দুর্নীতিতে ‘জিরো টলারেন্স’, কাউকে ছাড় নয়: সমাজকল্যাণমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
রবিবার, জুলাই ৫, ২০২৬ ২:৪০ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
রবিবার, জুলাই ৫, ২০২৬ ২:৪০ পূর্বাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবিঃ সংগৃহীত
সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেছেন, দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত কাউকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।
শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে রংপুর জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের মিলনায়তনে বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের জবাবদিহিতা জনগণ ও সংসদের কাছে। প্রধানমন্ত্রীসহ আমাদের সরকার দুর্নীতির ব্যাপারে জিরো টলারেন্স। কোনো পার্সেন্টেজ-টার্সেন্টেজ নেই। দুর্নীতি করলে কাউকে ক্ষমা করা হবে না।’
তিনি বলেন, বিগত সময়ের দুর্নীতির বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকার কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। সিপিডির দেওয়া একটি প্রতিবেদন নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো কাজ করছে। একই সঙ্গে দুর্নীতি শনাক্তে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা কেউ কোনো ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত হব না। কারণ দিন শেষে আমাকে ভোটারের কাছে ভোট চাইতে যেতে হবে।’
রংপুর বিভাগ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতোই সমান সহযোগিতা পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, রংপুর শুধু বর্তমান বরাদ্দই নয়, অতীতের বকেয়া উন্নয়নও পাওয়ার চেষ্টা করা হবে।
ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি জানান, একযোগে দেশের ৩০০ সংসদীয় আসনে এ কর্মসূচি চালু হবে। প্রশিক্ষিত কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন এবং তা কম্পিউটারে সংরক্ষণ করবেন। এরপর স্বয়ংক্রিয় স্কোরিং পদ্ধতিতে নির্ধারণ করা হবে কারা উপকারভোগী হবেন।
মন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড সবার জন্য তৈরি করা হবে, তবে আর্থিক সুবিধা পাবেন নির্ধারিত মানদণ্ডে যোগ্য হিসেবে নির্বাচিত ব্যক্তিরা। আগামী ১০ থেকে ১২ সপ্তাহের মধ্যে দেশের সব উপজেলায় এ কার্যক্রম চালুর লক্ষ্য রয়েছে।
ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন ভাতা ও আর্থিক সহায়তা এখন সরাসরি উপকারভোগীদের ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় দেওয়া আর্থিক সহায়তাও একই পদ্ধতিতে বিতরণ করা হবে। এতে মধ্যস্বত্বভোগীদের সুযোগ কমেছে এবং উপকারভোগীরা সরাসরি সুবিধা পাচ্ছেন।
মন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে প্রায় ৪৫ লাখ নিবন্ধিত প্রতিবন্ধী রয়েছেন। তাদের সেবায় ৪৫টি মোবাইল থেরাপি ইউনিট কাজ করছে। ভবিষ্যতে এ কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করা হবে। পাশাপাশি প্রতিটি জেলায় একটি করে মানসম্মত প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় এবং প্রতিটি উপজেলায় অন্তত একটি করে প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে।
দারিদ্র্য বিমোচনে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সেলাই, কম্পিউটার, প্লাম্বিং, মোবাইল মেরামত এবং হাঁস-মুরগি পালনসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণ শেষে কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বিতরণ এবং উদ্যোক্তা তৈরিতে বিনা সুদে ঋণ দেওয়া হচ্ছে।
গণতন্ত্র ও জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহি প্রসঙ্গে সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন গ্রহণযোগ্য নির্বাচন না হওয়ায় জনপ্রতিনিধিদের জনগণের প্রতি জবাবদিহির সংস্কৃতি দুর্বল হয়ে পড়েছিল। গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে ভোটাধিকার নিশ্চিতের পাশাপাশি নির্বাচিত প্রতিনিধিদের জনগণের কাছে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
মতবিনিময় সভায় সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য রেজেকা সুলতানা ফেন্সি, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন-নবী ডন, জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুবসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরে সমাজকল্যাণমন্ত্রী লালমনিরহাটে ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ কর্মসূচির অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
জনতার আওয়াজ/আ আ