২৮ হাজার বাস সরানো নিয়ে যা বললেন রিজওয়ানা হাসান - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১০:৪৯, সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৯শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

২৮ হাজার বাস সরানো নিয়ে যা বললেন রিজওয়ানা হাসান

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শনিবার, জানুয়ারি ২৪, ২০২৬ ৬:০০ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শনিবার, জানুয়ারি ২৪, ২০২৬ ৬:০০ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, ঢাকার বায়ুদূষণের অন্যতম উৎস পুরোনো বাস ও নির্মাণসামগ্রী। তবে শহরের বিদ্যমান ২৮ হাজার পুরোনো বাস মাত্র দেড় বছরের মধ্যে সরিয়ে ফেলা সম্ভব নয়।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদফতরে আয়োজিত ‘নির্বাচন ম্যানুফেস্টো টক’ শীর্ষক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানান, ঢাকার বায়ুদূষণের ১৩ শতাংশ আসে ইটভাটা ও নির্মাণসামগ্রী থেকে এবং ৬ শতাংশ আসে পুরোনো বাস থেকে। বর্তমানে ঢাকায় কালো ধোঁয়া নির্গত করে না এমন বাস খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। তিনি বলেন, ‘পরিবেশ রক্ষায় আমরা সমাধানের প্রক্রিয়া শুরু করেছি। পরবর্তী সরকার এটি চালু রাখবে কি না, সেটিই এখন মূল বিষয়।’

বিগত সরকারগুলোর সমালোচনা করে উপদেষ্টা বলেন, আগে পরিবেশ কখনোই প্রাধান্য পায়নি; এমনকি গুরুত্বের দিক থেকে পরিবেশ অধিদফতর শেষ ১০টি প্রতিষ্ঠানের তালিকায় ছিল। তবে বর্তমান সরকারের পদক্ষেপের ফলে ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে ঢাকা বায়ুদূষণে শীর্ষে থাকার হার কমেছে।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, সাভারের ইটভাটা বন্ধ রাখা এবং নির্মাণসামগ্রী ঢেকে রাখা নিশ্চিত করা গেলে আগামী তিন বছরের মধ্যে ঢাকা দূষণের শীর্ষ অবস্থান থেকে সরে আসবে। এ ক্ষেত্রে তিনি বেইজিংয়ের উদাহরণ টেনে জনসম্পৃক্ততার ওপর জোর দেন।

শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে রিজওয়ানা বলেন, মাত্র ৪-৬ জন ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে শব্দ দূষণ রোধ করা সম্ভব নয়। তাই সংশোধিত বিধিমালায় পুলিশকে শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণের নতুন দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে।

বন ও নদী রক্ষা প্রসঙ্গে উপদেষ্টা জানান, শালবন, চুনোতি অভয়ারণ্য ও সোনাদিয়াকে দখলমুক্ত করা হচ্ছে। সোনাদিয়াতে ইকো-পার্কের নামে নেওয়া ২০ হাজার একর বনভূমি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকার চারপাশের নদী (বুড়িগঙ্গা ব্যতীত) ও ২০টি খাল রক্ষায় বিশ্বব্যাংকের কাছে প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে, যা পাস হলে প্রায় ৭৫০টি দূষণকারী প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে। তিস্তা নদী রক্ষার প্রকল্পটিও চীন কর্তৃপক্ষের কাছে দেয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

পলিথিন বর্জন প্রসঙ্গে জনগণের সচেতনতা কামনা করে তিনি বলেন, ‘সবাই বাজার থেকে পলিথিন নিয়ে বাসায় ফিরবেন আর বলবেন পলিথিন বন্ধ হয়নি, এটা তো হতে পারে না।’

তিনি আরও জানান, আটটি বিভাগীয় শহরের আটটি নদীকে দখল ও দূষণমুক্ত করার কাজ চলছে। এর মধ্যে ছয়টি প্রকল্পের অনুমোদন হয়েছে এবং বাকি দুটির অনুমোদনের প্রক্রিয়া চলছে।

পরবর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘প্রাকৃতিক বনগুলোকে ফিরিয়ে আনতে হবে। বায়ু ও শব্দ দূষণ রোধ, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ অব্যাহত রাখতে হবে। পরিবেশ ও প্রকৃতিকে প্রাধান্য দিলে প্রকৃত উন্নয়ন এমনিতেই ত্বরান্বিত হবে।’

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ