৩ এপ্রিল বাংলাদেশ জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস - জনতার আওয়াজ
  • আজ দুপুর ২:১১, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

৩ এপ্রিল বাংলাদেশ জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, এপ্রিল ৩, ২০২২ ৯:২৫ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, এপ্রিল ৩, ২০২২ ৯:২৫ পূর্বাহ্ণ

 

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

৩ এপ্রিল বাংলাদেশ জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস। দিনটিকে সামনে রেখে প্রযোজক, পরিচালক, অভিনয়শিল্পীসহ সিনেমাসংশ্লিষ্ট মানুষের কাছে প্রশ্ন উঠছে বর্তমান ঢালিউড চলচ্চিত্রের গতিপ্রকৃতি নিয়ে।

তাঁরা মনে করেন, দিন দিন ঢালিউড সিনেমার বাজার তলানিতে গিয়ে ঠেকছে। এর প্রধান দুটি কারণ—সিনেমা হল না থাকা এবং বাজেট–স্বল্পতা। অপেশাদার প্রযোজকদের দৌরাত্ম্যে পেশাদার প্রযোজকেরা দূরে সরে গেছেন। তৈরি হচ্ছে না দক্ষ শিল্পী ও অন্যান্য কলাকুশলী। বিশ্বচলচ্চিত্রের সঙ্গে কোনোভাবেই তাল মেলাতে পারছে না দেশের চলচ্চিত্র। তবে তরুণ পরিচালক ও অভিনয়শিল্পীদের অংশগ্রহণে কিছু ভালো ছবি আশার আলো দেখালেও সব মিলিয়ে অনিশ্চিত পথেই হাঁটছে ঢালিউড।

দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছর ধরে ঢালিউড সিনেমার সঙ্গে যুক্ত আশীর্বাদ প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার হাবিবুর রহমান। তিতাস একটি নদীর নাম, মনের মানুষ, শঙ্খচিল সিনেমা প্রযোজনা করেছেন তিনি। হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আমাদের চলচ্চিত্র এখন আর আগের জায়গায় নেই। শত শত সিনেমা হল বন্ধ হয়ে গেছে। এখন ৫০ কি ৬০টি সিনেমা হল আছে। ভবিষ্যতে বড় পর্দা ঢাকা ও বিভাগীয় সিনেপ্লেক্সকেন্দ্রিক হয়ে যাবে। ব্যবসা সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। হলে দর্শক যান না। অপেশাদার প্রযোজক বাড়ছে। পেশাদার প্রযোজকেরা নির্মাণে অনীহা দেখাচ্ছেন। প্রযুক্তি ও দর্শকের রুচির পরিবর্তনে পরিচালকেরা কেউ কেউ খাপ খাওয়াতে পারছেন না। যে কারণে তরুণ নির্মাতারা অনেকেই নাটকের মতো আর্ট ফিল্ম বানিয়ে সিনেমা হলে চালাচ্ছেন। কিন্তু বিনোদনমূলক মূলধারার সিনেমা না হলে ইন্ডাস্ট্রির টিকে থাকা কঠিন। ওটিটি সিনেমাকে বাঁচিয়ে রাখতে পারবে না।’

এফডিসি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দর্শকের রুচির সঙ্গে মানানসই সিনেমা বানিয়েছেন নির্মাতারা। বাণিজ্যিক সিনেমা যেমন ছিল, তেমনি আর্ট ফিল্মও তাঁর দর্শক তৈরি করেছিল। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় কখনো আসেনি, জীবন থেকে নেয়া, ডুমুরের ফুল, গোলাপী এখন ট্রেনে, রংবাজ, সুজন সখী, রূপবান ও বেদের মেয়ে জোসনা। দর্শকের রুচিভেদেও পরিচালকেরা চেষ্টা করেছেন সিনেমা বানাতে।

অনলাইনের কল্যাণে তরুণ প্রজন্মের হাতের মুঠোয় সারা বিশ্বের সিনেমা। তারা তথাকথিত সস্তা প্রেম আর মারামারির সিনেমা সে অর্থে পছন্দ করছে না। সিনেমা বিশ্লেষক ও পরিচালক মতিন রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, “এখন যে সিনেমাগুলো নির্মাণ করা হচ্ছে, সেগুলোর গল্প আর দর্শক টানবে বলে মনে হচ্ছে না। এগুলো সবই ফর্মুলাভিত্তিক গল্পের মধ্যে আটকে আছে। এই জায়গা থেকে বের হতে পারলে ঢালিউডের সংকট বাড়বে না।”

মতিন রহমান আরও বলেন, ‘সিনেমার দর্শক আছেন। তাঁরা ওটিটির সিনেমা দেখছেন। এখন এই দর্শককে হলমুখী করতে হলে নির্মাণকৌশল, গল্প বলার ধরন, এক্সপেরিমেন্টাল কাজ বেশি করতে হবে। এগিয়ে চলা এসব দর্শকের চিন্তা ও মানসিক জগতের সঙ্গে নির্মাতারা এগিয়ে যেতে না পারলে, এই ধরনের নির্মাণ ও শিল্পীদের পারফরম্যান্স থাকলে আমরা আরও পিছিয়ে পড়ব।’

জানা গেছে, গত দুই বছরে করোনার মধ্যে মুক্তি পাওয়া কোনো সিনেমা অর্ধেক বিনিয়োগও ওঠাতে পারেনি। এর মধ্যে তৈরি হচ্ছে না নতুন অভিনয়শিল্পী। কাজের চেয়ে বিভিন্ন সমিতির নির্বাচন বেশি আলোচনায়। এ কারণে সমালোচনার মুখে পড়ছে চলচ্চিত্র সংগঠনগুলোও।

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘আমাদের চলচ্চিত্র আগের সেই জায়গায় নেই। এখানে কথা হয় বেশি, কাজ কম। সেটা আমরা পরিবর্তন করার জন্য এসেছি। আমরা প্রযোজক, পরিচালকসহ সব সদস্যের সঙ্গে কথা বলে কীভাবে ভালো পরিবেশ ফেরানো যায়, সেটা নিয়ে কাজ করব। আমরা সরকারি নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে কথা বলছি। ইতিমধ্যে হল নির্মাণের জন্য সরকার থেকে তহবিল গঠন করা হয়েছে।’

ইলিয়াস কাঞ্চন আরও বলেন, ‘বর্তমানে তরুণ অভিনয়শিল্পীরা ভালো করছেন, নতুন নির্মাতা আসছেন। করোনার কারণে অনেক ক্ষতি হয়েছে কিন্তু অনেক সিনেমা মুক্তির অপেক্ষায় আছে। সেগুলো আমাদের আশা দেখাচ্ছে। শিগগির এই অনিশ্চয়তা কাটবে।’

তবে এর পাশাপাশি আশার কথাও আছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এগিয়ে যাচ্ছেন দেশের তরুণ নির্মাতারা। আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে যেমন তাঁদের সিনেমা প্রশংসিত হয়েছে, তেমনি সেগুলো বিদেশি বিনিয়োগকারীদেরও আকৃষ্ট করছে লগ্নি করতে। পাশাপাশি সেগুলো বিদেশের সিনেমা হলে মুক্তি পাচ্ছে, পুরস্কৃত হচ্ছে আন্তর্জাতিক উৎসবগুলোয়। বিশ্বজুড়ে বাংলা সিনেমার আলাদা দর্শকও তৈরি হচ্ছে। মাটির ময়না, টেলিভিশন, মাটির প্রজার দেশে, নোনা জলের কাব্য, শুনতে কি পাও!, শিমুসহ রেহানার কথা বিশেষভাবে বলা যায়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাড়াজাগানো সিনেমা ঢালিউডে কতটা ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারবে?

এমন প্রশ্নে পরিচালক মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, ‘২০০০–পরবর্তী একটা নতুন প্রজন্ম নির্মাণে আসছে। এই প্রজন্ম নতুনভাবে গল্প বলতে চায়। সেটি সিনেমাসহ সব মাধ্যমে। এভাবে তারা আলাদা এক শ্রেণির দর্শক তৈরি করতে পারছে। এই দর্শক নেহাতই কম নন। তাদের সিনেমা বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ উৎসবে অংশ নিয়েছে, স্বীকৃতি পেয়েছে। একই সঙ্গে ব্যবসাও করছে। সিনেমা অঙ্গনে নতুন প্রজন্মের মেধাবীদের আগমন ধ্বনি ঠিক পাওয়া যাচ্ছে। এই নির্মাতাদের চিন্তার, কাজের ফ্রিডম দিতে হবে। তাঁদের শক্তি কাজে লাগাতে পারলে ২০০০ সালের পর যে ধারায় আমাদের অডিওভিজ্যুয়াল মাধ্যম ধাবিত হচ্ছে, সেই ধারা আরও বেগবান হবে। আমরা সব সুবিধা পেলে সিনেমা আরও ভালোভাবে এগিয়ে যাবে।’

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ