DSCC প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম: লন্ডন সফর ও নগর উন্নয়ন ভাবনা - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ১০:১১, শুক্রবার, ২৬শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১১ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

DSCC প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম: লন্ডন সফর ও নগর উন্নয়ন ভাবনা

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, জুন ২৫, ২০২৬ ৯:৪৫ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, জুন ২৫, ২০২৬ ৯:৪৫ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
লন্ডন

লন্ডনে অনুষ্ঠিত London Climate Action Week 2026–এর আওতাধীন বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ৪০টি শহরের মেয়র ও প্রশাসকদের আন্তর্জাতিক সংগঠন C40 (সি৪০)। এই সম্মেলনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (DSCC) প্রতিনিধিত্ব করছেন ডিএসসিসি’র প্রশাসক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আব্দুস সালাম।

এই প্রেক্ষাপটে লন্ডনে তাঁর সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন জনতার আওয়াজের বিশেষ প্রতিনিধি ইয়াসমিন আত্তার। সাক্ষাৎকারে তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উন্নয়ন পরিকল্পনা, নগর ব্যবস্থাপনা এবং ভবিষ্যৎ ভিশন নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন।

নগর ব্যবস্থাপনায় প্রথম অগ্রাধিকার…

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রথম অগ্রাধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা সিটি করপোরেশন কার্যকরভাবে পরিচালনায় নানা সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে গেছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে নাগরিকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং দৈনন্দিন সেবা নিশ্চিত করাকে তিনি প্রধান লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি জানান, ঢাকার প্রধান সমস্যা হিসেবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জলাবদ্ধতা, বিদ্যুৎ ও লাইটিং, ট্যাক্স ব্যবস্থা এবং আবাসন সংকট রয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার সময় নগর পরিস্থিতি “অসহনীয়” ছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সরকারের নিয়মিত তদারকি ও জবাবদিহিতার কারণে সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম আরও সচেতনভাবে পরিচালিত হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

লন্ডনের অভিজ্ঞতা ও আধুনিক নগর উন্নয়ন ভাবনা…

ঢাকা শহরের আধুনিকায়নে লন্ডনের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারের উন্নয়ন ভিশন “ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি” ধারণার ওপর ভিত্তি করে এগোচ্ছে।

তিনি উল্লেখ করেন, উন্নত নগর ব্যবস্থাপনা ও আধুনিক ট্রাফিক সিস্টেম থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে ঢাকার উন্নয়ন কার্যক্রম চলছে।

বর্তমানে ঢাকার যানজট নিয়ন্ত্রণে ধীরে ধীরে অটোমেটেড ও প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের সম্পৃক্ততা…

তিনি বলেন, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে দেশীয় প্রকৌশলী ও দক্ষ জনশক্তিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তার মতে, দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহারে ব্যয় কমবে এবং বিদেশি প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা হ্রাস পাবে। পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিরাও চাইলে যেকোনো সময় পরামর্শ দিতে পারেন এবং ভালো প্রস্তাব গ্রহণ করা হবে।

তরুণ প্রজন্ম ও মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ…

একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তিনি বলেন, স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য ছিল একটি গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠন, যেখানে জনগণের অধিকার ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত থাকবে।

তিনি তরুণদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে দেশ গঠনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও মূল্যায়ন…

বর্তমান উন্নয়ন ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গণতন্ত্র রক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রয়োজন।

তিনি উল্লেখ করেন, গত সতেরো-আঠারো বছরে ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এক ধরনের ভঙ্গুরতা ও সংকট তৈরি হয়েছিল, যার মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র ও মানবিক মূল্যবোধ বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, দেশের রাজনৈতিক ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন সময়ে সংকট ও ভঙ্গুর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার ওপর পড়েছে।

তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বলেন, দেশের কঠিন সময়ে রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে তাঁর নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

এছাড়া তিনি বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের কথাও উল্লেখ করেন এবং বলেন, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে সকল পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন।


সাক্ষাৎকারের শেষাংশে তিনি সবাইকে ধন্যবাদ জানান এবং দেশের উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও অগ্রযাত্রায় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ