কৃষ্ণচূড়ার লাল আগুনে পুড়ছে বেরোবি - জনতার আওয়াজ
  • আজ বিকাল ৪:০৭, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

কৃষ্ণচূড়ার লাল আগুনে পুড়ছে বেরোবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শুক্রবার, মে ৫, ২০২৩ ৩:৪৩ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শুক্রবার, মে ৫, ২০২৩ ৩:৪৩ অপরাহ্ণ

 

‘তুমি সেই কৃষ্ণচূড়া যার আলাপন প্রকৃতির প্রতিটি সূক্ষ্ম সরণির সাথে বহুযুগ ধরে। তুমি সেই কৃষ্ণচূড়া…’ কবি তার ভাষায় এমনটাই তুলে ধরেছেন তার সৃষ্টিতে। নয়নাভিরাম কৃষ্ণচূড়ার রাঙা ফুলের মায়ায় জড়িয়েছে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) ক্যাম্পাস।

চোখ ধাঁধানো টকটকে সিঁদুর লাল কৃষ্ণচূড়ার রক্তিম সাজে সজ্জিত হয়েছে পুরো কৃষ্ণচূড়া সড়ক জুড়ে। গ্রীষ্মের শুরুতেই পুরো ক্যাম্পাস যেন কৃষ্ণচূড়ার লাল রঙে রেঙেছে। সূর্যের সবটুকু উত্তাপ যেন কেড়ে নিয়েছে টুকটুকে লাল এই কৃষ্ণচূড়া। সবুজ বেরোবির ৭৫একরে গাঢ় লালের বিস্তার যেন বাংলাদেশের সবুজ প্রান্তরে রক্তিম সূর্যের প্রতীক আর বাংলাদেশের জাতীয় পতাকারই প্রতিনিধিত্ব করছে।

অনিন্দ্য সুন্দর বাংলাদেশের মধ্যে এ চত্বর যেন এক টুকরো বাংলাদেশেরই প্রতিচ্ছবি। কৃষ্ণচূড়া যেন সূর্যের সবটুকু উত্তাপকে শুষে নিয়ে সৌন্দর্যের এক অভিনব উত্তাপ ছড়াচ্ছে পুরো ক্যাম্পাস। সে উত্তাপেই পুড়ে যাচ্ছে সৌন্দর্য বিলাসীসহ সকল ক্যাম্পাসবাসী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক দুই নাম্বার গেইট (নির্মাণাধীন) দিয়ে ঢুকতেই কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের দক্ষিণ ও স্বাধীনতা স্মারক মাঠের উত্তর পাশে সারি সারি কৃষ্ণচূড়া গাছ। গাছগুলোর শাখায় শাখায় ফুটেছে রক্তবর্ণ ফুলের সমাহার। এর ফলে কৃষ্ণচূড়ার রক্তিম আভায় দুই নাম্বার গেইটের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছে বহুগুণ। এই কারনে এই সড়কের নামকরণ করা হয়েছে কৃষ্ণচূড়ারোড। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মচারী, পথচারী বা ক্যাম্পাসে আসা দর্শনার্থীদের যাতায়াতের সময় হৃদয় কাড়ে নয়ন জুড়ানো কৃষ্ণচূড়া।

মনের অজান্তেই মুখে অস্ফুট স্বরে বের হয়ে আসে ‘বাহ! কী চমৎকার দৃশ্য। কী মায়াবী জাল বিস্তার করেছে আকাশের পানে।’ শহর থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে পার্কের মোড়ে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস জুড়েই আগুন রাঙা সেই কৃষ্ণচূড়ার সৌন্দর্য আলো ছড়াচ্ছে। গাছে গাছে নয়ানভিরাম রাঙা ফুলের মায়া। দূর থেকে দেখলে মনে হবে গাছগুলোতে আগুন লেগেছে, কাছে গেলে চোখ আটকে থাকে রক্তিম আভার ফুলের সমাহারে। গাছের নিচে পড়ে থাকে অজস্র ঝড়াপাপড়ি,যেন মনে হয় রক্তবর্ণ লাল গালিচা। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন থেকে শুরু করে বিভিন্ন সড়ক,চত্ত্বর ও রাস্তার পাশে অসংখ্য গাছ এ ফুলের রক্তিম আভায় ছেয়ে গেছে পুরো ক্যাম্পাস।

এছাড়াও জারুল, হিজল, বকুল, সোনালুসহ নাম জানা অজানা অসংখ্য ফুলের গন্ধে ভরে গেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশ। গন্ধহীন এ ফুলে পাপড়ি থাকে পাঁচটি। নমনীয় কোমল, মাঝে লম্বা পরাগ। ফুটন্ত কৃষ্ণচূড়া ফুলের মনোরম দৃশ্য দেখে যে কেউ অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকবেই! কৃষ্ণচূড়ার এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের ছবি ঘুরছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ফেইসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে ও তাদের ওয়ালে।

কৃষ্ণচূড়ার অনিন্দ্য সৌন্দর্য বর্ণনা করতে গিয়ে ইতিহাস ও প্রত্নতত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী মনিষা সরকার বলেন, ফুল ফুটেছে কৃষ্ণচূড়াগাছে। ঘন ফুলে রক্ত রং ধারণ করছে গাছগুলো।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ার সামনে দিয়ে উপাচার্যের বাসার দিকে চলে যাওয়া সড়কের দুদিকের গাছের সারি সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে তুলেছে। যে কেউ এই সড়কে হাঁটলে মনে দোল খেয়ে যাবে। সড়কের দুই পাশে ফুটে আছে সোনালু, জারুল আর কৃষ্ণচূড়া। শিক্ষক-কর্মকর্তা বিল্ডিং এর সামনে এবং মসজিদের উত্তর-পশ্চিমে বিশাল দুটি আমবাগান। সব মিলিয়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস এখন সবুজ সমুদ্র।

একই বিভাগের অন্য একজন শিক্ষার্থী লিখা খাতুন বলেন,লাল রঙের আভায় ছেয়ে গেছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস,এ যেন এক অপূরূপ সৃষ্টি। প্রকৃতি তার সৌন্দর্য যেন অন্যভাবে ধরা দিচ্ছে ।যে কোন মানুষের মনকে নিমিষেই পাল্টে দিতে পারবে ছড়িয়ে দিবে আনন্দের হাসি।চিকন সবুজ পাতার মাঝে ফুটে থাকা লাল রঙের এই কৃষ্ণচূরা যেন নতুন সাজে নিজেকে সাজিয়েছে। আর সঙ্গে বাড়িয়ে দিয়েছে ক্যাম্পাসের অপরূপ সৌন্দর্য।

বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড তুহিন ওয়াদুদ বলেন, বাংলাদেশের অন্যতম সৌন্দর্যমন্ডিত বিশ্ববিদ্যালয় হলো বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়। এখন ক্যাম্পাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফুল গুলো হলো জারুল, কৃষ্ণচূড়া, সোনালু।আবার এর সাথে যুক্ত হয়েছে লাল সোনাই। এখানে প্রায় ৪০০ প্রজাতির গাছ রয়েছে।গ্রীষ্মের শুরুতে ফুল ফোটা শুরু করে এবং এই ফুলগুলো গ্রীষ্ম মৌসুমকে উজ্জ্বল করে রাখে। পাশাপাশি ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য বহুগুন বাড়িয়ে তুলেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী,কর্মকর্তা- কর্মচারী এবং বাইরে থেকে আসা সৌন্দর্যপিপাসু লোকদের পিপাসা মিটাতে সাহায্য করে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ