জুলাই অভ্যুত্থানের সুযোগ নিয়ে স্বাধীনতাবিরোধী মৌলবাদী শক্তির উত্থান ঘটেছে - জনতার আওয়াজ
  • আজ বিকাল ৩:৪০, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

জুলাই অভ্যুত্থানের সুযোগ নিয়ে স্বাধীনতাবিরোধী মৌলবাদী শক্তির উত্থান ঘটেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, আগস্ট ৪, ২০২৫ ১০:৪৮ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, আগস্ট ৪, ২০২৫ ১০:৪৮ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ
ছবি: সংগৃহীত
আগামী সংসদ নির্বাচন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত চলছে। যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে চব্বিশের গণ-আন্দোলন হয়েছিল, সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি। বরং একাত্তর ও চব্বিশকে মুখোমুখি করে বিভাজন সৃষ্টি করা হচ্ছে। জুলাই অভ্যুত্থানের সুযোগ নিয়ে স্বাধীনতাবিরোধী মৌলবাদী শক্তির উত্থান ঘটেছে।

দেশব্যাপী নৈরাজ্য চলছে।
সোমবার (৪ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবে গণফোরাম আয়োজিত ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান : প্রত্যয় ও প্রত্যাশা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তারা।

গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, ‘যতবারই গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় এগিয়েছি, ততবারই বাধাগ্রস্ত হয়েছি। জুলাই অভ্যুত্থানের পর আমরা শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ওপর আস্থা রেখেছিলাম।

কিন্তু তিনিও নিরপেক্ষতা ধরে রাখতে পারলেন না। পক্ষপাতমূলক আচরণ করছেন। বিদেশিরা নানা কথা বলছেন। নির্বাচন নিয়েও নানা টালবাহানা চলছে।
তাই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় উত্তরণের স্বার্থে দ্রুত নির্বাচন দিয়ে সরকারকে বিদায় নিতে হবে।’
আগামীতে গণতান্ত্রিক ধারায় দেশ পরিচালনার লক্ষ্যে আরেকটি লড়াইয়ের প্রস্ততি গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

সভায় গণফোরাম প্রতিষ্ঠাতা ও ইমেরিটাস সভাপতি ড. কামাল হোসেনের লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন দলের সাধারণ সম্পাদক ডা. মিজানুর রহমান। তিনি সতর্কতার সঙ্গে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনগণের অভিপ্রায়ে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে সাংবিধানিক ধারা অব্যাহত রাখতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে একটি বৈষম্যহীন, মানবিক নতুন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে তা কোনোক্রমেই ব্যাহত করা যাবে না।

তিনি আরো বলেন, ‘অতীতে রাজনৈতিক দলগুলোর মতপার্থক্য ও বিভক্তির কারণে জনগণ আন্দোলনের সফলতা বা ফসল ভোগ করতে পারেনি।

এ কারণে বারবার হোঁচট খেতে হয়েছে এবং জনগণকে পুনরায় রাষ্ট্রের বা ক্ষমতাসীন অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হয়েছে।’
বাংলাদেশ জাসদ সভাপতি শরীফ নূরুল আম্বিয়া বলেন, ‘এক বছরে রাজনৈতিক সংকটের উত্তরণ হয়েছে বলে মনে করি না। এখনো আমাদের জাতীয় সংগীত পরিবর্তন ও একাত্তরের পরিবর্তে চব্বিশকে মহিমান্বিত করার অপচেষ্টা চলছে। সরকার চলছে, এনসিপি ও জামায়াতের কথায়। কিংস পার্টি ও জামায়াতের সঙ্গে আলোচনা করে জুলাই ঘোষণাপত্র দেওয়া হচ্ছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়। যতদ্রুত জনগণের কাছে ক্ষমতা যায়, ততই ভালো। আর সেটা করতে না পারলে ড. ইউনূস সরকারকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।’

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার ও তার সমর্থকরা পারলে একাত্তরের ওপর চব্বিশকে প্রতিস্থাপন করতে চায়। যে কারণে সংস্কার কমিশনে সংবিধানের চার মূলনীতি বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে ধ্বংসের চেষ্টা চলছে। অথচ একাত্তর ও নব্বইয়ের আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান ঘটেছে।’

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘যারা রাষ্ট্র পরিচালনায় দায়িত্বে আছে, তাদের তিনজন ছাড়া কেউ জুলাই গণ-আন্দোলনে সরাসরি ভূমিকা রাখেননি। ফলে জুলাই প্রত্যাশা পূরণ নিয়ে প্রশ্ন থাকবেই। নির্বাচন ছাড়া পরিবর্তন অসম্ভব। তাই সরকারকে মানসম্পন্ন নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে।’

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘স্বাধীনতার পর এতবড় জনসমর্থিত সরকার দেশে আসেনি। আবার এত দুর্বল ও ন্যূব্জ সরকারও আসেনি। দেশ এখন সামাজিক নৈরাজ্যের মধ্যে আছে। পুরো দেশ নিরাপত্তা ঝুঁকিতে। এই পরিস্থিতি উত্তরণে দ্রুত সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে।’

সভায় আরো বক্তৃতা করেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)’র জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি তানিয়া রব, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, ভাষানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবলু, অধ্যাপক ড. আব্দুল লতিফ এবং গণফোরামের সভাপতি পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট সুরাইয়া বেগম, মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ, অ্যাডভোকেট সেলিম আখতার ও একেএম জগলুল হায়দার আফ্রিক।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ