৯১-তে তো কাউকে বাদ দেয়া হয়নি - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ৯:৫৮, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

৯১-তে তো কাউকে বাদ দেয়া হয়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শুক্রবার, এপ্রিল ১, ২০২২ ৯:০৭ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শুক্রবার, এপ্রিল ১, ২০২২ ৯:০৭ অপরাহ্ণ

 

ডেস্ক নিউজ
নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে রাজনীতিতে চলছে চাপান-উতোর। বিরোধী শিবিরে এ নিয়ে নানামত। এ প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন গণ অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক ড. রেজা কিবরিয়া। সম্প্রতি নানা কারণে আলোচিত এই রাজনীতিবিদ বলেন, আওয়ামী লীগ ২০১৮ সালে যেভাবে নির্বাচনে ভোট চুরি করেছে তাতে তাদের গ্রহণযোগ্যতা জাতির কাছে খুব কম। তাদেরকে কোনো সরকারে রেখে সেই সরকার দিয়ে নির্বাচন করলে মানুষের কাছে কোনো আস্থা থাকবে না। আওয়ামী লীগ ছাড়া একটা সরকার গঠন করতে হবে। এটা হবে নিরপেক্ষ সরকার। তাদেরকে সময় দিতে হবে।

আওয়ামী লীগ ভোট চুরির যে অবকাঠামো তৈরি করেছে গত ১০ বছর ধরে এটাকে ভাঙতে হবে। তার পরে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে। এর আগে কিছুই সম্ভব নয়। জাতীয় সরকার বলেন আর তত্ত্বাবধায়ক সরকার বলেন এটাকে কিছুদিন কাজ করতে দিতে হবে। বর্তমানে দেশের যে পরিস্থিতি এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য সময় লাগবে। আমি মনে করি এর জন্য কম পক্ষে ২-৩ বছর প্রয়োজন। আর দেশে এখন ফরমালিন অর্থনীতি বিরাজ করছে। দেশে যে অর্থনীতি চলছে এর ভেতরে পচন ধরে গেছে। মোট কথা বাংলাদেশের অর্থনীতি একটা ভয়ঙ্কর অবস্থার মধ্যে রয়েছে। দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের অগ্রগতি থামাতে হবে। আরও অনেকগুলো কাজ রয়েছে যেটা করা দরকার। সুষ্ঠু এবং স্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে নির্বাচন করার জন্য এই কাজগুলো আগে করতে হবে।

ড. রেজা কিবরিয়া বলেন, নির্বাচনকালীন সরকার কীভাবে আসবে সেটা বলা খুব কঠিন। ওয়ান ইলেভেনের সরকার কীভাবে আসছে বা ৯১’র সরকার কীভাবে আসছে সেটা দেখতে হবে। কোনো একটা পদ্ধতিতে তো আসতে হবে। কারণ এভাবে তো একটা দেশ চলতে পারে না। রাস্তাটা বলে দিলে তো আমি গণক হয়ে যাবো। তবে সরকারে যারাই আসবে এটা হবে জনগণের ইচ্ছায় এবং জনগণের শক্তির মাধ্যমে। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে সবকিছু পরিস্থিতিই বলে দিবে। যারাই এটা নির্ধারণ করবে এমন একজন লোককে দায়িত্ব দেয়া উচিত যার জনগণের মধ্যে একটা গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। সরকার পতনের জন্য মাঠের পরিস্থিতি এখনো তেমনটা তৈরি হয়নি। বিভিন্ন দলের মধ্যে কথা রয়েছে ওমুককে নেয়া যাবে না, তমুককে নেয়া যাবে না। আমি মনে করি ৯১তে কাউকে তো কেউ বাদ দেয়নি। আওয়ামী লীগ তখন তো জামায়াতের সঙ্গে বৈঠক করেছে। কিন্তু এখন আমাদের মধ্যে অনেকেই বাদ বিভেদ করছে। এটা করা ঠিক হবে না। তবে একটা সত্যিকারের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন তৈরি করতে হলে কিছু সমস্যা তো থাকবেই। আমি মনে করি রাস্তায় আন্দোলনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। কিন্তু যেভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়ছে এই অবস্থা আর কিছুদিন থাকলে মানুষ ঠিকই রাস্তায় নামবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে অনেকে সক্রিয় রয়েছে। জাতিসংঘ সক্রিয় রয়েছে। বাংলাদেশ এমন একটি দেশ যার সঙ্গে বিদেশি শক্তির একটা সম্পর্ক রয়েছে। এটা অস্বীকার করে তো কোনো লাভ নেই। আমেরিকা বিরোধী অনেকের কথাই শুনছি এদেশে। কিন্তু এই মুহূর্তে বাংলাদেশের মানবাধিকার নিয়ে কারা বেশি সক্রিয়ভাবে কাজ করছে এটা সবাই জানে। রেজা কিবরিয়া বলেন, আগামী নির্বাচনে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো খুব সক্রিয়ভাবে কাজ করবে বলে আশা করছি। কারণ তারা এদেশে অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ একটি নির্বাচন চায়। গণতন্ত্র ফেরত আনতে চায়।

আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গে রেজা কিবরিয়া বলেন, কে কোথায় যাবে, কে কোন দিকে অবস্থান নিবে এটা বলা মুশকিল। তবে আমি খুবই আশাবাদী, সামনের নির্বাচনে আমরা আসল একটা নির্বাচন দেখবো। একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে এমন একটা সরকার গঠন হবে যেখানে জনগণের আস্থা থাকবে এবং জনগণের জন্য কাজ করার ইচ্ছা তাদের থাকবে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ