কর্মসূচিতে সক্রিয় নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের আংশিক কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা হচ্ছে - জনতার আওয়াজ
  • আজ বিকাল ৪:৩৪, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

কর্মসূচিতে সক্রিয় নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের আংশিক কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, এপ্রিল ১৮, ২০২৩ ৯:১৪ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, এপ্রিল ১৮, ২০২৩ ৯:১৪ পূর্বাহ্ণ

 

সরকার পতনের এক দফা আন্দোলন সামনে রেখে দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে প্রস্তুত করছে বিএনপি। এর অংশ হিসেবে রাজপথের কর্মসূচিতে সক্রিয় নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের আংশিক কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা হচ্ছে। যে কোনো দিন এই পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে, যা এখন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের অনুমোদনের অপেক্ষায়। স্বেচ্ছাসেবক দলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার মধ্য দিয়ে ছাত্রদলের প্রায় একশ সাবেক নেতার ভাগ্য খুলতে যাচ্ছে যারা বয়সের কারণে পরবর্তী সময়ে আর ছাত্রদল করতে পারেননি।

জানা গেছে, পূর্ণাঙ্গ কমিটির আকার হবে ২৫১ সদস্যের। তবে এখন ২০১ কিংবা ২১১ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হবে। বাকিদের পরবর্তী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে, রাজপথের কর্মসূচিতে যাদের কর্মকাণ্ড এখন পর্যবেক্ষণে রেখেছেন সংগঠনের শীর্ষ নেতারা।

স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী কালবেলাকে বলেন, কমিটি গঠন, পুনর্গঠন একটি চলমান প্রক্রিয়া। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সামনে বিএনপির কঠোর আন্দোলন-সংগ্রাম। সরকারও সে আন্দোলন দমাতে মামলা-হামলা-গ্রেপ্তারের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই দ্রুত স্বেচ্ছাসেবক দলের আংশিক কমিটি পূর্ণাঙ্গ হওয়া প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় ও ত্যাগীদের দিয়েই পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে ছাত্রদলের সাবেক নেতাদের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। পূর্ণাঙ্গ কমিটির আকার ছোট হবে বলে জানান স্বেচ্ছাসেবক দলের এই সভাপতি।

এসএম জিলানীকে সভাপতি এবং রাজীব আহসানকে সাধারণ সম্পাদক করে গত ৪ সেপ্টেম্বর স্বেচ্ছাসেবক দলের পাঁচ সদস্যের আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। এরপর আংশিক কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে কাজ শুরু করেন তারা। তবে রাজপথের কর্মসূচিতে সংগঠনটির বিগত পূর্ণাঙ্গ কমিটির অধিকাংশ নেতার অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কেবল সক্রিয় ও ত্যাগীদের দিয়েই পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেয় বিএনপির হাইকমান্ড। দলটির পর্যবেক্ষণ ছিল, স্বেচ্ছাসেবক দলের বিগত কমিটি ৩৫২ সদস্যের হলেও রাজপথের কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ জন। আর কেন্দ্রীয় কমিটির মিটিংয়ে হাজির থাকতেন সর্বোচ্চ ৭০ জন। বিষয়টি তখন স্বেচ্ছাসেবক দলে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।


খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্বেচ্ছাসেবক দলের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে পদ পেতে গত অক্টোবর-নভেম্বর মাসে ৯০০ জন তাদের জীবনবৃত্তান্ত সংগঠনটির কেন্দ্রীয় দপ্তরে জমা দেন। যাদের মধ্যে ছয়শরও বেশি ছাত্রদলের সাবেক নেতা। সেগুলো যাচাই-বাছাই শেষে গত মাসের প্রথম দিকে ২১১ সদস্যের প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ কমিটি দলীয় ফোরামে জমা দেয় স্বেচ্ছাসেবক দল। সংগঠনটির দাবি, খসড়া পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে কোয়ান্টিটির চেয়ে কোয়ালিটিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

স্বেচ্ছাসেবক দল সূত্র জানায়, খসড়া পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে বিগত কমিটির ৮০ থেকে ৯০ জনকে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া মহানগর থেকে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন ২০ থেকে ২৫ জন। আর ছাত্রদলের প্রায় একশ সাবেক নেতা নতুন হিসেবে পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে পদ পেতে যাচ্ছেন।

স্বেচ্ছাসেবক দলের দায়িত্বশীল এক নেতা বলেন, নতুন ও পুরোনোর সমন্বয়ে খসড়া পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রস্তুত করে দলীয় ফোরামে জমা দেওয়া হয়েছে। সংগঠনকে সুন্দরভাবে পরিচালনার জন্য কমিটিতে সিনিয়রদের অভিজ্ঞতার যেমন প্রয়োজন, তেমনি একদফার আন্দোলন সামনে রেখে নবীনদের স্পিরিটও দরকার।

জানা গেছে, খসড়া পূর্ণাঙ্গ কমিটির সঙ্গে আলাদা করে ছাত্রদলের বহিষ্কৃত সাবেক ১২ নেতার মধ্য থেকে ৩ থেকে ৪ জনের নামও সুপারিশ করেন স্বেচ্ছাসেবক দলের শীর্ষ নেতারা। তাদের ব্যাপারে বিএনপির হাইকমান্ড ইতিবাচক হলেও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। অবশ্য বহিষ্কৃত ওই ছাত্রদল নেতাদের মধ্য থেকে জহির উদ্দিন তুহিনকে সভাপতি করে গত ৩ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের ৯ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। তবে কমিটি ঘোষণার আগে তুহিনের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয় বলে জানা যায়।

ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে আন্দোলনের কারণে ২০১৯ সালের ২২ জুন সংগঠনটির সাবেক ১২ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়। এরপর তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দুবছরের বেশি সময় পর ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হয়; কিন্তু অদৃশ্য কারণে সে সিদ্ধান্ত এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। এ কারণে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ কোনো অঙ্গ ও সংগঠনে তারা এখনো কোনো পদ-পদবি পাননি। বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারে বিএনপির হাইকমান্ডের দিকে বছরের পর বছর ধরে তীর্থের কাকের মতো তাকিয়ে রয়েছেন ছাত্রদলের সাবেক এসব নেতা। দশম সংসদ নির্বাচনের পূর্বে বিএনপির আন্দোলনে যাদের নেতৃত্বে মাঠে ছিল ছাত্রদল।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ