২৫ বছর পর গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের আশা, তবে শঙ্কা গভীর: মাহমুদুর রহমান
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শনিবার, ডিসেম্বর ২৭, ২০২৫ ৪:১১ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শনিবার, ডিসেম্বর ২৭, ২০২৫ ৪:১১ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
২০০১ সালের পর বাংলাদেশে প্রকৃত অর্থে আর কোনো সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। তিনি বলেন, প্রায় ২৫ বছর পর একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের প্রত্যাশা তৈরি হলেও বর্তমান বাস্তবতায় তা নিয়ে গভীর শঙ্কা রয়ে গেছে।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে “আগামী জাতীয় নির্বাচন ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ” শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহমুদুর রহমান বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচন কোনোভাবেই ফ্রি ও ফেয়ার ছিল না। এটি ছিল একটি ম্যানেজড নির্বাচন। বিএনপিকে সেখানে মাত্র ৩০টি আসনে জয়ী হতে দেওয়া হয়েছিল।”
লক্ষ্মীপুরের চারটি আসনে বিএনপির জয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সেখানে প্রশাসনের নিরপেক্ষ অবস্থানের কারণেই জনগণ ভোট দেওয়ার সাহস পেয়েছিল।” এটি প্রমাণ করে যে, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রশাসনের নিরপেক্ষতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
২০০৭–০৮ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফখরুদ্দিন আহমেদের সরকার ছিল সামরিক বাহিনীনির্ভর এবং এর পেছনে ভারতের সুস্পষ্ট ভূমিকা ছিল।
তিনি বলেন, “ফখরুদ্দিন সরকারকে ভালো সরকার বলা মানে ইতিহাস ভুলে যাওয়া। সামনে ছিলেন ফখরুদ্দিন–মঈনুদ্দিন, পেছনে ছিল দিল্লি।”
বর্তমান সরকার সম্পর্কে মাহমুদুর রহমান বলেন, গত ১৬ বছরে গড়ে ওঠা দলীয়করণকৃত প্রশাসন এখনো মুক্ত করা যায়নি। দেড় বছর সময় পেয়েও নিরপেক্ষ পুলিশ বাহিনী গড়ে না তোলাকে তিনি সরকারের বড় ব্যর্থতা হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, দলীয় প্রশাসন দিয়ে কীভাবে একটি ফ্রি, ফেয়ার ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন সম্ভব?
নির্বাচনের আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তিনি সহিংসতার আশঙ্কার কথা তুলে ধরেন। গোপালগঞ্জসহ বিভিন্ন ঘটনার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন সহিংসতা ঠেকাতে সরকারের কোনো স্পষ্ট পরিকল্পনা দৃশ্যমান নয়।
ভারতের ভূমিকা প্রসঙ্গে মাহমুদুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ভারতের স্বার্থের বিরুদ্ধে যায়। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের অধিকাংশ গণমাধ্যম ভারতীয় ন্যারেটিভের প্রভাবে পরিচালিত হওয়ায় ভারতে সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিষয়গুলো যথাযথভাবে উঠে আসে না।
বর্তমান সরকারের সিদ্ধান্তহীনতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “সিদ্ধান্ত না নিতে পারলে কেউ নেতা হতে পারে না। রাষ্ট্র পরিচালনায় কখনোই ‘বেস্ট টাইম’ আসে না।”
জুলাই আন্দোলনের পরও রাজনৈতিক দলগুলো সংকীর্ণ দলীয় মানসিকতা থেকে বের হতে পারেনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি প্রস্তাব দেন, সব রাজনৈতিক দল যেন একটি ‘সিটিজেন চার্টার’ প্রকাশ করে নির্বাচনে কারচুতি না করার অঙ্গীকার জানায়।
ইলেকশন কমিশন (ইসি) প্রসঙ্গে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “তফসিল ঘোষণার পর একজন প্রার্থী নিহত হলেও মাঠে ইসির দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি।”
মাহমুদুর রহমান বলেন, এই নির্বাচন যদি সঠিকভাবে না হয় এবং ফলাফল সবাই মেনে না নেয়, তাহলে দেশের জন্য ভয়াবহ ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে।
সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আল্লাহর ওয়াস্তে, আগামী নির্বাচনটি যেন সবাই মিলে ফ্রি ও ফেয়ারভাবে সম্পন্ন করি—যাতে তরুণদের আত্মত্যাগ বৃথা না যায়।
জনতার আওয়াজ/আ আ