৩২ বছর পর ‘জল্লাদ’ শাহজাহানের মুক্তি
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
রবিবার, জুন ১৮, ২০২৩ ১:৫২ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
রবিবার, জুন ১৮, ২০২৩ ১:৫২ অপরাহ্ণ

নিউজ ডেস্ক
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ছয় আসামিসহ ২৬ জনের ফাঁসির দড়ি টানা আলোচিত ‘জল্লাদ’ শাহজাহান মুক্তি পেয়েছেন। ৩২ বছর সাজা ভোগের পর মুক্তি পেলেন তিনি।
কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে রবিবার (১৮ জুন) বেলা ১১টা ৪৬ মিনিটে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। দেশের বিভিন্ন কারাগারে ২৬ জনের ফাঁসি কার্যকর করেছেন তিনি।
কারা সূত্রে জানা গেছে, ‘জল্লাদ’ শাহজাহানের পুরো নাম শাহজাহান ভূঁইয়া। তিনি নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ইছাখালী গ্রামের মৃত হাছেন আলীর ছেলে। ৭৩ বছর বয়সী শাহজাহান ব্যক্তিগত জীবনে অবিবাহিত। তার কয়েদি নম্বর ছিল ২৫৮৯/এ। মুক্তির আগ পর্যন্ত তিনি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রধান জল্লাদ ছিলেন।
কারা কর্তৃপক্ষ আরো জানায়, ১৯৯১ সালে গ্রেফতার হয়ে প্রথমে মানিকগঞ্জ জেলা কারাগারে ছিলেন। সর্বশেষ তিনি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের কয়েদি ছিলেন। শাহজাহান ভূঁইয়ার মোট সাজা হয়েছিল ৪২ বছর। কিন্তু কারাগারের মধ্যে ভালো কাজ ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ফাঁসির রায় কার্যকর করতে জল্লাদের দায়িত্ব পালনের জন্য তার সাজার মেয়াদ ১০ বছর মওকুফ (রেয়াত) করা হয়। পাশাপাশি শাহজাহানের পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো না হওয়ায় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কারা কর্তৃপক্ষ তার জরিমানার ১০ হাজার টাকা পরিশোধ করেছে।
ফলে দীর্ঘ ৩১ বছর ৬ মাস ২ দিন কারাগারের চার দেয়ালের মধ্যে বন্দি জীবন কাটানোর পর এখন তিনি মুক্ত।
এদিকে কারাগার থেকে বেরিয়ে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। জল্লাদ শাহজাহান বলেন, আমার ঘর নাই, বাড়ি নাই, কোথায় যাবো? আমি আরেকজনের বাড়িতে উঠবো। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটাই অনুরোধ জানাই আমাকে যেন একটা বাড়ি দেওয়া হয়।
এখন আপনি কোথায় যাবেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার সঙ্গে কারাগারে একজন আসামি ছিলেন। তিনি খুব ভালো মানুষ। তার বাসা বসুন্ধরাতে। তার বাসাতে যাচ্ছি আমি। আপাতত সেখানেই থাকবো।
শাহজাহানের বিরুদ্ধে দুইটি মামলা দায়ের করা হয়। তার মধ্যে একটি হলো স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল ১৮/১৯৯২, মানিকগঞ্জ ০৩(১২)৯১, ধারা- অস্ত্র আইন ১৯(এ)। এই মামলায় শাহজাহানের ১২ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানার সাজা হয়েছিল। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে আরও ছয় মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ডের রায় হয়েছিল সেই মামলায়। যা কার্যকর শুরু হয় ১৯৯১ সালের ১৭ ডিসেম্বর থেকে।
অপর মামলাটি হলো দায়রা ৪০/৯২, মানিকগঞ্জ ২(১২)৯১, ধারা-৩৯৬ দণ্ডবিধি। এই মামলায় তার ৩০ বছরের সাজা হয়। পাশাপাশি পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাস কারাদণ্ডের রায় হয়। দুই মামলায় তার সাজা মওকুফ (রেয়াত) হয় ১০ বছর ৫ মাস ২৮ দিন।
জনতার আওয়াজ/আ আ