৯ বিশিষ্ট ব্যক্তি ও এক প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শুক্রবার, মার্চ ২৪, ২০২৩ ৪:০৩ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শুক্রবার, মার্চ ২৪, ২০২৩ ৪:০৩ অপরাহ্ণ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতাকে জনগণের সেবা করার সুযোগ হিসেবে দেখে। অনেক বাধা-বিপত্তি মোকাবিলা করে ২০০৮ সালের সাধারণ নির্বাচনে জয়লাভ করে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকায় দেশের উন্নয়ন করা সম্ভব হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে স্বাধীনতা পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
দেশের উন্নয়নে পরিকল্পনা গ্রহণের ক্ষেত্রে সরকার জনকল্যাণকে প্রাধান্য দেয় উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা অর্জন করেছে। কারণ, আমরা কখনো অ্যাডহক ভিত্তিতে কোনো পরিকল্পনা নেয়নি। আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখে এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছি। সুনির্দিষ্ট ও দূরদর্শী পরিকল্পনা নিয়ে আমরা সবকিছু করেছি।
আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, বর্তমান সরকার বাংলাদেশকে একটি উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষে ‘রূপকল্প-২০২১’ বাস্তবায়নের পরিপ্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০১০-২১ ও পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা গ্রহণ করে। উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা লাভের পর সরকার এখন ‘রূপকল্প ২০৪১’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশকে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও ‘স্মার্ট বাংলাদেশে’ পরিণত করতে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
রমজান মাসে কাউকে খাবারের জন্য কষ্ট করতে না হয় সেজন্য সম্ভাব্য সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পারিবারিক কার্ডের মাধ্যমে এক কোটি মানুষকে প্রতি কেজি ৩০ টাকা ভর্তুকি দিয়ে চাল ও অন্য ৫০ লাখ মানুষকে ১৫ টাকা কেজি দরে চাল দেওয়া হচ্ছে। রমজান মাসে আরও ৫০ লাখ মানুষকে (প্রতি কেজি ১৫ টাকায়) চাল দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে মানুষ কষ্ট না পায়। চাল দেওয়ার পাশাপাশি রমজান মাসে ভর্তুকি মূল্যে ডাল, ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলাসহ আরও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।
অনুষ্ঠানে জাতীয় পর্যায়ে নিজ নিজ ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ৯ বিশিষ্ট ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানকে সর্বোচ্চ জাতীয় বেসামরিক পুরস্কারটি দেওয়া হয়। পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন মুক্তিযুদ্ধ ক্যাটাগরিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল (অব.) শামসুল আলম, প্রয়াত লেফটেন্যান্ট এজি মোহাম্মদ খুরশীদ (মরণোত্তর), শহীদ খাজা নিজামউদ্দিন ভূঁইয়া (মরণোত্তর) এবং মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম। সাহিত্য ক্যাটাগরিতে প্রয়াত ড. মোহাম্মদ মাইনুদ্দিন আহমেদ (সেলিম আল দীন) (মরণোত্তর), সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছেন পবিত্র মোহন দে এবং এএসএম রকিবুল হাসান। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর সমাজসেবা/জনসেবা বিভাগে এবং গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ক্যাটাগরিতে বেগম নাদিরা জাহান (সুরমা জাহিদ) এবং ড. ফেরদৌসী কাদরী পুরস্কার পেয়েছেন। পুরস্কারপ্রাপ্তরা প্রত্যেকে একটি করে স্বর্ণপদক, একটি সার্টিফিকেট এবং সম্মানী চেক পেয়েছেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মাহবুব হোসেন অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে ড. ফেরদৌসী কাদরী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।
৩ বছর পর সচিবালয়ে অফিস করলেন প্রধানমন্ত্রী : তিন বছরের বেশি সময় পর সচিবালয়ে অফিস করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল দুপুর সোয়া ১২টার দিকে সচিবালয়ে প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর সচিবালয়ের ৬ নম্বর ভবনে নিজ কার্যালয়ে যান তিনি এবং সেখানে বেশ কিছুক্ষণ অবস্থান করেন। পরে দুপুর সোয়া ২টার দিকে সচিবালয় থেকে বের হন প্রধানমন্ত্রী।
সচিবালয় সূত্র জানায়, রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে স্বাধীনতা পদক বিতরণ শেষে সচিবালয়ে প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর ৬ নম্বর ভবনে নিজের কার্যালয়ে অফিস করেন তিনি। এর আগে ২০১৯ সালের ১৭ জানুয়ারি সচিবালয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে অফিস করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী।
জনতার আওয়াজ/আ আ