এনজিওগ্রাম করা হবে খালেদা জিয়ার
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শনিবার, জুন ১১, ২০২২ ৭:৩৫ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শনিবার, জুন ১১, ২০২২ ৭:৪৭ পূর্বাহ্ণ

সিনিয়ির করেসপন্ডেন্ট
বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার এনজিওগ্রাম করানো হবে বলে জানিয়েছেন তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক এ জেড এম জাহিদ হোসেন। মেডিকেল বোর্ডের মিটিং শেষে তিনি এ তথ্য জানান।
শনিবার (১১ জুন) সকাল সাড়ে ১০ টা থেকে শুরু হওয়া এই বোর্ডের আলোচনা চলে ঘণ্টা খানেক। ঘণ্টাব্যাপী আলোচনা হয় হাসপাতালে ভর্তি বেগম জিয়ার পরবর্তী চিকিৎসা নিয়ে।
মেডিক্যাল বোর্ডের মিটিং সম্পর্কে এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘আমাদের মিটিং শেষ হয়েছে। আমরা সেখানে নানা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। প্রয়োজনে এনজিওগ্রাম করানো লাগবে। আরও কিছু পরীক্ষা নিরিক্ষা করা লাগবে। তারপরে গিয়ে বুঝতে পারব।’
উনার শারিরীক কি অবস্থা এই মূহুর্তে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এর বেশি বলা যাচ্ছেনা।
এর আগে শনিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে তাঁকে রাজধানীর এভারকেয়ারে হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে সেখানে সিসিইউতে ভর্তি করা হয় অধ্যাপক ডক্টর শাহাবুদ্দিন তালুকদারের তত্ত্বাবধানে।
সূত্র জানায়, বেগম খালেদা জিয়াকে ৭২ ঘন্টার পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
এর আগে মেডিকেল বোর্ডের সভায় জাহিদ চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা আপনাদের ডাক্তার হিসেবে যা করা দরকার, শী ইজ এ প্রাইম মিনিস্টার, শী ইজ এ প্যাসেন্ট, শী ইজ ইলডারলি লেডি এবং সে আপনাদের রেগুলার প্যাসেন্ট, কি করা উচিত আপনারা অ্যাডভাইস করবেন তারপরে সোশ্যাল স্ট্যাটাস, পলিটিক্যাল স্ট্যাটাস সেগুলো কনসিডারেশনের বিষয়ে, আপনারা চিকিৎসা করেন রোগীর উপর, রোগের কি প্রয়োজন সেটার ওপর। তার পরবর্তী কনসিডারেশন যাদের দরকার তারা যদি করতে পারেন করবে না করলে নাই, আপনাদের ডাক্তার হিসেবে যা করা উচিত সেটা করবেন।
এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শায়রুল কবির খান জানিয়েছেন, বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা সার্বিক বিষয় নিয়ে বিকেল তিনটায় দলের চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংবাদ সম্মেলন করবেন।
উল্লেখ্য, দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত খালেদা জিয়াকে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাগারে পাঠানো হয়। করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ সরকার শর্তসাপেক্ষে তাকে সাময়িক মুক্তি দেয়। এখন পর্যন্ত পাঁচবার খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।
করোনায় আক্রান্ত হয়ে ২০২১ সালের এপ্রিলে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন বিএনপি চেয়ারপারসন। ৫১ দিন পর বাড়ি ফিরে একই বছরের ১২ অক্টোবর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত আবার তিনি একই হাসপাতালে যান।
এরপর ১৩ নভেম্বর থেকে চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৮১ দিন হাসপাতালে থেকে বাসায় ফিরেন বিএনপিপ্রধান।
সে সময় বিএনপির পক্ষ থেকে খালেদাকে দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে নানা কর্মসূচি পালন করা হয়। দাবি করা হয়, দেশের বাইরে না নিলে তাকে বাঁচানো যাবে না। কারণ তার যে রোগ, তার চিকিৎসা দেশে নেই।
খালেদা জিয়ার কী রোগ, সেটি জানানো হয়নি শুরুতে। পরে জানানো হয়, লিভার সিরোসিস হয়েছে তার। আর শরীরের অভ্যন্তরে রক্তক্ষরণ একবার কোনো রকমে সামাল দেয়া গেছে। এর চিকিৎসা শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের দুই-একটি স্থানে আছে।
চলতি বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি বাসার বাইরে যান খালেদা জিয়া করোনার টিকার বুস্টার ডোজ নিতে। মহাখালীর শেখ রাসেল জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল প্রাঙ্গণে তিনি টিকা দিতে যান নিজের গাড়িতে করে। সেদিন দলের নেতা-কর্মীদের ভিড় ছিল লক্ষণীয়। হাসপাতালের কর্মীরা গাড়িতে বসা অবস্থায় তাকে টিকা দেন।
জনতার আওয়াজ/আ আ