৮ উপদেষ্টার বিরুদ্ধে কথিত দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে তোলপাড়, এখন কী হবে? - জনতার আওয়াজ
  • আজ বিকাল ৪:০৪, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

৮ উপদেষ্টার বিরুদ্ধে কথিত দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে তোলপাড়, এখন কী হবে?

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, আগস্ট ১১, ২০২৫ ২:৩০ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, আগস্ট ১১, ২০২৫ ২:৩০ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার একান্ত সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার সরকারের ৮ উপদেষ্টার ‘সীমাহীন দুর্নীতির’ প্রমাণ নিজের কাছে রয়েছে দাবি করার পর এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। গত বছর ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর এক সঙ্গে এত জন উপদেষ্টার বিরুদ্ধে এই প্রথম কোনো দুর্নীতির অভিযোগ আসার পরপরই সরকারের পক্ষ থেকে তা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

সাত্তার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনার পর সরকারের মন্ত্রিপরিষদ সচিব শনিবার (৯ আগস্ট) এক বিবৃতিতে অভিযোগকারীর কাছে থাকা সব প্রমাণ যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিতে আহ্বান জানিয়েছেন।

ওইদিন এক বিবৃতি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আব্দুস সাত্তারের ওই বক্তব্যের দায় সম্পূর্ণ তার এবং এর সঙ্গে তার দলের কোনো সম্পর্ক নেই।

কিন্তু আব্দুস সাত্তার এখনো তার বক্তব্য প্রত্যাহার করেননি। সে কারণে সরকার বা দুর্নীতি দমন কমিশন এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেবে কি-না কিংবা অভিযোগকারী নিজেই সরকারের আহ্বানে সাড়া দিয়ে তথ্য প্রমাণ জমা দেবেন কি-না, তা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।

দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলছেন, সাবেক সরকারি কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তার দুর্নীতির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করে বক্তব্য দিয়েছেন। সে কারণে তার উচিত হলো দালিলিক প্রমাণগুলো সরবরাহ করা।

সিপিডির ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলছেন, অভিযোগকারী সরকারের আহ্বানে সাড়া দিয়ে তথ্য উপাত্ত না দিলে ভবিষ্যতে দুর্নীতির অভিযোগ আসলে তা গুরুত্ব হারানোর আশঙ্কা তৈরি হবে।

শনিবার থেকেই সাত্তার তার ফোন বন্ধ করে রাখায় তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। যোগাযোগ করেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি দুর্নীতি দমন কমিশন থেকেও।

আব্দুস সাত্তার কে এবং তিনি যা বলেছিলেন

বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ৮২ ব্যাচের কর্মকর্তা এ বি এম আব্দুস সাত্তার বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার একান্ত সচিব।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে যুগ্ম সচিব থাকার সময়ে তাকে অবসরে পাঠানো হয়েছিলো। গত বছর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বর্তমান সরকার তাকে ভূতপূর্ব সচিব পদে পদোন্নতি দেয়।

এরপর তিনি তার সমর্থকদের নিয়ে ঢাকায় অফিসার্স ক্লাবের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নির্বাচন ছাড়াই সাধারণ সম্পাদক হন।

তিনি ক্লাবের দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ১০৬ জন কর্মকর্তার সদস্যপদ স্থগিত করা হয়, যার মধ্যে সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মুখ্যসচিবসহ ৭০ জন সচিব ছিলেন।

এরপর মে মাসে তখনকার পররাষ্ট্রসচিব মো. জসীম উদ্দিনসহ ছয়জনের সদস্যপদ স্থগিত করে তার নেতৃত্বাধীন কমিটি। সাত্তার একই সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী কর্মচারী ঐক্য ফোরামের সভাপতি হিসেবেও পরিচয় দিয়ে থাকেন।

শুক্রবার রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে ‘জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা ও আগামী দিনের জনপ্রশাসন’ শীর্ষক সেমিনারটি আয়োজন করে প্রশাসন ক্যাডারদের কর্মকর্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সরকারি কর্মকমিশন বা পিএসসি সচিব সানোয়ার জাহান ভূঁইয়া।

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার মুখ্যসচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া আর মুখ্য আলোচক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান। আরও বক্তব্য দিয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মোখলেস উর রহমান, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ