তারেক রহমানের হাতেই শহীদ জিয়ার ভু- রাজনৈতিক চিন্তা-চেতনার বাস্তায়িত হবে - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১:০১, রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২০শে মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

তারেক রহমানের হাতেই শহীদ জিয়ার ভু- রাজনৈতিক চিন্তা-চেতনার বাস্তায়িত হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, জুলাই ২, ২০২৬ ১:১৭ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, জুলাই ২, ২০২৬ ১:১৭ পূর্বাহ্ণ

 

সম্মানিত পাঠক পাঠিকা , আস্ সালামু আলাইকুম। আজ আমার লেখার শুরুতেই গভীর শ্রদ্ধাভরে স্বরণ করছি মহান স্বাধীনতার ঘোষক পরবর্তীকালে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বপ্রথম নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান( বীর উত্তম) কে।
বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করছি তাঁর বিদেহী আত্মার প্রতি।
আজ একটি বিশেষ ঐতিহাসিক ঘটনা তুলে না ধরলে নয়। তাই টিকা আকারে তুলে ধরছি :– শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তার দেশপ্রেম আর ধারালো কুটনৈতিক বিচক্ষণতা দিয়ে ১৯৮০ সালের শেষের দিকে বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক কল্লানে চীন – পাকিস্তান – বাংলাদেশ , এই তিন দেশের সামরিক চুক্তির বলিষ্ঠ উদ্যোগ নিয়েছিলেন। যে উদ্যোগ ১৯৮১ সালের প্রথম দিকে সফলতার দ্বার উন্মোচিত হওয়ার কথাছিল। ১৯৮১ সালের ২রা জুন চীন – পাকিস্তান – বাংলাদেশ এই তিন দেশের সামরিক চুক্তির দিন তারিখ প্রায় ধার্য হয়ে গিয়েছিল। বড়ই পরিতাপের বিষয় তার পুর্বে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ” র ” নিখুঁত পরিকল্পনায় দেশের অভ্যন্তরে তাদের খরিদা দাস – দাসী, দেশদ্রোহী চক্রের সহায়তায় ১৯৮১ সালের ৩০শে মে দিবাগত গভীর রাতে নির্মম ভাবে শাহাদাৎ বরন করেন। ১৯৮১ সালের সাতই জুন মাসে টীনোর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ঝাও ঝিয়াং বাংলাদেশে এসে শহীদ জিয়ার মাজারে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন কালে গভীর বেদনা ভারাক্রান্ত কন্ঠে বলেছিলেন, শুধু বাংলাদেশ নয় , সমগ্র এশিয়া হারিয়েছে এক সাহসী জাতীয়তাবাদী মহান নেতা কে। ঝাও ঝিয়াং ঐ সময়ে চীন – পাকিস্তান – বাংলাদেশ এই তিন দেশের সামরিক চুক্তির বলিষ্ঠ উদ্যোগের জন্য শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সাহসী পদক্ষেপের ভুয়সী প্রশংসা করেছিলেন ।
১৯৭৫ পরবর্তী তে দেশের অঘোর অমানিশার ক্রান্তিকালে দেশের টালমাটাল অবস্থায় বিভিন্ন হাত বদল হয়ে ৭৫ এর ৭ই নভেম্বরে সিপাহী জনাতার ঐতিহাসিক মহান জাতিয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের পরে বভিন্ন হাত বদলের পরে রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে পদার্পন করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। রাষ্ট্রের সেই টালমাটাল অবস্থায় তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আবু শাহাদাৎ মোঃ সায়েম দেশে সামরিক শাসন জারী করেন। তারই আহবানে সামরিক প্রধানের দায়িত্বভার গ্রহন করেছিলেন তৎকালীন সামরিক প্রধান লেপ্টেনেন্ট জেনারেল জিয়াউর রহমান। মহান স্বাধীনতার ঘোষক তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের ফলে দেশের সর্বস্তরের জনাতার প্রানে স্বস্তি ফিরে এসেছিল। অবসান হয়েছিল একদলিয় শাসন ব্যবস্থার। দেশের মানুষের আশার প্রতিক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ফিরে এসেছিল এক অভুতপুর্ব পরিবর্তন। যা ছিল সেনাবাহিনীতে শান্তি শৃঙ্খলার পাশাপাশি ফিরে এসেছিল উজ্জীবিত দেশপ্রেম। কালক্রমে দেশ মুক্তিলাভ করেছিল মত প্রকাশের ন্যায্য অধিকার। উন্মচিত হয়েছিল বহুদলিয় গনতন্ত্রের দ্বার। জাতী অনন্তকাল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কে গনতন্ত্রের স্থপতি হিসাবে হৃদয়ের গভীরে শ্রদ্ধার সাথে লালন করবে। শহীদ জিয়া আমৃত্যু স্বরনিয় হয়ে থাকবে স্বনির্ভর বাংলাদেশের রুপকারক হিসাবে। ” রাখালরাজা” হিসাবে দেশের সর্বস্তরের গন মানুষের হৃদয়ে গভীরে অনন্তকাল বেঁচে থাকবেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।
সম্সানিত পাঠকবর্গ , এবার আসা যাক বাংলাদেশের ইতিহাসে ভূ-রাজনীতির প্রেক্ষাপটে শহীদ জিয়ার বিচক্ষণতায় তাঁর পদক্ষেপ নিয়ে সংক্ষিপ্ত আকারে আমার কিছু কথা ও বিশ্লেষণ।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে আসীন হওয়া ছিল খোদা প্রদত্ব এক মহা অলৌকিক রহমত। ১৯৭৭ সালের ২রা জানুয়ারী রবিবার তৎকালীন প্রধান সামরিক শাসক হিসাবে ( সি এম ল এ) চীন সফর করেছিলেন। দেশের ভূ-রাজনীতিতে তখনকার পরিস্থিতি এবং অদুর ভবিষৎ পরিস্থিতির কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়ার ক্ষেত্রে ছিলেন এক আলোকোজ্জ্বল অলৌকিক রাষ্ট্র নায়ক।
চীন সফর কালে শহীদ জিয়া তাঁর চিন্তা চেতনায় বাংলাদেশ ও চীন দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সু সম্পর্কের বিয়টি ছিল দেশের ভূ-রাজনীতির জন্য খুবেই গুরুত্বপূর্ণ। তারই আলোকে চীন বাংলাদেশ কে স্বাধীনতা লাভের প্রায় ৫ বছর পরে স্বকৃিতি প্রদান করেছিল।
তখনকার বাংলাদেশের ভু-রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তাঁর কেবিনেটের বিশেষ ক’জন সিনিয়র সদস্যকে বলেছিলেন – ” ভারতের ভূ-রাজনৈতিক অপ কৌশলের কারনে আমি তিন পাঁও এগুলে দুই পাঁও পিছিয়ে আসতে হয় “। যা আমাকে কঠিন ভাবে ভাবিয়ে তুলেছে – – – -,।
শহীদ জিয়ার চীন সফর ছিল বাংলাদেশের সাথে চীনের কুটনৈতিক , অর্থনৈতিক সহ নানান বিয়ের পাশাপাশি সামরিক সহযোগিতার জন্য একটি যুগোপযোগী মাইল ফলকের দ্বার উন্মোচিত হয়েছিল।
১৯৮০ সালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসাবে জিয়াউর রহমান দ্বিতীয় বারের মত চীন সফর করেছিলেন।
ঐ সফরে চীনের সাথে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাঝে অর্থনৈতিক , বানিজ্যিক এবং বিমান চলাচল দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সহ সামরিক সহযোগিতার বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছিল। যার ফলে বাংলাদেশ ও চীন দুই দেশের মধ্যে নিবিড় বন্ধুত্বের পাশাপাশি এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান আরো সুদৃড় হয়েছিল। চীন পরবর্তীতে বাংলাদেশের জন্য অর্থনৈতিক, বানিজ্যিক সহায়তা ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের একটি অন্যতম নির্ভরযোগ্য এবং গুরুত্বপূর্ণ উৎস হয়ে উঠেছিল।
বড়ই পরিতাপের বিষয় যে ১৯৮১ সালের ৩০ মে দিবাগত রাতে চট্রগ্রামের সার্কিট হাউজে দেশী – বিদেশী ঘৃনিত নিল নকশায় রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শাহাদাৎ পরবর্তীতে আমরা চীনের সাথে শহীদ জিয়ার তৈরী করা নিভিড় সম্পর্ক থেকে দেশী-বিদেশী কুচক্রী মহলের হীন স্বার্থ চরিতার্থ করার কারনে বিচ্যুত হয়ে পড়েছি। যা ছিল বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক কুটনৈতিক মেধাহীনতা ও ন্যাক্কারজনক অধ্যায়।
১৯৭৭ সালে খুব সম্ভব চীন সফরের আগে পরে শহীদ জিয়াউর রহমান পাকিস্তান সফর করেছিলেন।
পরবর্তীতে পাকিস্তান ও চীনের সাথে বাংলাদেশের সামরিক বোঝা পড়া ক্ষেত্র তৈরি করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। দেশের মহান স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব কে পরাশক্তির থাবা থেকে সুরক্ষিত রাখার জন্য এই দুই পরাশক্তির সাথে নিভীর সম্পর্ক স্থাপন ছাড়া বাংলাদেশের কোন অবশন আমাদের নেই। কারন ভারত মূলত একটি উগ্র হিন্দুত্ববাদী এবঙ উগ্র মৌলবাদী দেশ হিসাবে ইতিমধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার সকল দেশ সহ বিশ্বের উন্নত দেশ গুলোর মাঝে চিহ্নিত হয়েছে।
প্রথমত – ভারত কে কঠিন ও কঠোরভাবে বাধ্য রাখতে সক্ষম হয়েছে চীন , যা অদ্যাবধি বিরাজমান।
দ্বিতীয় – কঠিন বাধার মধ্যে রাখেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।
তৃতীয়ত – ভারতের ওপর কড়া নজরে রেখে বাধ্য করছিলেন আপোষহীন দেশ নেত্রী, বাংলাদেশের তিন তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়া।
উল্লেখ্য যে , বিগত অন্তবর্তি কালিন সরকারের একমাত্র প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুস ভারতের আগ্রাসন নীতির প্রতি ছিলেন শতভাগ সজাগ। ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুস যদি তাঁর মন্ত্রী পরিষদের সবাইকে তাঁর মতের সমর্থনে পেতেন তা হতো ভিন্ন পরিস্থিতি।
অপ্রিয় হলেও সত্য যে , ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুস তার কেবিনেট চয়েজ করতে ছিলেন শতভাগ ব্যার্থ। তার কারন তিনি রাজনৈতিক ছিলেন না।
বর্তমানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত সফল প্রধানমন্ত্রী দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়ার সুযোগ সন্তান হিসাবে দেশবাসীর সাথে আমিও আশাবাদী যে , বর্তমান বি এন পির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানকে শহীদ জিয়া ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পথ অনুষরণ করে দেশ জাতির সার্বিক কল্লানে এবং মহান স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব কে পরাশক্তির থাবা থেকে সুরক্ষিত রাখার জন্য তিঁনাদের পথ ধরে দেশ পরিচালনা করবেন এবং শহীদ জিয়ার অসমাপ্ত সকল কর্মসুচি যথাযথভাবে বাস্তবাযন করবেন।
মহান রাব্বুল আল্ আমিন যেন দেশ জাতির কল্লানে জনাব তারেক রহমানের প্রতি সদয় ও সহায় হন সেই কামনা আমৃত্যু থাকবে ইনশাহআল্লাহ্।
বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।
আল্লাহ্ হাফেজ।
লেখক ও কলামিস্ট – নজরুল ইসলাম চৌধুরী।
সাবেক সভাপতি , ফেনী জেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ