কামরাঙ্গীরচর ও তুরাগে বিএনপির পদযাত্রায় আওয়ামী লীগের হামলা
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
রবিবার, মার্চ ৫, ২০২৩ ২:১৯ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
রবিবার, মার্চ ৫, ২০২৩ ২:১৯ অপরাহ্ণ

কামরাঙ্গীরচর ও উত্তরার তুরাগ থানার রানাভোলা এলাকায় নেতা–কর্মীদের ওপর হামলা করেছে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। দুটি ঘটনায় অন্তত ৩৭ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন বলে দলটি জানিয়েছে।
কামরাঙ্গীরচরের ঝাউচর প্রধান সড়কে বেলা দুইটায় পদযাত্রার কর্মসূচি ছিল। কিন্তু সকাল থেকেই স্থানীয় আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকেরা জায়গাটি দখলে নেন। এরপর আরও দুই জায়গায় জড়ো হতে গেলে সেখানেও তাঁরা বাধা দেন। এ পরিস্থিতিতে বেলা আড়াইটার দিকে ঝাউচর প্রধান সড়কে পৌঁছান পদযাত্রার প্রধান অতিথি বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা আশিফা আশরাফি (পাপিয়া)। তিনি জানতেন না, সেখানে আগে থেকেই মারামারি হচ্ছিল। তিনি গাড়িতে বসা অবস্থাতেই লাঠিসোঁটা নিয়ে আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকেরা হামলা চালান। এতে তাঁকে বহন করা গাড়িটি ব্যাপকভাবে ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় ৩০ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও কামরাঙ্গীরচর থানার সাবেক সভাপতি হাজী মনির হোসেন বলেন, ‘আমরা আগেই পদযাত্রার নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশের সহায়তা চেয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশ নিরাপত্তা দিতে পারেনি। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা মোড়ে মোড়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে অবস্থান নেয়। বোমা ফাটায়। আমাদের নেতা-কর্মীদের মারধর করে।’
বিএনপি জানিয়েছে, হামলায় ১২ জন মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। এর মধ্যে কামরাঙ্গীরচর থানা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি হাজী রশিদ, যুগ্ম আহ্বায়ক জহিরুল হক, ৫৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. দুলাল ও খলিফা ঘাট ইউনিট বিএনপির সভাপতি মো. জসিম গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
ঘটনা সম্পর্কে বিএনপির কেন্দ্রীয় মানবাধিকারবিষয়ক সহসম্পাদক সৈয়দা আশিফা আশরাফি সাংবাদিকদের জানান, তিনি কোনো রকম জীবন নিয়ে ফিরে এসেছেন। তাঁর গাড়ি ভাঙচুরের পাশাপাশি চালককেও মারধর করা হয়েছে। একপর্যায়ে মোটরসাইকেলে করে তিনি পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।
বেলা দুইটায় তুরাগ থানার পদযাত্রা-পূর্ব সমাবেশের আগে ও পরে দুই দফা হামলা হয়। সমাবেশের পর উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টরের ৫ নম্বর সড়ক থেকে পদযাত্রা শুরু হলে পেছন থেকে হামলা হয়। এতে বিএনপির সাতজন আহত হন। এ কর্মসূচিতে দলের কেন্দ্রীয় নেতা জহির উদ্দিন স্বপন প্রধান অতিথি ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তফা জামান সভাপতি ছিলেন।
মোস্তফা জামান বলেন, উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টরের রানাভোলায় তাঁর বাড়ির সামনেই পদযাত্রার কর্মসূচি ছিল। আওয়ামী লীগের সমর্থকেরা পদযাত্রায় হামলার পর তাঁর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করেন। এ সময় তাঁর বৃদ্ধা মা আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে তিনি জানান।
শনিবার রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে খন্দকার মোশাররফ হোসেন, শাহবাগে মির্জা আব্বাস, বংশালে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, পল্লবীতে আবদুল মঈন খান, গুলশানে হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, শাহজাহানপুরে আলতাফ হোসেন চৌধুরী, পল্টনে আবদুস সালাম, কাফরুলে আবুল খায়ের ভূঁইয়া, রূপনগরে হাবিবুর রহমান হাবিব, চকবাজারে ফরহাদ হালিম, মোহাম্মদপুরে মামুন আহমেদ, ভাষানটেকে আবদুল হাই শিকদার, তুরাগে জহির উদ্দিন স্বপন, কদমতলীতে শহিদ উদ্দীন চৌধুরী, রামপুরা খায়রুল কবির, শ্যামপুর আসাদুজ্জামান রিপন, ধানমন্ডিতে নাসির উদ্দিন অসীমসহ বিভিন্ন থানায় কেন্দ্রীয় নেতারা নীরব পদযাত্রার নেতৃত্ব দেন।
এ ছাড়া সকালে গণতন্ত্র মঞ্চ জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে, ১২–দলীয় জোট রাজধানীর বিজয়নগরে পানির ট্যাংক থেকে, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট বিজয়নগরে আল-রাজি কমপ্লেক্সের সামনে থেকে এবং সমমনা পেশাজীবী গণতান্ত্রিক জোট পুরানা পল্টনে মোড়ে থেকে পৃথক পদযাত্রা করে। বিকেলে এলডিপি এফডিসি–সংলগ্ন দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে, বাড্ডা ও যাত্রাবাড়ী থেকে পৃথক পদযাত্রা বের করে।
গত ২৩ ডিসেম্বর গণমিছিলের মধ্য দিয়ে যুগপৎ কর্মসূচি হিসেবে বিএনপিসহ সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো এই পদযাত্রা করল। এরপর ১১ মার্চ হবে মানববন্ধন।
জনতার আওয়াজ/আ আ