দেশে ও বহির্বিশ্বের দৃষ্টিতে শহীদ জিয়া কেমন রাষ্ট্র নায়ক ছিলেন
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
বৃহস্পতিবার, জুলাই ২, ২০২৬ ১২:৫৭ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
বৃহস্পতিবার, জুলাই ২, ২০২৬ ১২:৫৭ পূর্বাহ্ণ

পর্ব নং ১১ তম ———
সম্মানিত পাঠক পাঠিকা বৃন্দ , গেল ১০ পর্বে সাবেক এন এস আই এর মহা পরিচালক জনাব এস আবদুল হাকিম ” জিয়া কে যেমন দেখেছি ” লেখা বইতে যেমনটি তুলে ধরেছিলেন তার মধ্যে একটি স্মৃতি চারন প্রকাশ করছিলাম। আজ সংক্ষিপ্ত আকারে জনাব এস আবদুল হাকিমের উল্লেখযোগ্য দু’টি স্মৃতি চারন তুলে ধরছি। আশাকরি মনোযোগ দিয়ে বিষয়টি পড়বেন।
# বি এন পির এক নেতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাইয়ের সাথে খুব ঘনিষ্ঠ হয়ে পড়েছিলেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আপন ভাই ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা ছিলেন। বি এন পির নেতৃস্থানীয় সেই নেতা রাষ্ট্রপতির ভাই কে নিয়ে প্রায়ই এদিক ওদিক ঘুরাফেরা করতেন। উদ্দেশ্য ছিল লোক সমাজে দেখানো যে , রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাইযের সাথে তার খুবেই মধুর সম্পর্ক। একপর্যায়ে সেই বি এন পি নেতা তার নিজস্ব ব্যাবসায় অনৈতিক ফায়দা লুটার জন্য রাষ্ট্রপতির ভাই কে সাইনবোর্ড হিসাবে ব্যাবহার করা পায়তারা করছিলেন। যাহা আমাদের নজরে পড়েছিল। বিষয়ে টি রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সহজ সরল ভাই বিন্দুমাত্র বুঝতে সক্ষম হননি। বিষয়টি আমি (অর্থাৎ তৎকালীন এন এস আই এর মহাপরিচালক জনাব এস আবদুল হাকিম) মহামান্য রাষ্ট্রপতির নজরে এনেছিলাম। আমার ধারনা ছিল রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সেই বি এন পি নেতা কে তলব করে তাঁর ভাইয়ের সাথে ঘুরা – ফেরা না করার জন্য কঠোর হুশিয়ারি দিবেন। কিন্তু না – তার উল্টোটাই শহীদ জিয়া করেছিলেন। রাষ্ট্রপতি সেই বি এন পি নেতাকে কিছুই না বলে আমাকে ( এন এস আই – মহা পরিচালক জনাব এস আবদুল হাকিম) বলেছিলেন , আমি যেন সেই ব্যাংকের উর্ধতন কর্মকর্তা কে তাঁর উদৃতি দিয়ে দ্রুত বলে দিই যে , রাষ্ট্রপতির ভাই কে সেই ব্যাংকের বিদশ শাখায় সত্তর বদলি করে দেয়ার জন্য। মহামান্য রাষ্ট্রপতির হুকুম পালন করার জন্য আমি তাই করেছিলাম। মাত্র দশ দিনের মাথায় রাষ্ট্রপতির ভাই কে বিদেশি শাখায় কাজে যোগদান করতে হয়েছিল।
অনেক উন্নয়নশীল দেশের রাষ্ট্র নায়ক গং নিজ অবস্থান ও ক্ষমতার ধাপট কিম্বা অপব্যাবহার করে ব্যাক্তিগত সস্পদের পাহাড় গড়েছেন এমন দৃষ্টান্ত কারোই অজনা নয়।
যেমন – এদেশেও স্বাধীনতার পরবর্তী সরকার প্রধান শেখ মজিবুর রহমান সহ পরবর্তী তে এরশাদের দৃষ্টান্ত সকলেই জানা। কিন্তু শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়ারউর রহমান ছিলেন সম্পুর্ণ ভিন্ন চরিত্রেরএক মহান মানব। সম্পদের প্রতি তাঁর বিন্দুমাত্র মোহ ছিলনা। এমন কি তাঁর নিজস্ব কোন বাড়ী , জমি কিম্বা ব্যাংকে তেমন কোন নগদ অর্থ ও ছিলনা।
তৎকালীন সময়তে দেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতির শশুর প্রয়াত ইস্কান্দার মীর্জা দিনাজপুরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কমিটির সভাপতি পদ বহন করছিলেন। যা জিয়াউর রহমানের সম্পুর্ন অপছন্দ ছিল। আমাকে ( এন এস আই – ডিজি জনাব এস আবদুল হাকিম কে) বলেছিলেন যে , আমি যেন তাঁর শশুর কে বলেদিই – তিনি যেন দ্রুত দিনাজপুরের বিভিন্ন মসজিদ – মাদ্রাসা কমিটি , স্কুল – কলেজ কমিটি , সহ বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক কমিটির পদ পদাবী থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করে বাসা আর মসজিদে পদবন্ধী হয়ে আল্লাহ্ বিল্লাহ্ কাজে মনোযোগী হন। আমি ( এন এস আই – মহা পরিচালক) দুইদিন পরে দিনাজপুর গিয়ে রাষ্ট্রপতির শশুর মহাশয় কে বিনয়ের সাথে রাষ্ট্রপতির মেসেজটি অবহিত করেছিলাম। কিন্তু তার কোন পরিবর্তন না দেখে রাষ্ট্রপতি আমার ওপর কিঞ্চিৎ ক্ষুব্ধ হয়ে আমার সামনেই নিজে দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক কে টেলিফোনে কড়া বর্তা দিয়ছিলেন – তিনি যেন তাঁর শশুর সাহেব কে সকল সামাজিক প্রতিষ্ঠানের সকল সম্সানিত পদ পদাবি থেকে দ্রুততম সময়ে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ব্যাবস্থা করেন। তার দুই দিনের মাথায় রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শশুর মশাই তাই করেছিলেন।
সম্মানিত পাঠক – পাঠিকা বৃন্দ , – আমি কি আপনাদের নিকট প্রশ্ন রাখতে পারি — এমন রাষ্ট্র নায়ক কি আমাদের দেশে কখনো আসবে? না , আসবে না??
নজরুল ইসলাম চৌধুরী
সাবেক সভাপতি – ফেনী জেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।
সাবেক প্রচার সম্পাদক – ফেনী জেলা বি এন পি।
চলবে।
জনতার আওয়াজ/আ আ