তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় পৌঁছেছে খামেনির মরদেহ
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শুক্রবার, জুলাই ৩, ২০২৬ ৪:৫৭ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শুক্রবার, জুলাই ৩, ২০২৬ ৪:৫৯ অপরাহ্ণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
সংগৃহীত ছবি
মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহত ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহ তেহরানের ইমাম খোমেনী গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদে নেওয়া হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, গ্র্যান্ড মোসাল্লা চত্বরে সাধারণ মানুষ ও দর্শনার্থীদের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যদের মরদেহ রাখা হয়েছে। আগামীকাল শনিবার সেখানেই খামেনির প্রথম রাষ্ট্রীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বিভিন্ন শহর ঘুরে আগামী ৯ জুলাই মাশহাদ শহরে হযরত ইমাম রেজা (আ.) এর মাজারে তাকে সমাহিত করা হবে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, ইরানের জাতীয় পতাকায় মোড়ানো খামেনির কফিন গ্র্যান্ড মোসাল্লায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কালো পোশাক পরা হাজারো শোকাহত মানুষ সেখানে জড়ো হয়েছেন। লাল ফুল ও সাদা প্রজাপতির প্রতীকী সাজসজ্জার মধ্যে কফিনটি রাখা হয়।
ইরানের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজায় দেশ-বিদেশ থেকে লাখো মানুষের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এ কারণে জানাজায় প্রায় দুই কোটি মানুষের সমাগম হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এমনটি হলে এটি হবে ইরানের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় জানাজার আয়োজন।
এদিকে দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ সাধারণ জনগণের প্রতি ব্যাপকভাবে জানাজায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এই বিশাল উপস্থিতির মাধ্যমেই খামেনির হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার জাতীয় অঙ্গীকার বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে হবে।
গালিবাফ আরও বলেন, এই শোকানুষ্ঠান ইরানের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হবে।
অন্যদিকে, নিরাপত্তাজনিত শঙ্কার কারণে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন না তার ছেলে এবং বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভারতে নিযুক্ত ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধি আয়াতুল্লাহ হাকিম এলাহি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
নয়াদিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তেহরানের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে তিনি জানান, ইসরায়েলের অব্যাহত হুমকির কারণেই মোজতবা খামেনি জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারবেন না।
এলাহি বলেন, “আমি গত সপ্তাহে ইরানে ছিলাম এবং সেখানে এমন কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে দেখা করেছি, যারা তার (মোজতবা খামেনি) সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তিনি বাইরে আসতে চান, মানুষের সঙ্গে দেখা করতে চান। কিন্তু নিরাপত্তা বাহিনী তাকে বাইরে আসার অনুমতি দিচ্ছে না।”
তিনি আরও জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে মোজতবা খামেনির জীবনের ওপর বড় ধরনের ঝুঁকি রয়েছে। তাই তাকে যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব না হওয়ায় জনসমক্ষে আসতে দেওয়া হচ্ছে না।
মূলত, সম্প্রতি ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ মন্তব্য করেন, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি তাদের ‘হত্যার তালিকায়’ রয়েছেন। কাটজের এই বক্তব্যের পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে কড়া প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, ইরানের নেতৃত্ব বা জনগণের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের হুমকির জবাব তাৎক্ষণিক ও শক্তভাবে দেওয়া হবে।
তবে ইসরায়েলের ধারাবাহিক হুমকির কারণেই মোজতবা খামেনিকে আপাতত জনসমক্ষে না আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে তাকে জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দেওয়া হচ্ছে না।
জনতার আওয়াজ/আ আ