চলমান রাজনৈতিক সংকট উত্তরণে আলোচনা থেকে দূরে সরছে দুই দল - জনতার আওয়াজ
  • আজ বিকাল ৩:৩০, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

চলমান রাজনৈতিক সংকট উত্তরণে আলোচনা থেকে দূরে সরছে দুই দল

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, মে ৮, ২০২৩ ১২:৪৫ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, মে ৮, ২০২৩ ১২:৪৫ পূর্বাহ্ণ

 

ডেস্ক নিউজ
চলমান রাজনৈতিক সংকট উত্তরণে অনড় অবস্থান থেকে সরে আসতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রতি সুশীল সমাজ ও আন্তর্জাতিক মহল আহ্বান জানালেও কানে তুলছে না দেশের বড় এই দুটি দল। বরং দিন দিন এ দুই দলের দূরত্ব বেড়েই চলছে। এমনকি প্রকাশ্যেই আলোচনা বা সমঝোতার বিষয়টি উড়িয়ে দিয়ে নিজেদের অনঢ় অবস্থানের কথা জানাচ্ছেন দুই দলের শীর্ষ নেতারা। এতে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে সংকট আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

তারা বলছেন, নির্বাচনকালীন সরকার ইস্যুতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বিপরীতমুখী শক্ত অবস্থান সামনের দিনগুলোতে রাজনৈতিক সংকট আরও প্রকট হওয়ার শঙ্কায় ফেলছে। এই সংকট নিরসনে আলোচনা বা সমঝোতার বিষয়ে উভয়পক্ষই ইতোমধ্যে ‘না’ বলে দিয়েছে।

জানা গেছে, বিএনপির সরকারবিরোধী আন্দোলনের রোডম্যাপের খসড়া প্রায় চূড়ান্ত। শিগগিরই নতুন কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর বিএনপিকে রাজপথে প্রতিহত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে ক্ষমতাসীনরা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দল দুটি সংকট সমাধানে আলোচনার বদলে রাজপথকেই বেছে নিচ্ছে। যার ফল ভালো হওয়ার কথা নয়।

তবে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রত্যাশা, বড় দুটি দল তাদের অনড় অবস্থান থেকে সরে আসবে। ছাড় দেওয়ার মানসিকতা নিয়ে তারা এক টেবিলে বসবে। আলোচনায় বসলে একটা সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি হয়। দেশের কথা চিন্তা করে সংলাপের মাধ্যমে সংকট সমাধান করতে দুদল এগিয়ে আসবে বলে প্রত্যাশা তাদের।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বড় দুই দলের এমন অনড় অবস্থানে বাড়বে রাজনৈতিক অস্থিরতা, যা অর্থনৈতিক সংকটকেও জটিল করে তুলতে পারে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবিতে আন্দোলনকারী বিএনপির সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘কাদের সঙ্গে আলোচনা করব? একে তো সাজাপ্রাপ্ত আসামি, তারপর আবার আমার বাবা-মা, ভাইবোনদের খুনি। তারপরও দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে, গণতন্ত্রকে রক্ষার জন্য কিন্তু আমি অনেক উদারতা দেখিয়েছি। তবে এখন আর তাদের (বিএনপি) সঙ্গে কথা বলার মতো কিছু নেই।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা কিন্তু বারবার বিএনপির সঙ্গে আলোচনা করেছি, ২০১৮-এর নির্বাচনেও। খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে মারা গেল, যখন লাশ এসেছে মানবিক কারণে আমি প্রাইম মিনিস্টার, তারপরও সন্তানহারা মাকে সহানুভূতি জানাব বলে আমি গেলাম। কিন্তু আমাকে ঢুকতে দিল না। আমি তাও গাড়ি থেকে নামলাম। নেমে দেখি, তাদের লোকজন ভেতরে। আমাকে ঢুকতে না দিয়ে অপমান করা হলো। এখন আপনারা বলেন, এরপর কার সঙ্গে ডায়ালগ করব আমি?’

অতীতে বিএনপির আন্দোলনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করার পর ওইসব পরিবারের লোকজন যে অবস্থায় আছে তা যদি কেউ চোখে দেখে, তখন আর ওদের (বিএনপি) সঙ্গে বসতে ইচ্ছা করে না। মনে হয় ওদের সঙ্গে বসলে ওই পোড়া মানুষগুলোর পোড়া গন্ধ পাই।’

প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলার আগে থেকেই বিএনপির নেতারা বলে আসছেন, তারা আলোচনাই চান না।

অন্যদিকে সংলাপ নিয়ে শেখ হাসিনার বক্তব্যের জবাবে গত মঙ্গলবার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বিএনপিও সংলাপ চায় না।’

তিনি বলেন, ‘এবার ফয়সালা হবে রাজপথে।’

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘আমরা তো তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে চাইনি। কারণ পূর্ব অভিজ্ঞতা বলে তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসার যুক্তি থাকতে পারে না। কারণ তারা মিথ্যা কথা বলে এবং জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে। সে কারণে আন্দোলনের মধ্য দিয়েই জনগণ এবার রাজপথে ফয়সালা করে নেবে।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেন, রাজনৈতিক সংকট কখনো রাজপথে সমাধান হওয়া উচিত নয়। আন্দোলনের মাধ্যমে হয়তো একটা সমাধান হতে পারে কিন্তু সেটা কখনো টেকসই হয় না। তাছাড়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্বের অনেক দেশের মতো আমাদের অর্থনীতিতেও বড় ধাক্কা লেগেছে। দ্রব্যমূল্যের সীমাহীন ঊর্ধ্বগতি, দফায় দফায় জ্বালানির দাম বৃদ্ধিতে মানুষ দিশেহারা। এমন পরিস্থিতিতে রাজনীতি সংঘাতময় হলে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরও নাজুক হতে পারে। তাতে সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

তারা মনে করেন, রাজনৈতিক দলের নেতারা সব সময় বলে বেড়ান সাধারণ মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নে রাজনীতি করেন। তাহলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টি হয় এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকবেন।

এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘রাজনীতিতে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে হয়। সবার প্রত্যাশা ছিল শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক দলগুলো অনড় অবস্থান থেকে সরে এসে আলোচনায় বসবে। তবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি আলোচনাকে না বলে দিয়েছে। তাদের এমন ঘোষণায় সবাই হতাশ।’

বিশ্লেষকরা বলছেন, আলোচনাকে না বলা মানে সংকটের সমাধান হিসেবে দল দুটি এখন রাজপথকেই বেছে নিচ্ছে। কিন্তু রাজপথে তো শান্তিপূর্ণ সমাধান হয় না। ফের যদি জ্বালাও-পোড়াও ও সংঘাতের রাজনীতি শুরু হয়, তাহলে ভবিষ্যতে কঠিন মাশুল দিতে হবে দেশের মানুষকে। আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধান করে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই দল দুটি আলোচনার টেবিলে বসবে বলে প্রত্যাশা তাদের।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ