সংবিধানস্বীকৃত সভা-সমাবেশের অধিকার বাস্তবায়নে সহযোগিতার দায়িত্ব রাষ্ট্রের’ - জনতার আওয়াজ
  • আজ বিকাল ৪:৩৫, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

সংবিধানস্বীকৃত সভা-সমাবেশের অধিকার বাস্তবায়নে সহযোগিতার দায়িত্ব রাষ্ট্রের’

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, জুন ৭, ২০২৩ ৬:২৬ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, জুন ৭, ২০২৩ ৬:২৬ অপরাহ্ণ

 

ডেস্ক নিউজ
আগামী ১০ জুন রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের শান্তিপূর্ণ সমাবেশ বাস্তবায়নে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে এক যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও ঢাকা জজকোর্টের ১১৫ আইনজীবী।

বুধবার যৌথ বিবৃতিতে আইনজীবীরা বলেন, জনগণের অধিকার আদায়ে সু-নির্দিষ্ট তিনটি দাবিতে সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ। কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন, নেতাদের মুক্তি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণের দাবিতে আগামী ১০ জুন শনিবার রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে তারা এই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করতে চায়। সমাবেশ যথাযথভাবে বাস্তবায়নের লক্ষে এরই মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সহযোগিতার আবেদনও করা হয়েছে। সংবিধান হচ্ছে দেশের সর্বোচ্চ আইন। বাংলাদেশের সংবিধানে নাগরিকদের স্বাধীনভাবে চলাফেরা, মত প্রকাশ ও শান্তিপূর্ণ মিছিল-সভা সমাবেশ করার অধিকার দেয়া হয়েছে। সংবিধানের ৩৭ অনুচ্ছেদে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ‘জনশৃঙ্খলা বা জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বিধি-নিষেধসাপেক্ষে শান্তিপূর্ণভাবে ও নিরস্ত্র অবস্থায় সমবেত হইবার এবং জনসভা ও শোভাযাত্রায় যোগদান করিবার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকিবে।’

আইনজীবীরা বলেন, সংবিধানস্বীকৃত সভা সমাবেশের অধিকার বাস্তবায়নে সহযোগিতা করা রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধান দায়িত্ব। কিন্তু আমরা উল্টা প্রবণতা লক্ষ করছি। ২০২২ সালের ৩০ ডিসেম্বর, চলতি বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি ও ২৫ ফেব্রুয়ারি সমাবেশ-মিছিল করার জন্য সহযোগিতা চেয়ে ডিএমপিতে আবেদন করে জামায়াতে ইসলামী। প্রশাসন কোনোটার ক্ষেত্রেই সহযোগিতা করেনি। এমনকি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের একটি প্রতিনিধি দল সমাবেশের আবেদন নিয়ে ডিএমপি কমিশনারের কাছে গেলে ডিএমপি কার্যালয়ের গেট থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়, যা মত প্রকাশ ও সভা-সমাবেশে বাধা দেয়ার একটি নিকৃষ্ট নজির হয়ে থাকবে। সর্বশেষ গত ৫ জুন সমাবেশ ও মিছিল করার জন্য সহযোগিতা চেয়ে ডিএমপিতে আবেদন করা হয়। কিন্তু কর্মদিবসের (ওয়ার্কিং ডে) কথা বলে সেই আবেদনটিও নাকচ করে দেন ডিএমপি কমিশনার। এভাবে বারবার সহযোগিতা চাওয়ার পরও প্রশাসন জামায়াতে ইসলামীকে সভা সমাবেশ করতে দিচ্ছে না। আমরা আইনজীবীরা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে থাকি। ফলে সংবিধানস্বীকৃত এই অধিকার বাস্তবায়নে জামায়াতে ইসলামীর শান্তিপূর্ণ সমাবেশে পুলিশ প্রশাসনকে সার্বিক সহযোগিতা করার উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।

আইনজীবীগণ আরো বলেন, আমরা লক্ষ করছি যে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচিকে ঘিরে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে তাদের বাসাবাড়ি ও কর্মস্থল থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া অনেক নেতাকর্মীদের পরিবারের সদস্যদের বিনা অপরাধে হয়রানি করা হয়েছে, যা আইনের শাসনের চূড়ান্ত পরিপন্থী। পুলিশ প্রশাসন যেন গণতন্ত্রবিরোধী, শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরিতে নিজেদের প্রতিবন্ধক হিসেবে দাঁড় না করায়, আমরা সেই আহ্বানও জানাচ্ছি।
সূত্রঃ নয়া দিগন্ত

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ