তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি ঢাবি সাদা দলের - জনতার আওয়াজ
  • আজ বিকাল ৪:২৭, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি ঢাবি সাদা দলের

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, জুন ৫, ২০২৩ ৫:৫১ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, জুন ৫, ২০২৩ ৫:৫১ অপরাহ্ণ

 

ডেস্ক নিউজ

নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষকের সংগঠন সাদা দল।

আজ সোমবার দুপুরে ঢাবির অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে আয়োজিত মানববন্ধনে শিক্ষকরা এ দাবি জানান। ওই সময় দ্রব্যমূলের ঊর্ধ্বগতি, হামলা-মামলার মাধ্যমে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের দমনপীড়নের প্রতিবাদ জানান তারা।

মানববন্ধনে অংশ নিয়ে সাদা দলের আহ্বায়ক লুৎফর রহমান বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জাতির বিবেক। বাংলাদেশ বা জাতি যখনই কোনো সংকটে পড়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সেখানে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে। আজ বাংলাদেশ এক চরম ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সচেতন শিক্ষকরা একটি দাবিকে কেন্দ্র করে এখানে সমবেত হয়েছে। এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চরিত্র। যখনই জাতি কোনো ক্রান্তিলগ্নে পড়ে তখনই শিক্ষকরা জাতিকে নানাভাবে দিক নির্দেশনা দেন। তারই বহিঃপ্রকাশ আজকের আমাদের এই মানববন্ধন।

তিনি বলেন, ‘বিরোধী দলের প্রতি সরকারের যে দমনপীড়নীতি সেই নীতির আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাই। সরকার দীর্ঘদিন ধরে বিরোধী দলের ওপর নিপীড়ন-নির্যাতন চালাচ্ছে। আমাদের আজকের এই গণতান্ত্রিক কর্মসূচিকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য কিছু ছাত্র আমাদের সামনে দাঁড়িয়েছে। আমরা একটি বড় মহড়াও দেখেছি।’


লুৎফর রহমান বলেন, ‘আমরা তাদের এই কাজের মধ্য দিয়ে আমাদের যে দাবি সে দাবির কিছুটা প্রমাণও তারা দিয়েছে। আমি তাদের এ কাজের তীব্র নিন্দা জানাই। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। সেজন্য নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে সারা দেশের মানুষ আন্দোলনে ফুঁসে উঠেছে। আমরা তাদের সঙ্গে একাত্মতা জানাই।

‘বাংলাদেশের বর্তমান সরকার বিগত কয়েকটি নির্বাচনকালীন সময়ে তাদের আচার-আচরণ কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মানুষদের বুঝাতে সক্ষম হয়েছে, বাংলাদেশে কোনো দলীয় সরকারের অধীনে সঠিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে না, কখনো সম্ভব নয়। এটি দেশের সাধারণ মানুষ বুঝতে পেরেছে বিধায় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে রাজধানী পর্যন্ত সব মানুষের এখন একটি দাবি—ভোটের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে। ভোটের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার একটি পন্থা—একটি সঠিক নির্বাচন।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বিষয়ে তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি আমাদের অজানা কোনো বিষয় নয়। এটি আলোচনারও বিষয় নয়। আমাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য যেগুলো না হলে সংসার চলে না সেগুলোর দাম বাড়ছে। এই দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির জন্য যারা দায়ী তাদের চিহ্নিত করতে হবে। সরকার তাদের চিহ্নিত করার কোনো চেষ্টাই করছে না অথবা ব্যর্থ হচ্ছে। কারণ এখানে যে সিন্ডিকেট কাজ করে সেই সিন্ডিকেট সরকারের চেয়ে অনেক শক্তিশালী। এই অব্যবস্থাপনার কারণে মার্কেট সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। আমরা দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির তীব্র প্রতিবাদ জানাই। সিন্ডিকেট ভাঙার জন্য সরকারের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি।

সাদা দলের যুগ্ম-আহ্বায়ক ছিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, বাংলাদেশে এখন যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে—সেটা নজিরবিহীন। লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত। মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। আমরা এর প্রতিবাদও করতে পারব না। আমাদের ওপর নানাভাবে মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। আমেরিকার ভিসানীতির মাধ্যমে বাংলাদেশকে উগান্ডা-নাইজেরিয়ার সমপর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বৈশ্বিক পর্যায়ে অপমানের ষোলোকলা পূর্ণ হয়েছে।

সাদা দলের বাণিজ্য অনুষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. শহীদুল ইসলাম জাহিদ বলেন, গত মে মাসের ২৪ তারিখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আমাদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়েছে। যা একই সঙ্গে লজ্জাজনক ও আশার। ব্যবসা বাণিজ্য, জ্ঞান-বিজ্ঞানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। আমরা আশাবাদী, যে পরিপ্রেক্ষিতে ভিসানীতি প্রণয়ন করা হয়েছে তার মাধ্যমে আমরা নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি জানাই।

ঢাবি অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, এ দেশের সংবিধান আমাদের ক্ষমতা দিয়েছে স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের। কিন্তু এই সরকার মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করে। যার প্রতিফলন আমরা আজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দেখতে পাচ্ছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ সবসময় গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পক্ষে। দেশব্যাপী যে আন্দোলন শুরু হয়েছে ভোটাধিকার লাভের আশায়। আমরা সেই আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করছি। কয়েক দিন আগেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি কর্তৃক আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কিছু মানুষ জনবিরোধী দাবি করে। যা বড়জোর সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও কার্যকরী পরিষদের মন্তব্য। আমদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। যেন এই ঐতিহ্য ভূলুণ্ঠিত না হয়। আমরা প্রত্যেককে এই আন্দোলনে শামিল হওয়ার দাবি জানাই। আমরা ভবিষ্যতের সব নির্বাচন সুষ্ঠু দেখতে চাই।

মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন—সাদা দলের সাবেক আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আকতার হোসেন খান, অধ্যাপক আবুল কালাম সরকার, অধ্যাপক ড. মো. মহিউদ্দিন আহমেদ ও সহযোগী অধ্যাপক এম এ কাউসার।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ