সরকারবিরোধী যুগপৎ আন্দোলন নিয়ে বিএনপির শরিকরা এখনো ধোঁয়াশায়
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
রবিবার, এপ্রিল ৩০, ২০২৩ ২:১১ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
রবিবার, এপ্রিল ৩০, ২০২৩ ২:১১ অপরাহ্ণ

ডেস্ক নিউজ
বিএনপির ১০ দফা, গণতন্ত্র মঞ্চের ১৪ দফা ও জামায়াতের ১০ দফার ভিত্তিতে গত ২৪ ডিসেম্বর থেকে সরকারবিরোধী যুগপৎ আন্দোলন শুরু হয়েছে। ঈদের পর এখন আন্দোলন আরও বেগবান করার পরিকল্পনা করছেন মিত্ররা। শিগগিরই নতুন কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামবেন যুগপতের শরিকরা। কিন্তু আন্দোলনের চার মাসের বেশি পার হলেও এর ভিত্তি হিসেবে এখনো ‘যৌথ ঘোষণাপত্র’ চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি। গত ফেব্রুয়ারিতে যৌথ ঘোষণাপত্রের সাত দফা একটা খসড়া প্রণয়ন করা হলেও তা থেকে এখন বিএনপি অনেকটা সরে এসেছে বলে অভিযোগ গণতন্ত্র মঞ্চের। ফলে এটা চূড়ান্ত করা নিয়ে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে। তা ছাড়া ‘যৌথ ঘোষণাপত্র’ নিয়ে বিএনপিও তাদের অবস্থান স্পষ্ট না করায় যুগপতের অন্য শরিকরাও কার্যত ধোঁয়াশার মধ্যে রয়েছে। তাদের দাবি, বিএনপির ১০ দফাকে মানুষ এরই মধ্যে গ্রহণ করেছে। যুগপতের এই ১০ দফা থাকা সত্ত্বেও গণতন্ত্র মঞ্চের চাপে ‘নতুন দফা’ প্রণয়নে বাধ্য হচ্ছে বিএনপি। শরিকদের অনেকে নতুন করে ‘আলাদা দফা’ প্রণয়নের বিরোধী হলেও এ ব্যাপারে প্রধান শরিক বিএনপির অবস্থান স্পষ্ট চায়। তবে বিএনপির দাবি, যুগপতের ‘যৌথ ঘোষণাপত্র’ নিয়ে মিত্রদের মধ্যে কোনো ভুল বোঝাবুঝি নেই। সবকিছু আলোচনার মধ্যে রয়েছে, খুব তাড়াতাড়ি এটা চূড়ান্ত করা হবে।
এদিকে সরকারবিরোধী চলমান যুগপৎ আন্দোলনের অনৈক্য দূরীকরণ এবং ঐক্য সুসংহত করতে মিত্র সব দলকে নিয়ে ঢাকায় একমঞ্চে ন্যূনতম একটি কর্মসূচি করার প্রস্তাব দিয়েছে শরিক গণফোরাম (মন্টু) ও বাংলাদেশ পিপলস পার্টি (বিপিপি)। গতকাল রাজধানীর গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিএনপির লিয়াজোঁ কমিটির সঙ্গে বৈঠকে এ প্রস্তাবনা দেন দল দুটির নেতারা।
জানতে চাইলে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও যুগপৎ আন্দোলনের লিয়াজোঁ কমিটির সদস্য সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, যুগপতের যৌথ ঘোষণার ব্যাপারে আমরা খুবই তাগিদ অনুভব করছি, শরিক অন্যরাও করছেন। সুতরাং খুব তাড়াতাড়ি এটা চূড়ান্ত করা হবে। এখন যুগপতের বিভিন্ন দল ও জোটের কাছ থেকে অনুমোদন নেওয়া হচ্ছে। কোনো ভাষাগত ত্রুটি কিংবা কোনো সংশোধনী আছে কি না। গণফোরাম ও বাংলাদেশ পিপলস পার্টি (বিপিপি) শনিবার বৈঠকে কিছু পরামর্শ দিয়েছে, সেটাও আমরা নিয়েছি। অন্যদের সঙ্গেও বসা হবে। তারপর আমরা এটা চূড়ান্ত করব, সবার সম্মতিতে সেটা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, সবার সব দফাকে সমন্বয় করে কত দফা যৌথ ঘোষণাপত্র করা যায় সেটা নিয়ে আলোচনা চলছে। সবকিছু আলোচনার মধ্যে আছে, কোনোকিছু এখনো চূড়ান্ত হয়নি। চূড়ান্ত হলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
গত ১০ ডিসেম্বর ঢাকার বিভাগীয় গণসমাবেশ থেকে ১০ দফার ভিত্তিতে যুগপৎ আন্দোলনের ঘোষণা দেয় বিএনপি। ১০ দফা দাবির মধ্যে সরকারের পদত্যাগ ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন ছাড়াও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ সব কালাকানুন বাতিল এবং খালেদা জিয়াসহ দলীয় নেতাকর্মীদের মুক্তির বিষয়টি রয়েছে। পরে রাষ্ট্রের সার্বিক সংস্কারে ১৯ ডিসেম্বর রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ২৭ দফা রূপরেখা ঘোষণা করে দলটি। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা এবং চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ঘোষিত ‘ভিশন-২০৩০’-এর আলোকে ২৭ দফার ওই রূপরেখা প্রস্তুত করা হয়। ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে কী কী করতে চায়, ওই রূপরেখার মধ্যে সেটা স্পষ্ট করেছে বিএনপি। রূপরেখায় তারা সংবিধান সংস্কার কমিশন, জাতীয় সমঝোতা কমিশন, জুডিশিয়াল কমিশন, প্রশাসনিক কমিশন, মিডিয়া কমিশন, অর্থনৈতিক সংস্কার কমিশন করবে বলে ঘোষণা করেছে। এদিকে গত ১০ ডিসেম্বর জামায়াতে ইসলামীও ১০ দফা দাবির ভিত্তিতে দেশব্যাপী যুগপৎ গণআন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানায়। এ ছাড়া বিএনপি ঘোষিত ১০ দফার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে ১২ ডিসেম্বর যুগপৎ আন্দোলনের ১৪ দফা ঘোষণা করে গণতন্ত্র মঞ্চ। সেখানে সরকারের পদত্যাগ, সংসদ বাতিল, সংবিধানের ৭০তম অনুচ্ছেদের সংশোধন করে সরকার গঠনে আস্থা ভোট ও বাজেট পাস ছাড়া অন্যান্য বিষয়ে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার ক্ষমতা রাখাসহ বেশ কিছু দাবি রয়েছে। পরে গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য ১৩ দফা এবং গণফোরাম (মন্টু) ও বাংলাদেশ পিপলস পার্টি যৌথভাবে ৭ দফার ভিত্তিতে যুগপৎ আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়। বর্তমানে ৩৮টি রাজনৈতিক দল সরকারবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে যুক্ত রয়েছে। এদের মধ্যে ৩৩টি দল গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২ দলীয় জোট, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট ও গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য—এই চারটি জোটে বিভক্ত হয়ে আন্দোলন করছে। আর বিএনপি, জামায়াত, এলডিপি পৃথকভাবে এবং গণফোরাম ও বিপিপি যৌথভাবে যুগপতে রয়েছে।
জানা যায়, যুগপৎ আন্দোলনের অভিন্ন দফা প্রণয়নে গত জানুয়ারি মাসের প্রথমদিকে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এবং গণতন্ত্র মঞ্চের জোনায়েদ সাকি ও হাসনাত কাইয়ুমকে নিয়ে একটি ‘ড্রাফট কমিটি’ গঠন করা হয়। তারা একাধিক বৈঠক করে অভিন্ন রূপরেখার ৭ দফা খসড়া প্রণয়ন করেন। এরপর প্রয়োজনীয় মতামত নিতে গণতন্ত্র মঞ্চের কাছে তা হস্তান্তর করে বিএনপি। গণতন্ত্র মঞ্চ ওই খসড়া রূপরেখার সঙ্গে ঐকমত্য পোষণ করে। এরপর ২৩ ফেব্রুয়ারি বিএনপির সঙ্গে বৈঠকে যৌথ ঘোষণার সাত দফা খসড়া রূপরেখা হস্তান্তর করে গণতন্ত্র মঞ্চ।
পরদিন ২৪ ফেব্রুয়ারি ১২ দলীয় জোট ও জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের সঙ্গে একত্রে বৈঠক করে বিএনপি। সেখানে জোটের পক্ষ থেকে কয়েকজন নেতা ৭ দফা যৌথ রূপরেখার বিষয়টি উত্থাপন করে বলেন, গণমাধ্যমে খবর এসেছে—বিএনপি ও গণতন্ত্র মঞ্চ মিলে যুগপৎ আন্দোলনের যৌথ ঘোষণাপত্রের ৭ দফা খসড়া প্রণয়ন করেছে। কিন্তু এ বিষয়ে আমরা শরিকরা কিছুই জানি না। বিষয়টি আপনারা (বিএনপি) পরিষ্কার করেন। তখন বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়, এটি গণতন্ত্র মঞ্চের প্রস্তাব। আমরা এখনো তাতে সম্মত হয়নি। যখন বিষয়টি এগোবে তখন আপনাদের মতামতও নেওয়া হবে।
জানতে চাইলে ১২ দলীয় জোটের সমন্বয়ক জাতীয় পার্টির (জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার গতকাল বলেন, যুগপৎ আন্দোলনের যৌথ ঘোষণাপত্র প্রণয়ন করা হচ্ছে। এটা নিয়ে আমাদের কিছু প্রশ্ন আছে, কিছু ফাইন্ডিংস আছে। দ্রুতই বিএনপির সঙ্গে ১২ দলীয় জোটের বৈঠক আছে। সেখানে এ ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
গণতন্ত্র মঞ্চের দুজন নেতা বলেন, বিএনপির ১০ দফার মধ্যে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার, রাজবন্দিদের মুক্তিসহ ইমিডিয়েট দাবি আছে। আর ২৭ দফার মধ্যে রাষ্ট্রব্যবস্থা সংস্কারের প্রস্তাবনা আছে। অন্যদিকে গণতন্ত্র মঞ্চের ১৪ দফার মধ্যে দুটোই আছে। ওই দুটোর কম্বিনেশন হলো ১৪ দফা। এর মধ্যে বিএনপির রাষ্ট্র মেরামতের ২৭ দফা রূপরেখা এবং গণতন্ত্র মঞ্চের ১৪ দফার সারাংশ নিয়ে যৌথ ঘোষণাপত্রের ৭ দফা খসড়া তৈরি করা হয়েছিল। এখানে ইমিডিয়েট আন্দোলনের দাবিও রয়েছে, আবার রাষ্ট্রের সংস্কারের প্রস্তাবনাও রয়েছে। দফা সাতটা হলেও এটার মধ্যে বাস্তবে ১৮-২০টি দফা রয়েছে। বিভিন্ন উপদফা দিয়ে এটাকে ৭ দফার মধ্যে আনা হয়েছে।
তারা বলেন, মনে হচ্ছে—৭ দফা থেকে বিএনপি এখন কিছুটা সরে এসেছে। তারা এখন ১০ দফা ও ২৭ দফাকে বহাল রেখে ২৭ দফা রূপরেখার ভিত্তিতে কিছু করা যায় কি না, সে রকম চিন্তাভাবনা করছে। যদিও বিষয়টি গণতন্ত্র মঞ্চের কাছে স্পষ্ট নয়, কিন্তু বিএনপির টোনটা তেমনই। আশা করছি, বিএনপির সঙ্গে পরবর্তী বৈঠকে ব্যাপারটা পরিষ্কার হবে। তবে এটা নিয়ে যে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
মঞ্চের ওই দুই নেতা দাবি করেন, বিএনপির ওই প্রস্তাবনার ব্যাপারে গণতন্ত্র মঞ্চের তেমন সম্মতি নেই। কারণ, ২৭ দফার মধ্যে ইমিডিয়েট আন্দোলনের দাবি নেই। আমাদের প্রস্তাবনা হচ্ছে, ৭ দফা যে খসড়া ঘোষণাপত্র তৈরি করা হয়েছে, সেটাকে ভিত্তি হিসেবে ধরতে হবে। দরকার হলে সেটা ৮, ৯, ১১, ১২, ১৩, ১৪ দফা হতে পারে।
জানা গেছে, বিএনপির অবস্থান হচ্ছে—নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনে বিজয়ী হলে আন্দোলনরত সবাইকে নিয়ে জাতীয় সরকার গঠন করবে। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সেই জাতীয় সরকার রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তরে কাজ করবে, যা দলটি ২৭ দফা রূপরেখায় স্পষ্ট করেছে। এজন্য তারা একাধিক কমিশন গঠন করবে। অন্যদিকে গণতন্ত্র মঞ্চের কথা হচ্ছে, নির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করতে হবে। যারা উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে একটি অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন করবে। পাশাপাশি দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কী কী বিষয়ে সংস্কার করতে হবে, সে বিষয়েও ঐকমত্য তৈরি করবে। অর্থাৎ নির্বাচিত হয়ে এসে তারা (নির্বাচিত সরকার) যাতে এটা করতে বাধ্য থাকে সেই পরিস্থিতি তৈরি করা। গণতন্ত্র মঞ্চের একজন নেতা জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের কাজ হবে দুটি। একটি হচ্ছে নির্বাচন, অন্যটি হচ্ছে সংবিধান সংস্কারের বাধ্যবাধকতা তৈরি করা।
তবে নির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ইস্যুতে প্রথমে অনড় থাকলেও দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে সেখান থেকে আপাতত সরে এসেছে গণতন্ত্র মঞ্চ। বিএনপি ও গণতন্ত্র মঞ্চের একাধিক নেতা জানান, সরকারের পদত্যাগ এবং নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে বিএনপি ও গণতন্ত্র মঞ্চের মধ্যে এখন মতপার্থক্য নেই। তবে সংবিধানের ৭০তম অনুচ্ছেদের সংস্কার; রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য; সংসদ, নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার মতো কিছু বিষয়ে দুপক্ষ আলোচনা করছে।
জানা গেছে, ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে বিএনপি বলেছে, এ নিয়ে কী করা যাবে তা জাতীয় সরকার এসে সিদ্ধান্ত নেবে। কিন্তু গণতন্ত্র মঞ্চ বলছে, অনাস্থা ও বাজেট ছাড়া বাকি যা আছে তা সদস্যদের নিজস্ব মতামতে চলবে। এই দুটি বিষয়ে দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সদস্যরা ভোটে দেবেন এবং এটা এখন ঘোষণা দিতে হবে। পরে বিএনপি চারটি বিষয় সামনে নিয়ে আসে। সেগুলো হচ্ছে—অনাস্থা, বাজেট, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও সংবিধান সংশোধন। এই চারটি বিষয়ে পার্টির সিদ্ধান্তে সদস্যরা ভোট দেবেন, বাকিগুলো সদস্যদের নিজস্ব মতে চলবে। এগুলো নিয়ে বার্গিনিং হয়েছে, তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এ ছাড়া বিএনপি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য আনয়নের কথা বললেও কার কতটুকু ক্ষমতা থাকবে—গণতন্ত্র মঞ্চের সঙ্গে আলোচনায় সে বিষয়টিও বেশিদূর এগোয়নি।
এদিকে গণতন্ত্র মঞ্চের সঙ্গে লিয়াজোঁর দায়িত্বে থাকা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু অসুস্থ হয়ে বিদেশে চিকিৎসাধীন থাকায় দীর্ঘদিন মঞ্চের সঙ্গে দলটির বৈঠক হয়নি। পরবর্তীতে টুকুর অনুপস্থিতিতে যুগপতের কর্মসূচি প্রণয়ন ও যৌথ ঘোষণাপত্র প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় গতি সঞ্চারে গণতন্ত্র মঞ্চের সঙ্গে সমন্বয় করতে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব দেয় বিএনপি। এরপর গত ১৩ এপ্রিল বিএনপি ও গণতন্ত্র মঞ্চের লিয়াজোঁ কমিটির মধ্যে বৈঠক হয়। আমীর খসরু দায়িত্ব নেওয়ার পর সেটি ছিল মূলত সৌজন্য বৈঠক। তা ছাড়া বৈঠক স্বল্প সময়ের হওয়ায় তেমন কোনো আলোচনাও হয়নি।
জানা গেছে, গত ১৭ এপ্রিল অনুষ্ঠিত বিএনপির স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল বৈঠকে দ্রুততম সময়ে যুগপৎ আন্দোলনের ‘যৌথ ঘোষণাপত্র’ প্রণয়ন ছাড়াও গণতন্ত্র মঞ্চের সঙ্গে অমীমাংসিত যেসব ইস্যু রয়েছে তা-ও দ্রুত সমাধান করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ লক্ষ্যে গণতন্ত্র মঞ্চের সঙ্গে সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা বিএনপির লিয়াজোঁ কমিটিকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্র মঞ্চের সঙ্গে বিএনপির পরবর্তী বৈঠকের মধ্য দিয়ে ‘যৌথ ঘোষণাপত্র’ প্রণয়নের বিষয়টিতে গতি সঞ্চার হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা।
জানতে চাইলে গণতন্ত্র মঞ্চের লিয়াজোঁ কমিটির সদস্য ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, যৌথ ঘোষণাপত্র নিয়ে গণতন্ত্র মঞ্চের লিয়াজোঁ কমিটি কাজ করছে। চেষ্টা করছি, মে মাসের মাঝামাঝি নাগাদ যাতে এটি চূড়ান্ত করা যায়। আমাদের প্রত্যাশা ছিল, ঈদের পরে ৭ দিনের মধ্যে সেটা করতে পারব। কিন্তু সেটা হয়তো সম্ভব হবে না। আগামীকাল (রোববার) গণতন্ত্র মঞ্চের মিটিং এবং ২ মে বিএনপির সঙ্গে গণতন্ত্র মঞ্চের সম্ভাব্য মিটিংয়ের তারিখ নির্ধারিত আছে। এরপর আমরা নির্দিষ্টভাবে বুঝতে পারব, কবে নাগাদ এটাকে চূড়ান্ত করতে পারছি। অবশ্য এরই মধ্যে আমরা অনেক বিলম্ব করেছি। আর যাতে বিলম্ব না হয়, সে ব্যাপারে আমরা সচেষ্ট রয়েছি।
এদিকে যুগপৎ আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি ও ‘যৌথ ঘোষণাপত্র’ প্রণয়ন নিয়ে আজ রোববার গণতান্ত্রিক বাম ঐক্যের সঙ্গে বিএনপির লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া স্বল্প সময়ের মধ্যে ১২ দলীয় জোট ও জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের সঙ্গেও বৈঠক করবে বিএনপি।
জনতার আওয়াজ/আ আ