৫ মে ‘শাপলা গণহত্যা দিবস’ ঘোষণাসহ তিন দাবি হেফাজতের
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
সোমবার, অক্টোবর ১৩, ২০২৫ ২:৪৮ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
সোমবার, অক্টোবর ১৩, ২০২৫ ২:৪৮ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
রাষ্ট্রীয়ভাবে মে মাসের ৫ তারিখকে ‘শাপলা গণহত্যা দিবস’ ঘোষণাসহ মোট তিনটি দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।
সোমবার (১৩ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এই দাবিগুলো জানিয়েছেন সংগঠনটির মহাসচিব মুহাম্মদ সাজিদুর রহমান।
অন্য দুটি দাবি হলো— প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে অনতিবিলম্বে সংগীত শিক্ষক নিয়োগের বিধিমালা বাতিল করে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের বিধিমালা জারি করতে হবে; কুরআন অবমাননার দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া দীর্ঘ বিচারহীনতাপ্রসূত আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া ঠেকাতে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ এবং খ্রিষ্টানসহ সব ধর্মালম্বীর ধর্মীয় অনুভূতির সুরক্ষায় ধর্ম অবমাননার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ কঠোর আইন করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব মুহাম্মদ সাজিদুর রহমানের পক্ষ থেকে সংগঠনটির যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী একটি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, “সম্প্রতি প্রাথমিক শিক্ষায় সংগীত শিক্ষক নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। পক্ষান্তরে, অনেক বছর ধরে এদেশের আলেম-ওলামা ও সচেতন ধর্মপ্রাণ অভিভাবকরা প্রাথমিকে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানিয়ে এলেও তা উপেক্ষা করা হয়েছে। অথচ মুসলিম-অধ্যুষিত বাংলাদেশে ধর্মপ্রাণ সচেতন অভিভাবকদের মতামত না নিয়ে মুসলমান ছেলেমেয়েদের প্রাথমিক শিক্ষায় গানবাদ্য চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা ষড়যন্ত্রমূলক ও ইসলামবিরোধী পদক্ষেপ বলে আমরা মনে করি।”
“হেফাজতে ইসলামসহ বিভিন্ন ইসলামী দল ইতোমধ্যে এ বিষয়ে প্রতিবাদ, বিক্ষোভ ও দাবি জানিয়েছে। কিন্তু প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বর্তমান উপদেষ্টা ডা. বিধান রঞ্জন রায় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া দূরের কথা, কোনো জবাবও দেননি। ইসলামে মৌলিকভাবে বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার নিষিদ্ধ। বেশিরভাগ মুসলিম পরিবার এই ইসলামী বিধান মেনে চলায় ধর্মপ্রাণ অভিভাবকরা সংগীত শিক্ষক চাপিয়ে দেওয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। অবিলম্বে এই গেজেট বাতিলপূর্বক গণদাবি অনুযায়ী ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের বিধিমালা প্রণয়ন করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “দেশে একের পর এক কুরআন পোড়ানো ও অবমাননার ঘটনা ঘটেছে। অথচ এ বিষয়ে সরকারের কোনো বিবৃতি বা বক্তব্য নেই। অন্য সব বিষয়ে তারা দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখালেও এ ব্যাপারে উদাসীনতা ও অনুভূতিহীনতা দেখিয়ে এসেছে। এটি দুঃখজনক ও হতাশাজনক।”
“কঠোর আইন না থাকার সুযোগে একের পর এক ধর্ম অবমাননার মাধ্যমে আওয়ামী ফ্যাসিবাদ ও ইন্ডিয়ান আধিপত্যবাদ দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির সুযোগ পাচ্ছে। কারণ কঠোর আইন না থাকায় সরকারের প্রতিকারের ব্যবস্থা করতে পারছে না। দীর্ঘ বিচারহীনতার কারণে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতপ্রাপ্ত সংক্ষুব্ধদের আইন হাতে তুলে নেওয়ার ঝুঁকিও বাড়বে। এছাড়া ইউরোপে সহজে এসাইলাম তথা আশ্রয় পাওয়ার উদ্দেশ্যে নাস্তিকতা ও মতপ্রকাশের আড়ালে ধর্ম অবমাননাকে উপায় হিসেবে ব্যবহার করার পথ বন্ধ করতে হলেও কঠোর আইন জরুরি হয়ে পড়েছে।”
রাষ্ট্রীয়ভাবে মে মাসের ৫ তারিখকে ‘শাপলা গণহত্যা দিবস’ ঘোষণা করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সম্প্রতি শহীদ আবরার ফাহাদ হত্যা ও পিলখানা ট্রাজেডি স্মরণে নতুন দুটি জাতীয় দিবস করা হলেও ৫ মের গণহত্যার দিনকে জাতীয় দিবস ঘোষণা করা হয়নি। আমরা মনে করি, সচেতনভাবে এটি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের ভিতর ঘাপটি মেরে থাকা একটি সেক্যুলার চক্র ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে এদেশের আলেম-ওলামা, মাদরাসা শিক্ষার্থী ও ধর্মপ্রাণ জনতার ত্যাগ-তিতিক্ষাকে আমাদের জাতীয় জীবনে স্থান দিতে চায় না। এটি হতে দেওয়া যাবে না। সরকারকে অবিলম্বে ৫ মে দিনটিকে শাপলা চত্বর গণহত্যা দিবস হিসেবে ঘোষণা দিতে হবে। জুলাই সনদেও ১৩ সালের ৫ মে শাপলা গণহত্যাকাণ্ড ও ২১ সালের মোদিবিরোধী আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের উল্লেখ থাকতে হবে।”
সংবাদ সম্মেলনে এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির মহিবুল্লাহ বাবুনগরী, নায়েবে আমীর মুফতি জসিম উদ্দিন, মাওলানা মাহফুজুল হক, আব্দুল আউয়াল, যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক, খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ূবি, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি বশিরুল্লাহ প্রমুখ।
জনতার আওয়াজ/আ আ