলে মামলা না নিয়ে তাদেরকে ঘুরানো হলো। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রেখে মামলা নেয়া হলো না। বলা হলো উপরের নির্দেশে নিতে পারছি না। তারা যদি জড়িত না থাকবে তাহলে তারা কেন এই কাজ করেছে?

হানিফ বলেন, সংসদের নিয়মানুযায়ী সংসদ নেতা, বিরোধী দলীয় নেতা যখনই বক্তব্য দিতে চাইবেন দিতে পারেন কিন্তু গ্রেনেড হামলার পর তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনা বক্তব্য দিতে চাইলে মাইক বন্ধ করে দেয়া হয়। খালেদা জিয়া বললেন, শেখ হাসিনাকে কে মারতে যাবে, সে নিজেই ভ্যানিটি ব্যাগে করে গ্রেনেড নিয়ে গেছে। কি নিষ্ঠুর প্রতিহিংসা পরায়ণ তামাশা।

আওয়ামী লীগের এ জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, হামলার পর বিএনপি জজ মিয়া নাটক সাজিয়ে মামলা ভিন্নখাতে নেয়ার চেষ্টা করেছিলো। পরে খুনীদের স্বাক্ষিতে প্রমাণ হয়েছে লুটেরা তারেক হাওয়া ভবনে বসে বিএনপি শীর্ষ নেতা ও জঙ্গীদের নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করে হামলার পরিকল্পনা করেছে। গ্রেফতার হওয়া মুফতি হান্নান স্বাক্ষ্য দিয়েছে কিভাবে হাওয়া ভবনে বসে তারেক রহমান, লুৎফুজ্জামান বাবর, আব্দুস সালম পিন্টু, জামায়াতের সেক্রেটারি আলী আহসান মুজাহিদ, বঙ্গবন্ধুর খুনি মেজর নূর মিলে দফায় বৈঠক করে হামলার পরিকল্পনা করেছে। হামলার জন্য পাকিস্তান থেকে আর্জেস গ্রেনেড আনা হয়েছে।

তারেক রহমানের নূন্যতম মানবিকতা, রাজনীতির শিষ্টাচার নেই উল্লেখ করে বলেন, সোশাল মিডিয়ায় দেখেছি তারেক রহমান বললেন, গ্রেনেড হামলার জন্য নাকি শেখ হাসিনা দায়ী। তার প্রশ্ন মুক্তাঙ্গনে আওয়ামী লীগের জনসভা ছিলো, দেড় ঘণ্টা আগে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে কিভাবে গেলো। তারেক এসব কোথায় পেলো। দুর্নীতিবাজ তারেকের মিথ্যাচার সবকিছুকে ছাড়িয়ে গেছে। জনসভা কোথায় ছিলো সেদিনের পোস্টারে লেখা আছে। ২১ তারিখ সকালে প্রথম সারির পত্রিকায়ও ছাপা আছে। এরপরও কিভাবে নির্লজ্জ মিথ্যাচার করে।

বিএনপি মহাসচিবকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, বিএনপিতে অনেকে শিক্ষক, উচ্চ শিক্ষিত আছেন। মির্জা ফখরুল সাহেবও শিক্ষক ছিলেন। একজন উচ্চশিক্ষিত মানুষ হয়ে তিনি কিভাবে মিথ্যাচার করেন বোধগম্য হয় না।

এসময় তিনি ১৫ আগস্ট ও ২১ আগস্ট পলাতক খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকরের মধ্য দিয়ে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করা হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী এমপি। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী এডভোকেট আ ক ম মোজাম্মেল হক। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান এমপি, আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, কানিজ ফাতেমা আহমেদ এমপি ও আওয়ামী লীগ নেতা এম এ করিম। সভাপতিত্ব করেন লায়ন মশিউর আহমেদ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ