শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন: ঢাকা উত্তরের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
বৃহস্পতিবার, জুন ২৫, ২০২৬ ৯:৪৮ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
বৃহস্পতিবার, জুন ২৫, ২০২৬ ৯:৪৮ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
লন্ডন
যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিত সি-৪০ (C40) আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (DNCC) প্রশাসক জনাব শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় শহরগুলোর মেয়র ও নগর প্রশাসকদের এই আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে তিনি ঢাকা উত্তরের প্রতিনিধিত্ব করেন।
এই প্রেক্ষাপটে ২২ জুন ২০২৬ তারিখে লন্ডনে তাঁর সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন জনতার আওয়াজের বিশেষ প্রতিনিধি ইয়াসমিন আত্তার। সাক্ষাৎকারে তিনি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উন্নয়ন পরিকল্পনা, নাগরিক সেবা, নগর ব্যবস্থাপনা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন।
ঢাকা উত্তরকে বাসযোগ্য ও আধুনিক করার প্রধান অগ্রাধিকার…
তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি ঢাকাকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরীতে রূপান্তরের লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছেন। তাঁর মতে, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার কারণে জনগণের প্রত্যাশা যথাযথভাবে পূরণ হয়নি।
তিনি উল্লেখ করেন, গত প্রায় সতেরো-আঠারো বছরে দেশে প্রশাসনিক সংকট ও রাজনৈতিক অস্থিরতা ছিল। পরবর্তীতে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় দায়িত্বশীলতার নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, নগর উন্নয়নের মূল লক্ষ্য হলো “ক্লিন ঢাকা” ও “গ্রিন ডেভেলপমেন্ট” বাস্তবায়ন করা। এ লক্ষ্যে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং সবুজায়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, শহর পরিষ্কার রাখতে নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ধাপে ধাপে সবুজায়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি নাগরিকদের সেবা সহজ করতে হটলাইন ও অ্যাপভিত্তিক অভিযোগ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।
নাগরিক সেবা সহজ ও দ্রুত করার উদ্যোগ…
তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে উঠতে সময় লাগবে। তাঁর মতে, বর্তমান প্রশাসন মাত্র কয়েক মাস হলো দায়িত্বে এসেছে, তাই কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি জানান, ঢাকার জলাবদ্ধতা একটি দীর্ঘদিনের সমস্যা, যা সমাধানে খাল খনন ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক খাল পরিষ্কার করা হয়েছে এবং আরও খাল ধাপে ধাপে খনন করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, যেসব এলাকায় পানি জমে যাওয়ার ঝুঁকি বেশি, সেখানে দ্রুত সেবা দেওয়ার জন্য “কুইক রেসপন্স টিম” কাজ করছে।
তাঁর মতে, নাগরিক অধিকার বাস্তবায়নই প্রশাসনের মূল দায়িত্ব এবং জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে তাঁরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
যুবসমাজ ও কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে বার্তা…
যুবসমাজ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তরুণরাই দেশের ভবিষ্যৎ। তবে কর্মসংস্থানের অভাবে অনেক তরুণ হতাশায় ভুগছে।
তিনি উল্লেখ করেন, সরকার দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা বিভিন্ন শিল্প ও উৎপাদন খাত পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে, যা বাস্তবায়িত হলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
তিনি বলেন, তরুণরা যখন কর্মসংস্থানে যুক্ত হবে, তখন তাদের হতাশা কমবে এবং তারা একটি স্থিতিশীল জীবনে ফিরতে পারবে।
তাঁর মতে, কর্মসংস্থান বাড়লে শুধু ব্যক্তি নয়, পুরো সমাজ ও অর্থনীতি উপকৃত হবে।
সমাপনী বক্তব্য…
লন্ডনে অনুষ্ঠিত C40 Climate Action Summit–এ অংশগ্রহণের প্রেক্ষাপটে তিনি তাঁর বক্তব্য প্রদান করেন এবং শেষে উপস্থিত সবাইকে শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জানান।
জনতার আওয়াজ/আ আ