সচেতন শিক্ষার্থীদের কাছে আবেদন: ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করুন - জনতার আওয়াজ
  • আজ বিকাল ৩:৩৬, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

সচেতন শিক্ষার্থীদের কাছে আবেদন: ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৫ ৬:০০ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৫ ৬:০০ অপরাহ্ণ

 

ব‍্যারিস্টার রফিক আহমেদ, লন্ডন

দেশের স্বাধীনতা লাভের পর থেকে আজ পর্যন্ত কয়েক শত ছাত্রের তাজা প্রাণ ঝরেছে। তবুও রাজনৈতিক দলগুলোর নড়াচড়া নেই। তাদের নড়বেই বা কেন? তাদের সন্তানদের কেউ তো প্রাণ দেয়নি। দেশের সকল অভিভাবকরা আজ চরম অসহায়। রাজনৈতিক দলগুলোর স্বার্থপরতা ও অদূরদর্শিতার কারণে ছাত্র রাজনীতির নামে চলছে হানাহানি, বিদ্বেষ ও রক্তপাত। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য আজ আমি দেশের সচেতন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সর্বস্তরের মানুষের কাছে আবেদন জানাচ্ছি—ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করুন।

ছাত্র রাজনীতির বর্তমান পরিস্থিতি

ছাত্র রাজনীতি নামক এই সংস্কৃতি আজ দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো তাদের স্বার্থ চরিতার্থ করতে ছাত্রদের ব্যবহার করছে। ছাত্র সংগঠনগুলোর নামে চলছে সন্ত্রাস, হত্যা ও সহিংসতা। প্রতিবছর ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে রক্ত ঝরছে, কিন্তু এর জন্য কেউ দায়ী হচ্ছে না। রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা তাদের সন্তানদের বিদেশে পাঠিয়ে নিরাপদ জীবন দিচ্ছেন, আর সাধারণ মানুষের সন্তানরা রক্ত দিচ্ছে। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

১৯৯১ সালের প্রস্তাব: একটি অমীমাংসিত ইতিহাস

১৯৯১ সালে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদের পক্ষ থেকে সংসদে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করার প্রস্তাব উঠেছিল। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছাড়া সকল রাজনৈতিক দলই এ প্রস্তাবের পক্ষে ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, এই উদ্যোগটি সফল হয়নি। যদি তখনই ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করা হতো, তাহলে আজ আমরা হাজারো তরুণের প্রাণহানি ও শিক্ষা ব্যবস্থার ধ্বংস দেখতাম না।

ছাত্র রাজনীতির নামে সন্ত্রাস

ছাত্র রাজনীতির নামে আজ ক্যাম্পাসে সন্ত্রাস চলছে। ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছে কে কত বেশি সহিংস হতে পারে। এতে করে সাধারণ ছাত্ররা ভুগছে। তারা নিরাপদে ক্লাস করতে পারছে না, পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছে না। অনেক মেধাবী ছাত্র রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার হয়ে প্রাণ হারাচ্ছে। এটা কোনো সভ্য সমাজের পরিচয় নয়। ছাত্র রাজনীতি বন্ধ না করলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যাবে।

অভিভাবকদের ভূমিকা

দেশের সকল অভিভাবকদের আজ এগিয়ে আসতে হবে। তাদের সন্তানদের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে তারা রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে দাবি জানাবেন—ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করুন। অভিভাবকরা যদি ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই দাবি জানান, তাহলে রাজনৈতিক দলগুলো আর এড়িয়ে যেতে পারবে না। তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করার অধিকার কারো নেই।

শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব

দেশের সকল শিক্ষার্থীদের আজ এগিয়ে আসতে হবে। তাদের বুঝতে হবে, ছাত্র রাজনীতি নামক এই সংস্কৃতি তাদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করছে। তারা যদি আজ ঐক্যবদ্ধ হয়ে ছাত্র রাজনীতি বন্ধের দাবি জানায়, তাহলে কেউ তাদের দাবি উপেক্ষা করতে পারবে না। শিক্ষার্থীদের উচিত তাদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় সোচ্চার হওয়া।

রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা

রাজনৈতিক দলগুলো কখনোই স্বেচ্ছায় ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করবে না। কারণ, ছাত্র রাজনীতি তাদের জন্য একটি সস্তা ও সহজলভ্য হাতিয়ার। তারা ছাত্রদের ব্যবহার করে তাদের রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জন করে। কিন্তু দেশের স্বার্থে, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতিতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তার জন্য ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করা জরুরি। রাজনৈতিক দলগুলো যদি তাদের বিবেককে জাগ্রত করে, তাহলে তারা এই সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

উপসংহার

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তার জন্য ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করা এখন সময়ের দাবি। ১৯৯১ সালের সেই অমীমাংসিত প্রস্তাবকে আজ বাস্তবায়ন করতে হবে। দেশের সকল শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই দাবি জানাতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর স্বার্থপরতা ও অদূরদর্শিতার কারণে আর কত প্রাণ ঝরবে? আর কত তরুণের ভবিষ্যৎ নষ্ট হবে? আজই সময় ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করার। দেশের ভবিষ্যৎ আমাদের হাতে। আসুন, আমরা সবাই মিলে এই অন্ধকারকে জয় করে একটি আলোকিত ভবিষ্যৎ গড়ে তুলি।

ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করুন, দেশের ভবিষ্যৎ রক্ষা করুন।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ