ফরমায়েশি রায়ের ঘটনায় বিএনপির সাবেক মহিলা এমপিদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ - জনতার আওয়াজ
  • আজ বিকাল ৩:৫৬, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

ফরমায়েশি রায়ের ঘটনায় বিএনপির সাবেক মহিলা এমপিদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, আগস্ট ২, ২০২৩ ৬:২৯ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, আগস্ট ২, ২০২৩ ৬:২৯ অপরাহ্ণ

 

রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দুদকের মামলায় বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিনী ডাঃ জুবাইদা রহমান ক্ষমতাসীন আ’লীগ সরকারের নগ্ন প্রতিহিংসার শিকারের নজির হলো আদালত কর্তৃক আজকের ফরমায়েশি এই রায় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দল-বিএনপি দলীয় সাবেক মহিলা এমপিরা। তারা বলেছেন, অবৈধ সরকারের নীল নকশায় পরিচালিত একটি তথাকথিত বিচার প্রক্রিয়ায় জনাব তারেক রহমান ও তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানের বিরুদ্ধে ফরমায়েশি রায়ের মাধ্যমে সাজা প্রদান করা হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষের আশা-ভরসার স্থল, বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন চলমান গণতান্ত্রিক আন্দোলনের বিষয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য আজ ০২ আগস্ট, ২০২৩ তারিখে এই মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে আদালতকে দিয়ে। জনাব তারেক রহমান-ডাঃ জুবাইদা রহমানের বিরুদ্ধে করা মিথ্যা ঘটনায় ভূয়া এই মামলায় মাত্র ১ মাস ২০ দিনে ৪২ জনকে দিয়ে সাজানো স্বাক্ষী দিয়ে আদালত কর্তৃক আজকের রায় আমরা মানিনা। নতুন করে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে বিবেচিত এই ফরমায়েশি রায় আমরা প্রত্যাখান করছি এবং এই রায়ের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
সাবেক এমপি শাম্মী আক্তার কর্তৃক গণমাধ্যমের কাছে পাঠানো একটি যৌথ বিবৃতিতে বিএনপি দলীয় সাবেক এমপিরা বলেন, মামলার গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করলেই বুঝা যায় যে, এটি একটি ফরমায়াশি রায়। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দুদকের এই মামলায় বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিনী ডাঃ জুবাইদা রহমান আ’লীগ সরকারের প্রতিহিংসামূলক এই মামলার শিকার হয়েছেন। এই মামলার ঘটনা এগিয়েছে একেবারে সুপারসনিক গতিতে! বাংলাদেশের ইতিহাসে আর কোনো মামলা এতো দ্রুত নিষ্পত্তি করে রায় দেয়ার কোনো নজীর নেই।
বিএনপি দলীয় সাবেক এমপিরা বিবৃতিতে বলেন, বর্তমান ক্ষমতাসীন আ’লীগ সরকার দীর্ঘদিন অবৈধভাবে ক্ষমতায় থেকে রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে ফেলেছে। রাষ্ট্রের অন্যতম স্তম্ভ বিচার বিভাগ তার মধ্যে অন্যতম উদাহরণ। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) শুধুমাত্র সরকারের আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানই নয়, বিরোধী দলীয় দমন কমিশনে পরিণত হয়েছে। আমরা সর্বক্ষেত্রে বিচারের নামে প্রহসন প্রত্যক্ষ করছি। ইতোপূর্বে সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, আমাদের দলীয় প্রধান, দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা দেয়া হয়েছে, তাঁকে দীর্ঘ বছর ধরে কারান্তরীণ করে রাখা হয়েছে। নিম্ন আদালতের সাজা উচ্চ আদালত কর্তৃক নজীরবিহীনভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। একজন বয়স্ক ও নারী হিসাবে আইনগতভাবে তাঁর জামিন প্রাপ্তির অধিকার থাকলেও সেই অধিকার থেকে তাঁকে বঞ্চিত করা হয়েছে। বিগত ১৪ বৎসরে সারাদেশে মিথ্যা ও গায়েবী মামলায় প্রায় ৪০ লক্ষ মানুষকে আসামী করা হয়েছে। শত শত নেতাকর্মীদের সাজা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, গত কয়েক দিনের ঘটনা প্রবাহে আমরা আগেই আশঙ্কা করেছিলাম যে, আমাদের প্রিয় নেতা, বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান, তাঁর স্ত্রী ডাঃ জুবাইদা রহমানকে সরকারী নীল নকশায় মিথ্যা মামলায় হয়তবা সাজার ব্যবস্থা করা হবে। অথচ এই মামলা চলার মতো কোন আইনগত উপাদান নেই। কেননা জনাব তারেক রহমান প্রদেয় সম্পদ বিবরণী যা ২০০৭ সালে জমা দেওয়া হয়েছিল, তার পুরোপুরিভাবে আয়কর জমা দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি ডাঃ জুবাইদা রহমানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ হচ্ছে ৩৫ লক্ষ টাকার এফডিআর সংক্রান্ত মামলা দায়েরের আগেই (২০০৫-২০০৬) অর্থ বৎসরের ট্যাক্স রিটার্ন দেওয়া হয়েছিল। জনাব তারেক রহমান ও তাঁর স্ত্রী ডাঃ জুবাইদা রহমানের বিরুদ্ধে ঢাকার বিশেষ আদালতে চলমান এই মামলায় অবিশ্বাস্য দ্রুততায় সাক্ষী নেয়া হয়। অথচ দেশে লক্ষ লক্ষ মামলার জট থাকলেও তাঁদের এই মামলায় মাত্র ১ মাস ২০ দিনে ৪২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। রাত ৮টা-৯টা পর্যন্ত একতরফাভাবে সাক্ষী নেয়া হয়েছে। আমাদের আইনজীবীরা এ ধরনের বিচার কাজের বৈধতা বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করতে গেলে তাদের উপর পুলিশ ও সরকার দলীয় আইনজীবীরা একাধিকবার হামলা চালিয়েছে। তাদেরকে আদালত কক্ষ থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে বিচারের নামে ক্যামেরা ট্রায়াল চালানো হয়েছে।
বিএনপি দলীয় সাবেক এমপিরা তাদের বিবৃতিতে আরো বলেন, সরকারী নীল নকশায় পরিচালিত এই তথাকথিত বিচার প্রক্রিয়ায় জনাব তারেক রহমান ও তাঁর স্ত্রী ডাঃ জুবাইদা রহমানকে ফরমায়েশি রায়ের মাধ্যমে সাজা প্রদান করা হলো। অতীতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ আমাদের অনেক নেতাকে ফরমায়েশি রায়ের মাধ্যমে সাজা প্রদান করা হয়েছে। জনাব তারেক রহমান ও তাঁর স্ত্রী ডা.
জুবাইদা রহমানকে একই প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে ফরমায়েশি রায়ের মাধ্যমে সাজা দেওয়া হলো একটি গভীর চক্রান্তের অংশ। এতো দ্রুত গতিতে মামলা নিষ্পত্তির মূল কারণ যে- কেবলই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, তা নিশ্চই বলার অপেক্ষা রাখে না।
অবৈধ সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে- দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, দেশনায়ক তারেক রহমানসহ সকল দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক নেতাদের রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়া। বাংলাদেশকে পুনরায় একদলীয় শাসন ব্যবস্থা বাকশালে ফিরিয়ে নেওয়া। কারণ অবৈধভাবে ক্ষমতাসীন আ’লীগ সরকার রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে গেছে অনেক আগেই! সর্বশেষ ফরমায়েশি এই রায়ের মধ্য দিয়ে দেশের বিচার বিভাগের ওপর মানুষের সর্বশেষ আশাটুকু শেষ করে দিল।
যৌথ বিবৃতি দেয়া বিএনপি দলীয় সাবেক এমপিদের মধ্যে অন্যতম হলেন- বেগম সেলিমা রহমান, বেগম খালেদা রাব্বানী, শিরিন সুলতানা, সৈয়দা আশিফা আশরাফি পাপিয়া, সুলতানা আহমেদ, বিলকিস ইসলাম, নিলোফার চৌধুরী মনি, হেলেন জেরিন খান, রেহানা আক্তার রানু, শাম্মী আক্তার, রেজিনা ইসলাম, নেওয়াজ হালিমা আরলি, বিলকিস জাহান শিরিন, জাহান পান্না, নার্গিস আলী, ফাহিমা হোসেন জুবলি, এ্যাডভোকেট রিনা পারভীন, ইয়াসমিন আরা হক, ফেরদৌস আক্তার ওয়াহিদা, প্রমুখ ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ