৪৮ আসনের ভোটের ফল হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ - জনতার আওয়াজ
  • আজ দুপুর ২:১৮, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

৪৮ আসনের ভোটের ফল হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, মার্চ ২৫, ২০২৬ ৫:২৭ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, মার্চ ২৫, ২০২৬ ৫:২৭ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি সংগৃহীত
সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অর্ধশতাধিক আসনের ভোটের ফল হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। ফল চ্যালেঞ্জ করার মধ্যে ৪৮টি আবেদন আমলে নিয়ে আদালত এসব আসনের ব্যালট সংরক্ষণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। আমলে নেওয়া মামলার সংখ্যা অনুসারে গড়ে প্রতি ছয়টি আসনের একটির ফল চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।

আরও কয়েকটি আসনের ফল চ্যালেঞ্জ করার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানা গেছে। ভোটে কারচুপির অভিযোগ এনে ফল চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে এসব মামলা করা হয়েছে।

নির্বাচনের ফল চ্যালেঞ্জ করা এসব প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ।

গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের ৪৯ ধারা অনুযায়ী অনিয়মের বিরুদ্ধে ‘নির্বাচনি’ আবেদনপত্র শুনানির জন্য হাইকোর্টে নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। বর্তমানে বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের নেতৃত্বে একক হাইকোর্ট বেঞ্চ নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল হিসেবে এসব আবেদন আমলে নিয়েছেন। নির্বাচনে হেরে যাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে ট্রাইব্যুনালে বিএনপির ২৬ জন, জামায়াতে ইসলামীর ২০ এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও এলডিপির একজন করে প্রার্থী এসব মামলা দায়ের করেছেন।

ভোটের ফল চ্যালেঞ্জকারীদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির প্রার্থী ময়মনসিংহ-২ আসনের মোতাহার হোসেন তালুকদার, ময়মনসিংহ-৬ আসনের মো. আখতারুল আলম, মাদারীপুর-১ আসনের নাদিরা আক্তার, নীলফামারী-২ এর শাহরিন ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা-১ এর মো. শরীফুজ্জামান, ঢাকা-১১ এর এম এ কাইয়ুম, কুষ্টিয়া-৪ এর সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী, ঢাকা-৫ এর মো. নবী উল্লাহ, গাইবান্ধা-৫ এর মো. ফারুক আলম, পাবনা-৩ এর মো. হাসান জাফির তুহিন, সিরাজগঞ্জ-৪ এর আকবর আলী, কুমিল্লা-১১ এর কামরুল হুদা, ঢাকা-৪ এর তানভীর আহমেদ রবিন, ঢাকা-১৬ এর আমিনুল হক, ময়মনসিংহ-১ এর সৈয়দ ইমরান সালেহ প্রিন্স, কুড়িগ্রাম-২ এর সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, রংপুর-৬ আসনের সাইফুল ইসলাম, রংপুর-৪ এর এমদাদুল হক ভরসা, রাজশাহী-১ আসনের মে. জে. (অব.) মো. শরীফউদ্দিন, রাজশাহী-৪ এর ডিএমডি জিয়াউর রহমান, পাবনা-৪ এর হাবিবুর রহমান হাবিব ও শেরপুর-১ এর সানসিলা জেবরিন।

জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের মধ্যে যারা চ্যালেঞ্জ করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন খুলনা-৫ আসনের দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, কক্সবাজার জেলার মহেশখালীতে সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ, ঢাকা-১০ আসনের জসিমউদ্দিন সরকার, পিরোজপুর-২ এর শামীম সাঈদী, বরগুনা-২ এর ডা. সুলতান আহম্মেদ, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের ইলিয়াছ মোল্লা, নারায়ণগঞ্জ-৩ এর ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া, লালমনিরহাট-১ এর আনোয়ারুল ইসলাম রাজু, লালমনিরহাট-২ এর ফিরোজ হায়দার, ঢাকা-৬ এর আব্দুল মান্নান, গাইবান্ধা-৪ এর মো. আব্দুর রহিম সরকার, ঢাকা-৭ আসনের মো. এনায়েতউল্লাহ ও কক্সবাজার-৪ এর নূর আহম্মেদ আনোয়ারী।

তাছাড়া চট্টগ্রাম-১৪ আসনে এলডিপির প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহম্মেদের পক্ষে তার ছেলে ওমর ফারুক এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক ঢাকা-১৩ আসনের ফল চ্যালেঞ্জ করে মামলা করেছেন।

জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফজলুর রহমান মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) খবরের কাগজকে বলেন, আদালতের বিবেচনাধীন বিষয়গুলো নিয়ে মন্তব্য করব না। তবে অতীত অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, এ ধরনের ৫০টি মামলার মধ্যে ১/২টি হয়তো ‘জেনুইন’। বাকি মামলাগুলো করা হয় সাধারণত হয় পরাজিত প্রার্থীর সমর্থকদের সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য, অথবা বিজয়ী প্রার্থীকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলার জন্য।

মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ধরনের মামলা শুরুতেই রিজেক্ট করতে দেখেছি। আবার কখনো আদালত রুল দেয়, রুলের ওপর শুনানি হয়, তারপর নিষ্পত্তি করা হয়। তবে এভাবে নিষ্পত্তি হতে হতে মেয়াদের পাঁচ বছর অতিক্রম হয়ে যায়।

তার বক্তব্যের সঙ্গে মিলিয়ে আইনজ্ঞরা বলছেন, কোন কোন ক্ষেত্রে পাঁচ বছর ফুরিয়ে যাওয়ার আগে মামলা নিষ্পত্তি হলেও পরাজিত পক্ষ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে সাধারণত আবেদন করেন। ফলে এই মামলা আদালতেই ঘুরপাক খেতে থাকে মেয়াদের পাঁচ বছর।

আইনজ্ঞদের মতে, এ ধরনের মামলাগুলো মূলত দেওয়ানি প্রকৃতির। দেওয়ানি কার্যবিধি অনুসারে এসব মামলা নিষ্পত্তি হয়ে থাকে। অর্থাৎ অতি ধীর প্রক্রিয়ায় এসব মামলার বিচার কার্যক্রম চলে। দীর্ঘসূত্রতার কারণে মামলা চালাতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন বাদী। আবার বিদ্যমান সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে এসব মামলায় অনেকে সাক্ষী হতেও অনিরাপদ বোধ করেন। তাই ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়িয়ে এসব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করলে বাদী-সাক্ষীও তৎপর থাকবে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ