৫টি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আগের সিদ্ধান্তেই অনড় বিএনপি - জনতার আওয়াজ
  • আজ দুপুর ১২:৫০, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

৫টি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আগের সিদ্ধান্তেই অনড় বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, এপ্রিল ১৮, ২০২৩ ৯:০৩ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, এপ্রিল ১৮, ২০২৩ ৯:০৩ পূর্বাহ্ণ

 

বতর্মান আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে কোনো ধরনের নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল বিএনপির হাইকমান্ড। যে কারণে অনুষ্ঠেয় ৫টি সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও অংশ নিচ্ছে না দলটি। গতকাল সোমবার বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও এ নিয়ে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে দলীয় পদ ছেড়ে মেয়র এবং কাউন্সিলর পর্যায়ে কেউ নির্বাচন করলে সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তের কথা চূড়ান্তভাবে বলছে না দলটি।

বিএনপির মূল ভাবনা, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের দ্রুত পদত্যাগের মাধ্যমে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন। এই দাবিসহ ১০ দফার ভিত্তিতে বিএনপি এখন যুগপৎ আন্দোলনে রয়েছে। দাবি আদায়ে ঈদের পরে বড় আন্দোলনে নামার পরিকল্পনাও রয়েছে দলটির। সে লক্ষ্যে রমজানে ইফতার মাহফিলের মধ্য দিয়ে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক প্রস্তুতি গ্রহণ করছে দলটি।

এদিকে এই পাঁচ সিটি করপোরেশনের গত নির্বাচনে বিএনপির যারা প্রার্থী ছিলেন, তাদের মধ্যে অন্তত তিনজন আসন্ন নির্বাচন নিয়েও বেশ কৌতূহল দেখাচ্ছেন। তাদের আচরণেও রহস্যময়তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ বিষয়টি বিএনপিকে চিন্তার মধ্যেও ফেলেছে। এসব সিটির মধ্যে সিলেটে আরিফুল হক চৌধুরী, খুলনায় নজরুল ইসলাম মঞ্জু ও গাজীপুরে হাসান উদ্দিন সরকারের কথাবার্তায় নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ইতোমধ্যে হাসান সরকার ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগকে খালি মাঠে ছেড়ে না দেওয়ার কথা বলেছেন। আর সিলেটের সদ্য সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, তিনি ঈদের পর আরও বিস্তারিত জানাবেন। খুলনার নজরুল ইসলাম বলেছেন, নির্বাচন বর্জন করার সিদ্ধান্ত বিএনপি যেন পুনর্বিবেচনা করে।

জানা গেছে, আসন্ন সিটি নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের উকিল আব্দুস সাত্তারের মতো মডেলদের নিয়ে সতর্ক বিএনপির হাইকমান্ড। দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে উকিলের মতো কোনো নেতা যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বিএনপি। এক দফার আন্দোলন সামনে রেখে সংগঠনে শৃঙ্খলা রক্ষায় এ ব্যাপারে কোনো ছাড় দেবে না দলটি।

অবশ্য বিএনপির কিছু কিছু নেতার মতে, উদার গণতান্ত্রিক দল হিসেবে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়ে তো সরকারের কোনো ক্ষতি হচ্ছে না। তা ছাড়া বিএনপি নেতাদের বহিষ্কার করেও খুব বেশি ফায়দা করতে পারছে না। সুতরাং নির্বাচনে ক্ষমতাসীনদের ভোট ‘চুরি’ বা ‘ডাকাতি’ যা হোক সবার সামনে উন্মোচন হবে। এই প্রেক্ষাপটে গতকাল সোমবার দুপুরে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভায় সিটি নির্বাচন নিয়ে দলীয় কর্মকৌশল ঠিক করা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

তবে দলটির স্থায়ী কমিটির দুজন সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা আগের সিদ্ধান্তেই অটল। অর্থাৎ বর্তমান সরকারের অধীনে বিএনপি নির্বাচনে যাবে না এবং কেউ প্রার্থী হলে তাকে দৃষ্টান্তমূলক সাংগঠনিক শাস্তি দেওয়া হবে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সিটি করপোরেশন নির্বাচন প্রসঙ্গে বলেন, আমাদের আগের যে সিদ্ধান্ত, সেটিই বহাল আছে। আমরা এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে যাচ্ছি না।

নির্বাচন কমিশনের শিডিউল অনুযায়ী, ২৫ মে গাজীপুর সিটি করপোরেশনে, ১২ জুন খুলনা ও বরিশালে এবং ২১ জুন রাজশাহী ও সিলেট সিটির ভোট গ্রহণ হবে। দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকারের এ নির্বাচন হবে ইভিএমে।

এর আগে ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে পাঁচটির মধ্যে শুধু সিলেট সিটিতে বিএনপির মেয়র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছিলেন। তখন গাজীপুরে হাসান উদ্দিন সরকার, খুলনায় নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সিলেটে আরিফুল হক চৌধুরী, রাজশাহীতে মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল এবং বরিশালে মজিবর রহমান সরোয়ার বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। তা ছাড়া দশম সংসদ নির্বাচনের আগে ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত পাঁচ সিটির ভোটের সবকটিতেই মেয়র পদে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছিলেন।

জানা গেছে, সর্বশেষ সিটি নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা বিএনপির মেয়র প্রার্থীদের কেউ দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন না। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা ও রংপুর সিটি নির্বাচনে অংশ নেয়নি বিএনপি। তবে নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটিতে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে মেয়র পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন দুই প্রভাবশালী নেতা তৈমূর আলম খন্দকার ও মনিরুল হক সাক্কু। অতীতে সিটি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী দলের মেয়র প্রার্থীরা ছাড়া বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের অনেক জনপ্রিয় নেতা রয়েছেন, যারা সিটি করপোরেশনগুলোতে মেয়র পদে যোগ্য প্রার্থী। এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে দলে কোণঠাসা হয়ে হতাশ ও ক্ষুব্ধ নেতাদের অনেকেও নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন। এর বাইরে অনেকের শঙ্কা, সিটি নির্বাচনকে ঘিরে কেউ কেউ নতুন করে উকিল আব্দুস সাত্তার হতে পারেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন গতকাল বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ও বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে জাতীয়সহ স্থানীয় সরকারের কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার ব্যাপারে দলের সিদ্ধান্ত রয়েছে। এখনো সেই সিদ্ধান্তই বহাল রয়েছে। স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ