দেশকে বাঁচিয়ে তারপর বাঁচতে চাই: সংসদে চিফ হুইপ - জনতার আওয়াজ
  • আজ বিকাল ৩:৪১, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

দেশকে বাঁচিয়ে তারপর বাঁচতে চাই: সংসদে চিফ হুইপ

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৩০, ২০২৬ ১০:০৮ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৩০, ২০২৬ ১০:০৮ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি সংগৃহীত
জাতীয় সংসদকে কার্যকর ও ফলপ্রসূ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমরা কেউ মরতে চাই না, সবাই মিলে বাঁচতে চাই—দেশকে বাঁচিয়ে তারপর বাঁচতে চাই।’

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সংসদের অধিবেশনের প্রথম সেশনে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

চিফ হুইপ বলেন, বর্তমান সংসদের অনেক সদস্য দীর্ঘ রাজনৈতিক নিপীড়ন, মামলা-হামলা এবং দমন-পীড়নের অভিজ্ঞতা নিয়েই সংসদে এসেছেন। তিনি সংসদকে “মজলুমদের সংসদ” হিসেবে উল্লেখ করে অতীতের কঠিন সময়ের কথা স্মরণ করেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ বারবার রাজনৈতিক সংকট, অস্থিরতা ও বিভাজনের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয়েছে। দুর্ভিক্ষ, গণতন্ত্রহীনতা ও স্বৈরশাসনের সময় অতিক্রম করে দেশ আজকের অবস্থানে এসেছে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে নূরুল ইসলাম বলেন, স্বাধীনতার আগে মানুষের লক্ষ্য ছিল গণতন্ত্র, বৈষম্যহীন সমাজ এবং স্বাবলম্বী বাংলাদেশ গঠন। শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে অগ্রসর হলেও স্বাধীনতার পর দমন-পীড়ন, রক্ষীবাহিনীর অত্যাচার, দুর্ভিক্ষ ও রাজনৈতিক সংকট দেশকে হতাশার দিকে ঠেলে দেয়। তিনি উল্লেখ করেন, বাকশাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক কাঠামো সীমিত হয়ে পড়ে।

পরবর্তীতে জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে অর্থনীতি পুনর্গঠন ও উৎপাদনমুখী নীতি গ্রহণের মাধ্যমে দেশকে ঘুরে দাঁড় করানোর চেষ্টা হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার মৃত্যুর পর আবার অস্থিরতা তৈরি হলেও খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন জোরদার হয়।

চিফ হুইপ বলেন, বাংলাদেশ বারবার সংকট, স্বৈরশাসন ও অন্ধকার সময় অতিক্রম করে সামনে এগিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়েও নির্যাতন, গুম, বিচারহীনতা ও রাজনৈতিক দমন-পীড়নের অভিজ্ঞতা রয়েছে।

তিনি বলেন, এসব চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এখন আবার একটি “নতুন সূর্যোদয়ের” সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে সব পক্ষকে বিভাজন ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণের আহ্বান জানান তিনি।

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য উদ্ধৃত করে চিফ হুইপ বলেন, দল-মত ভিন্ন হলেও একটি “ফ্যাসিবাদমুক্ত, স্বাধীন, সার্বভৌম ও মানবিক বাংলাদেশ” গঠনে সবার ঐক্য থাকা প্রয়োজন।
তিনি বিরোধী দলের বক্তব্যের প্রশংসা করে বলেন, কার্যকর সংসদ গঠনের জন্য অতীতের সীমাবদ্ধতা থেকে শিক্ষা নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সংসদকে শুধু প্রাণবন্ত করলেই হবে না, এটিকে কার্যকর করাও জরুরি। “সংসদ যদি কার্যকর না হয়, তাহলে শুধু প্রাণবন্ত হলেও লাভ নেই,” মন্তব্য করেন তিনি। জাতীয় সমস্যাগুলো সংসদে এনে যুক্তিসংগত সমাধান খোঁজার আহ্বান জানান।

চিফ হুইপ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও বিভাজনের রাজনীতি পরিহার করে জাতীয় স্বার্থে ঐকমত্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, জ্বালানি ও গ্যাস ইস্যুতে সংসদে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নেওয়ার ফলে জনমনে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

তিনি জানান, সরকার ও সংসদ সদস্যরা ব্যক্তিগত সুবিধা ত্যাগ করে জাতীয় স্বার্থে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। “প্লট নেব না, গাড়ি নেব না—এই সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগত লাভের জন্য নয়, জাতির স্বার্থে,” বলেন তিনি।

সংসদের সাম্প্রতিক কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্বল্প সময়ে বিপুল সংখ্যক আইন ও অধ্যাদেশ নিয়ে কাজ করতে হয়েছে। তিনি জানান, “১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে আমরা কাজ করেছি, যা একটি রেকর্ড।” তবে দ্রুততার কারণে কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল বলে স্বীকার করে বিরোধী দলের সদস্যদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন।

আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে বিলগুলো আরও যাচাই-বাছাই করে সংসদে উপস্থাপন করা হবে।

শেষে তিনি গ্রামীণ জনগণ, শ্রমজীবী মানুষ ও নিম্নআয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “রাজনীতি হবে মানুষের জন্য—যে কৃষক, শ্রমিক, রিকশাচালক প্রতিদিন সংগ্রাম করে বাঁচে, তাদের জীবনমানের উন্নয়নই গণতন্ত্রের আসল লক্ষ্য।”

সব দলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতন্ত্রকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “দেশের স্বার্থে, মানুষের স্বার্থে আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”

তিনি পুনরায় বলেন, “আমরা কেউ মরতে চাই না, সবাই মিলে বাঁচতে চাই—দেশকে বাঁচিয়ে তারপর বাঁচতে চাই।” এই দর্শনকে সামনে রেখে বর্তমান সংসদকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ